২০০০ থেকে ২০১৫ সালের মধ্যে বেলথাঙ্গডি থানার ‘অস্বাভাবিক মৃত্যু রেজিস্টার’-এর (UDR) যাবতীয় এন্ট্রি মুছে ফেলা হয়েছে! এই সময়কালের মধ্যেই ধর্মস্থলায় একের পর এক সন্দেহজনক মৃত্যু ও অজানা দেহ কবর দেওয়ার অভিযোগ উঠেছিল।

পুলিশের রেকর্ড থেকে গায়েব ২০০০ থেকে ২০১৫ সালের এফআইআর, পোস্টমর্টেম রিপোর্ট, ছবি
শেষ আপডেট: 3 August 2025 16:18
দ্য ওয়াল ব্যুরো: ধর্মস্থলা গণকবর কাণ্ড (mass burial case) ঘিরে ফের তীব্র চাঞ্চল্য ছড়াল কর্নাটকের (Karnataka) বেলথাঙ্গডিতে। তথ্য জানার অধিকার আইনে (RTI) চাওয়া নথিপত্র থেকে উঠে এল বিস্ময়কর তথ্য। ২০০০ থেকে ২০১৫ সালের মধ্যে বেলথাঙ্গডি থানার ‘অস্বাভাবিক মৃত্যু রেজিস্টার’-এর (UDR) যাবতীয় এন্ট্রি মুছে ফেলা হয়েছে! এই সময়কালের মধ্যেই ধর্মস্থলায় একের পর এক সন্দেহজনক মৃত্যু ও অজানা দেহ কবর দেওয়ার অভিযোগ উঠেছিল।
আরটিআই (RTI) কর্মী জয়ন্ত, যিনি দীর্ঘদিন ধরেই পুলিশের কর্মকাণ্ড নিয়ে তথ্য সংগ্রহ করে আসছেন, তিনি এবার বিশেষ তদন্তকারী দলের (SIT) কাছে লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন। তাঁর দাবি, নিজের চোখে এক কিশোরীর দেহ বেআইনিভাবে কবর দেওয়ার দৃশ্য দেখেছেন। কর্মীর কথায়, "যেদিন ওই মেয়েটির দেহ পাওয়া গিয়েছিল, তখন কোনও আইনগত প্রক্রিয়া মানা হয়নি। কুকুরকে যেভাবে মাটি চাপা দেওয়া হয়, সেভাবেই ওই দেহ চাপা দেওয়া হয়েছিল। সেই দৃশ্য আমাকে তাড়া করে বেড়াচ্ছে।"
জয়ন্তবাবুর অভিযোগ, ঘটনাস্থলে একাধিক পুলিশ আধিকারিক উপস্থিত ছিলেন এবং তাদের নাম তিনি বিশেষ তদন্তকারী দলকে জমা দেওয়া অভিযোগপত্রে উল্লেখ করেছেন। তাঁর দাবি, দীর্ঘদিন ধরেই তিনি বলছিলেন, "যেদিন প্রকৃত তদন্ত শুরু হবে, সেদিন আমি সব বলব। আজ সেই সময় এসেছে। আমি কারও চাপে বা ইন্ধনে এই অভিযোগ করছি না।"
জয়ন্তবাবু আরও জানান, তিনি বেলথাঙ্গডি থানায় নিখোঁজ ব্যক্তিদের অভিযোগপত্র ও ছবি চেয়ে আরটিআই দায়ের করেছিলেন। পুলিশের জবাবে বলা হয়— সব অভিযোগ, পোস্টমর্টেম রিপোর্ট, দেয়ালপত্র, নোটিস, এমনকি অজানা মৃতদেহ শনাক্তকরণে ব্যবহৃত ছবিও ‘রুটিন প্রশাসনিক আদেশে’ ধ্বংস করা হয়েছে।
জয়ন্ত বাবুর প্রশ্ন— "আজকের ডিজিটাল যুগে, ব্যাকআপ না রেখে কীভাবে এত গুরুত্বপূর্ণ তথ্য নষ্ট করা যায়? যদি ভবিষ্যতে কোনও কঙ্কাল উদ্ধার হয়, তখন কীভাবে সেগুলির সঙ্গে নিখোঁজ ব্যক্তিদের মেলানো হবে? কে এই অপচেষ্টার পিছনে আছে? তদন্ত করতেই হবে।"
পুরনো ওই সময়কালেই (২০০০-২০১৫) ধর্মস্থলায় গণকবরের অভিযোগ ঘিরে এক হুইসল ব্লোয়ার দাবি করেছিলেন, তিনি বহু নারী ও নাবালিকার দেহ দাহ ও কবর দিতে বাধ্য হয়েছিলেন, যাঁদের অনেকের শরীরে যৌন নিপীড়নের চিহ্ন ছিল বলেও তাঁর অভিযোগ।
তথ্য চেয়ে আরটিআই-এর জবাবে পুলিশ জানায়— সব পোস্টমর্টেম রিপোর্ট, দেয়ালপত্র ও ছবি "রুটিন প্রশাসনিক আদেশে" ধ্বংস করে দেওয়া হয়েছে। আর তাতেই বেড়েছে সন্দেহ। কারণ, এই সময়কালেই ঘন ঘন নিখোঁজ, ধর্ষণ ও গণকবরের মতো অভিযোগ উঠেছিল। বিশেষ তদন্তকারী দল শীঘ্রই এফআইআর দায়ের করে খনন কাজ শুরু করতে পারে বলে সূত্রের খবর।