ঘটনাস্থলে উপস্থিত ফরেনসিক চিকিৎসক প্রাথমিক পরীক্ষার পর জানিয়েছেন, উদ্ধার হওয়া হাড় একটি পুরুষের। তবে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত জানা যাবে ফরেনসিক পরীক্ষার পরই।

ছবি - সংগৃহীত
শেষ আপডেট: 31 July 2025 17:56
দ্য ওয়াল ব্যুরো: আজ, ৩১ জুলাই ধর্মস্থলার (Dharmasthala mass burial) ৬ নম্বর জায়গা থেকে অবশেষে এক ব্যক্তির আংশিক কঙ্কাল (skeletal remains found) উদ্ধার করল স্পেশাল ইনভেস্টিগেশন টিম (SIT)। ৫০ বছর বয়সি এক প্রাক্তন সাফাইকর্মীর অভিযোগের ভিত্তিতে গঠিত হয়েছিল ওই বিশেষ দল। ইতিমধ্যেই ১৩টি সন্দেহজনক সমাধিক্ষেত্র চিহ্নিত করেছেন ওই অভিযোগকারী।
SIT-এর তদন্তকারীরা জানিয়েছেন, এই চিহ্নিত ৬ নম্বর জায়গা থেকে প্রায় ১৫টি হাড় পাওয়া গিয়েছে। তবে মাথার খুলি পাওয়া যায়নি। কিছু হাড় ভাঙা অবস্থায় ছিল বলেও তাঁরা জানিয়েছেন।
ঘটনাস্থলে উপস্থিত ফরেনসিক চিকিৎসক প্রাথমিক পরীক্ষার পর জানিয়েছেন, উদ্ধার হওয়া হাড় একটি পুরুষের। তবে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত জানা যাবে ফরেনসিক পরীক্ষার পরই।
ফরেনসিক বিশেষজ্ঞ ও সিন-অফ-ক্রাইম আধিকারিকরা হাড়গুলি বাজেয়াপ্ত করেছেন। প্রতিটি দেহাংশ ঠিক কোথা থেকে, কী অবস্থায় পাওয়া গেছে - সেই তথ্য নথিভুক্ত করা হয়েছে। ঘটনার সময় পুত্তুর সাব-ডিভিশনের সহকারী কমিশনার স্টেলা ভার্গিস-ও উপস্থিত ছিলেন।
অভিযোগকারী ওই প্রাক্তন সাফাইকর্মী দাবি করেছেন, ১৯৯৫ থেকে ২০১৪ সালের মধ্যে ধর্মস্থলায় ১০০-রও বেশি দেহ অবৈধভাবে কবর দেওয়া হয়েছিল। ২৮ জুলাই SIT তাকে নিয়ে যায় ধর্মস্থলার স্নানঘাটে, যেখানে তিনি ১৩টি সন্দেহজনক সমাধি স্থানের কথা জানান।
৩১ জুলাই সকাল থেকে নেত্রাবতী নদীর ধারে, একটি জঙ্গলঘেরা এলাকায় চিহ্নিত ৬ নম্বর জায়গায় খোঁড়ার কাজ শুরু হয়। ৩০ জুলাই পর্যন্ত প্রথম পাঁচটি জায়গা থেকে কোনও মানবদেহের চিহ্ন পাওয়া যায়নি।
প্রথম খননের সময় একটি রু-পে ডেবিট কার্ড (মহিলার নামে) ও একটি PAN কার্ড (পুরুষের নামে) পাওয়া গিয়েছিল। তদন্তকারীরা PAN কার্ডধারী ব্যক্তির পরিবারের সন্ধান পেয়েছেন।
জানা গেছে, বেঙ্গালুরু রুরাল জেলার নেলামঙ্গলা তালুকের বাসিন্দা সুরেশ নামের ওই ব্যক্তি মার্চ ২০২৫-এ জন্ডিসে মারা যান এবং তার সৎকার হয় নিজের গ্রামেই। SIT তার বাড়িতে গিয়ে মৃতের বাবার সঙ্গে কথা বলে বিষয়টি নিশ্চিত করেছে। সুরেশ মদ্যপান করতেন বলে জানিয়েছে SIT। অনুমান, মৃত্যুর আগে কোনও এক সময়ে ধর্মস্থলায় এসে PAN কার্ডটি হারিয়ে ফেলেছিলেন তিনি।
তবে রু-পে কার্ডটি যে নারীর নামে, তার সম্পর্কে এখনও বিশদ তথ্য পাওয়া যায়নি। এক আধিকারিক জানিয়েছেন, ‘‘ব্যাঙ্ক থেকে এখনও তাঁর তথ্য পাওয়া যায়নি। তাঁর অবস্থানও যাচাই করে দেখা হচ্ছে।’’