ডিজিসিএ সূত্রে জানা গেছে, ওই ৭টি গুরুতর ঘাটতি সংশোধনের জন্য ৩০ জুলাই পর্যন্ত সময়সীমা বেঁধে দেওয়া হয়েছে। বাকি ৪৪টি নিরাপত্তা-লঙ্ঘন সংক্রান্ত ত্রুটি সংশোধনের জন্য ২৩ অগাস্ট পর্যন্ত সময় রয়েছে।

ফাইল চিত্র
শেষ আপডেট: 30 July 2025 07:35
দ্য ওয়াল ব্যুরো: এয়ার ইন্ডিয়ার বিমানে নিরাপত্তার ঘাটতি! এমনই জোরালো অভিযোগ তুলল দেশের বিমান নিয়ন্ত্রণ সংস্থা ডিজিসিএ (Directorate General of Civil Aviation)। তাদের বার্ষিক রিপোর্টে উঠে এসেছে, এয়ার ইন্ডিয়ার বিরুদ্ধে মোট ৫১টি নিরাপত্তা লঙ্ঘনের ঘটনা রয়েছে, যার মধ্যে ৭টি ঘটনাকে 'ক্রিটিকাল লেভেল-১' বা গুরুতর পর্যায়ের ত্রুটি হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে। এসব ত্রুটি অবিলম্বে সংশোধনের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
ডিজিসিএ সূত্রে জানা গেছে, ওই ৭টি গুরুতর ঘাটতি সংশোধনের জন্য ৩০ জুলাই পর্যন্ত সময়সীমা বেঁধে দেওয়া হয়েছে। বাকি ৪৪টি নিরাপত্তা-লঙ্ঘন সংক্রান্ত ত্রুটি সংশোধনের জন্য ২৩ অগাস্ট পর্যন্ত সময় রয়েছে।
রিপোর্ট অনুযায়ী, এয়ার ইন্ডিয়ায় যে যে ত্রুটিগুলো ধরা পড়েছে, তা হল,
এয়ার ইন্ডিয়া যে সমস্ত সেফটি প্রটোকল মেনে চলে, ডিজিসিএ-র নির্দেশে সেইসব প্রমাণ জমা দিতে হবে বিমান সংস্থাকে।
কিছুদিন আগেই ডিজিসিএ জানিয়েছিল এয়ার ইন্ডিয়ার একটি বিমান জরুরি স্লাইড পরীক্ষার নির্ধারিত সময়সীমা অতিক্রম করার পরেও উড়েছিল। উল্লেখ্য, এই স্লাইড একটি গুরুত্বপূর্ণ সেফটি ফিচার।
২৩ জুলাই ডিজিসিএ তিনটি আলাদা আলাদা শোকজ নোটিস পাঠিয়েছে এয়ার ইন্ডিয়াকে। তাদের ১৫ দিনের মধ্যে এই সমস্ত লঙ্ঘনের জবাব দিতে বলা হয়েছে।
এর আগেই সংসদে কেন্দ্রীয় অসামরিক বিমান পরিবহণ প্রতিমন্ত্রী মুরলিধর মোহল জানিয়েছিলেন, এই ত্রুটি ধরা পড়ার পরই সংশ্লিষ্ট বিমানটিকে স্থগিত করা হয় এবং পরীক্ষার পরে ছাড়া হয়। তিনি জানান, বিমানের নিরাপত্তা ও রক্ষণাবেক্ষণ নিয়ে নিয়মিত নজরদারি ও তল্লাশি চালায় ডিজিসিএ। যদি কোনও গাফিলতি ধরা পড়ে, তবে জরিমানা, সতর্কতা, এমনকি বিমানের লাইসেন্স স্থগিত করার মতো কঠোর পদক্ষেপ নেওয়া হয়। মন্ত্রীর কথায়, ডিজিসিএ কর্মকর্তারা প্রশিক্ষিত ও দক্ষ, যারা এই নজরদারি এবং আইনগত প্রক্রিয়া দক্ষতার সঙ্গে সম্পন্ন করেন।
গত ১২ জুন আমদাবাদে টেকঅফের কয়েক সেকেন্ডের মধ্যেই ভেঙে পড়ে এয়ার ইন্ডিয়ার বোয়িং ৭৮৭ ড্রিমলাইনার। দুর্ঘটনায় সব মিলিয়ে ২৫০ জনেরও বেশি মানুষের মৃত্যু হয়েছে। কী কারণে এই ভয়াবহ দুর্ঘটনা, তা জানতে তদন্তে উঠে এসেছে একাধিক তথ্য। বিমানের যান্ত্রিক ত্রুটি, সঠিক রক্ষণাবেক্ষণের অভাব এমন নানা সম্ভাবনা নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে।