বিমানের নির্মাতা বোয়িংয়ের ৭৮৭-৮ ড্রিমলাইনার মডেলটি চালুর পর থেকেই নানা প্রযুক্তিগত সমস্যায় জর্জরিত হয়েছে। ২০২৪ সালের গোড়াতেই সংস্থার ইঞ্জিনিয়র ও হুইসেলব্লোয়ার স্যাম সালেহপুর গুরুতর অভিযোগ তোলেন।

ফাইল ছবি
শেষ আপডেট: 15 June 2025 12:18
দ্য ওয়াল ব্যুরো: ভারতের সাম্প্রতিক কালের সবচেয়ে ভয়াবহ বিমান দুর্ঘটনার সাক্ষী থাকল আমদাবাদ। ১২ জুন সকালে লন্ডনের উদ্দেশে রওনা হওয়া এয়ার ইন্ডিয়ার বোয়িং ৭৮৭-৮ ড্রিমলাইনার ওড়ার পর মুহূর্তেই ভেঙে পড়ে মেঘানীনগর এলাকায়। স্থানীয় বিজে মেডিক্যাল কলেজের হস্টেলে ঢুকে পড়ে সোজা। বিমানে উপস্থিত ২৪২ জনের মধ্যে ২৪১ জনেরই মৃত্যু হয়। প্রাণ হারান ওই মেডিক্যাল কলেজের কয়েকজন পড়ুয়া ও স্থানীয়রা।
ভারতের অসামরিক বিমান পরিবহণ নিয়ন্ত্রক সংস্থা ডিজিসিএ জানিয়েছে, উড়ানের কয়েক সেকেন্ড পরই পাইলট ‘মে ডে’ (Mayday) বার্তা পাঠান। আন্তর্জাতিক উড়ান জগতে এটি একটি জরুরি সংকেত, যা মারাত্মক বিপর্যয় বা অবিলম্বে সহায়তার প্রয়োজনে পাঠানো হয়। মে ডে পাঠানোর পরই বিমানের সঙ্গে এয়ার ট্র্যাফিক কন্ট্রোলের যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে যায়।
এই দুর্ঘটনার প্রেক্ষিতে ধস নেমেছে বোয়িং সংস্থার শেয়ারে। ১২ জুন, ঘটনার দিনই মার্কিন এই বিমান নির্মাতা সংস্থার শেয়ারের দর অনেকটাই পড়ে যায়। কারণ, দুর্ঘটনার শিকার হওয়া বিমানটি বোয়িংয়ের ৭৮৭-৮ ড্রিমলাইনার মডেল, যা নিয়ে বহু বছর ধরেই নানা বিতর্ক চলছে। রক্ষণাবেক্ষণ-সহ একাধিক জিনিস বিষয় নিয়ে প্রশ্নও উঠছে। তথ্য বলছে, বিশ্বে এপর্যন্ত যতগুলি বিমান দুর্ঘটনা হয়েছে, তার বেশিরভাগই বোয়িংয়ের।
ভারতে কোন কোন সংস্থা বোয়িং চালায়?
২০১২ সালের অক্টোবর মাসে, বোয়িংয়ের দক্ষিণ ক্যারোলিনা প্ল্যান্ট থেকে তৈরি হওয়া প্রথম 'ড্রিমলাইনার' এয়ার ইন্ডিয়ার হাতে আসে। বর্তমানে এই সংস্থার কাছে একাধিক ৭৮৭-৮ ড্রিমলাইনার রয়েছে, যা তারা লন্ডন, উত্তর আমেরিকা ও মধ্যপ্রাচ্যের দীর্ঘ দূরত্বের আন্তর্জাতিক রুটে ব্যবহার করে।
এয়ার ইন্ডিয়ার কাছে বোয়িং ৭৮৭-৮ ছাড়াও ৭৮৭-৭, ৭৮৭-৯, ৭৭৭-২০০এলআর, ও ৭৭৭-৩০০ইআর মডেলও রয়েছে। এই সংস্থা শুধু বোয়িং বিমান চালায় তা নয়, এয়ারবাসও চালিয়ে থাকে। এ৩১৯, এ৩২০, এ৩২০নিও, এ৩২১, এ৩২১নিও এবং ভারতের প্রথম এ৩৫০-৯০০ বিমানটি রয়েছে তালিকায়।
স্পাইসজেটও বোয়িং চালায়। বর্তমানে বোয়িং ও Q-400 রয়েছে তাদের ঝুলিতে। এছাড়াও বোয়িং ৭৩৭-৭০০, ৭৩৭-৮০০ এবং ৭৩৭-৯০০ইআর মডেলের বিমান তারা চালায়। যেগুলো সাধারণত স্বল্প ও মাঝারি দূরত্বের যাত্রাপথে ব্যবহৃত হয়। অন্যদিকে Q-400 বিমানগুলি মূলত একদম ছোট রুটের জন্য।
মুম্বই ভিত্তিক নতুন বিমান সংস্থা আকাসা এয়ার, মাত্র তিন বছর আগে চালু হয়েছে। তারাও বোয়িং চালায়। বর্তমানে তাদের ২৯টি বোয়িং ৭৩৭ ম্যাক্স বিমান রয়েছে। আরও অনেক বোয়িং বিমান আমদানি হওয়ার অপেক্ষায় আছে এই সংস্থা।
এয়ার ইন্ডিয়া এক্সপ্রেস বর্তমানে ১১০টিরও বেশি বিমান চালায়। যার মধ্যে বোয়িং ও এয়ারবাস দুই-ই রয়েছে।
ইন্ডিগো সংস্থার কাছে বর্তমানে রয়েছে এয়ারবাস A320 CEO ও NEO, A321 NEO এবং ATR 72-600 বিমান। তবে বহুদিন ধরে এয়ারবাসের উপর নির্ভরশীল এই সংস্থা সম্প্রতি জানিয়েছে, তারা ভবিষ্যতে আরও বোয়িং বিমান যুক্ত করতে চলেছে।
ড্রিমলাইনার বিতর্ক ও অভিযোগ
বিমানের নির্মাতা বোয়িংয়ের ৭৮৭-৮ ড্রিমলাইনার মডেলটি চালুর পর থেকেই নানা প্রযুক্তিগত সমস্যায় জর্জরিত হয়েছে। ২০২৪ সালের গোড়াতেই সংস্থার ইঞ্জিনিয়র ও হুইসেলব্লোয়ার স্যাম সালেহপুর গুরুতর অভিযোগ তোলেন। নিউ ইয়র্ক টাইমস ও সিএনএনকে সাক্ষাৎকারে তিনি জানান, ৭৭৭ ও ৭৮৭ সিরিজের বিমানের উৎপাদনে নিরাপত্তার সঙ্গে আপোস করে দ্রুত উৎপাদন চালানোর চেষ্টা হয়েছে। তাঁর দাবি ছিল, এ ধরনের ত্রুটি ভবিষ্যতে বিমানের বয়স বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে বিপর্যয় ডেকে আনতে পারে।
আমদাবাদের দুর্ঘটনায় ৭৮৭-৮ ড্রিমলাইনার বিমানের ক্ষেত্রে তাহলে সেই আশঙ্কাই সত্যি হল? উঠছে প্রশ্ন।