অভিযোগ, সব নির্দেশ আসত সরাসরি ধর্মস্থলা মন্দিরের ‘ইনফরমেশন সেন্টার’ থেকে, স্থানীয় সরকার বা পঞ্চায়েতকে সম্পূর্ণ পাশ কাটিয়ে।

ঘটনাস্থলের ছবি
শেষ আপডেট: 14 August 2025 15:25
দ্য ওয়াল ব্যুরো: ধর্মস্থলার বহুল আলোচিত ‘গণকবর’ কাণ্ডে প্রথমবারের মতো সিটের (SIT) বাইরে কোনও মিডিয়ার সঙ্গে মুখ খুললেন ওই প্রাক্তন স্যানিটেশন কর্মী। ভারতীয় সংবাদমাধ্যম ‘ইন্ডিয়া টুডে’ (India Today)-কে দেওয়া এক্সক্লুসিভ সাক্ষাৎকারে তিনি দাবি করেছেন, তিনি ও তাঁর দল মিলে বছরের পর বছর ধরে অচেনা-অজানা বহু মৃতদেহ গোপনে মাটিচাপা দিয়েছেন - কোনও সরকারি তদারকি বা নথি ছাড়াই।
তাঁর অভিযোগ, এই সংক্রান্ত সব নির্দেশ আসত সরাসরি ধর্মস্থলা মন্দিরের ‘ইনফরমেশন সেন্টার’ থেকে, স্থানীয় সরকার বা গ্রাম পঞ্চায়েতকে সম্পূর্ণ পাশ কাটিয়ে। “আমরা কোনওদিন পঞ্চায়েত থেকে নির্দেশ পাইনি। সবসময় মন্দিরের ইনফরমেশন সেন্টার থেকেই বলা হত কী করতে হবে,” তিনি বলেন।
তিনি জানান, তাঁর সঙ্গে দলে ছিলেন আরও চারজন। মৃতদেহ কখনও কবরস্থানে যায়নি – বরং মাটিচাপা দেওয়া হয়েছে কখনও জঙ্গলের ভিতর, পুরনো রাস্তার পাশে, এমনকী নদীর ধারে।
তিনি বলেন, “এক মহিলার দেহ আমরা বাহুবলী পাহাড়ে কবর দিই। নেত্রাবতী ঘাটে প্রায় ৭০টা দেহ রয়েছে।” এর মধ্যেই সবচেয়ে ভয়াবহ ছিল ‘স্পট ১৩’। তাঁর দাবি, ৭০–৮০টি দেহ চাপা দেওয়া হয়েছিল। কখনও স্থানীয় মানুষ ঘটনাটা দেখেছেন, কিন্তু কিছুই বলেননি। তিনি এও বলেন, “লোকজন দেখত, কিন্তু পাত্তা দিত না। আমাদের কাজ ছিল নির্দেশ মেনে লাশ চাপা দেওয়া।”
প্রাক্তন ওই স্যানিটেশন কর্মীর দাবি, বহু দেহে স্পষ্ট হিংস্রতার চিহ্ন ছিল, এবং সম্ভবত যৌন হেনস্থারও। তাঁর বক্তব্য, “কিছু দেহে এমন দাগ ছিল, দেখে মনে হত হেনস্থা করা হয়েছে।’’
তবে তিনি জানান, নিশ্চিত করে বলার ক্ষমতা কেবল মেডিক্যাল বিশেষজ্ঞদেরই আছে।
তিনি বলেন, ১০০টির মধ্যে প্রায় ৯০টি দেহ ছিল নারীর, বাকি ছিল শিশু ও বৃদ্ধ। তাঁর অভিযোগ, সময়ের সঙ্গে অনেক চাপা দেওয়ার জায়গা হারিয়ে গেছে - মাটির ক্ষয়, জঙ্গল বেড়ে ওঠা বা নির্মাণকাজের কারণে। SIT এখন পর্যন্ত তাঁর চিহ্নিত ১৩টি জায়গা থেকে আংশিক কঙ্কাল উদ্ধার করেছে, যার একটি পুরুষের।
সংখ্যাটা এত হলে এখনও পর্যন্ত কম দেহ উদ্ধার হল কেন? তাঁর কথা, “মানুষ যা খুশি বলুক, আমরা যেটা করেছি সেটা সত্যি বলছি।”
তিনি SIT-এর প্রতি আস্থা রেখেও ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, “আমি বিশ্বাস করি SIT-কে, কিন্তু তারা আমাকে বিশ্বাস করে না মনে হয়। আমি মনে করে জায়গা দেখাচ্ছি, কিন্তু এত বছরে মাটি বদলে গেছে। আরও বড় পরিসরে খুঁড়তে হবে।” তাঁর দাবি, এখনও অন্তত চার-পাঁচটি জায়গায় খোঁজ বাকি আছে, যার মধ্যে রয়েছে ‘স্পট ১৩’।
কথা প্রসঙ্গে উঠে আসে ২০১২ সালে ১৭ বছরের সৌজন্যার হত্যাকাণ্ড। তিনি জানান, “সেদিন রাতে আমি ছুটিতে ছিলাম। পরদিন দেখি মেয়েটির লাশ।” মৃতদেহ থেকে গয়না চুরির অভিযোগ বা মন্দিরকে কালিমালিপ্ত করার কোনও উদ্দেশ্য তাঁর ছিল না। “আমি হিন্দু, তপশিলি জাতির মানুষ। যদি চুরি করে খেতে হত, তবে মন্দিরে সেবা করতাম না,” বলেন তিনি।
এই ‘গণকবর’ কাণ্ড প্রকাশ্যে আসে জুলাই মাসে, যখন ওই প্রাক্তন কর্মী অভিযোগ করেন, ১৯৯৫ থেকে ২০১৪ সালের মধ্যে মন্দিরের নির্দেশে ১০০-রও বেশি দেহ গোপনে চাপা দেওয়া হয়, অধিকাংশই নারী ও অল্পবয়সি। SIT এখন পর্যন্ত ১৩–১৫টি সন্দেহভাজন স্থানে খোঁড়াখুঁড়ি করেছে, যেগুলো সময়ের সঙ্গে পরিবর্তিত হয়েছে।