লালুপ্রসাদ রবিবার লম্বা এক বিবৃতিতে দাবি করেন, সামাজিক লজ্জার কারণ হয় এমন কোনও কিছু তাঁর পরিবার বরদাস্ত করে না। পরিবারের সকলে সেটা মেনে চলে। বড় ছেলে বিপথে গিয়েছে বলে তাঁকে ত্যাজ্য করেছেন। দল থেকেও ছয় বছরের জন্য বের করে দিয়েছেন।

লালুপ্রসাদ ও তেজপ্রতাপ
শেষ আপডেট: 26 May 2025 08:48
দ্য ওয়াল ব্যুরো: শুধু দল থেকে বের করে দেওয়া নয়, পরিবার থেকেও বড় ছেড়ে তেজপ্রতাপকে (Tej Pratap Yadav) ত্যাজ্য ঘোষণা করেছেন লালুপ্রসাদ যাদব (Laloo Prasad Yadav) । তাতেও বিরোধীদের আক্রমণ থেকে রেহাই মেলেনি আরজেডি সুপ্রিমোর। নীতীশ কুমারের দল জনতা দল ইউনাইটেড (JDU), বিজেপি (BJP)-সহ একাধিক দল লালুপ্রসাদের পারিবারিক সংস্কৃতি (Family culture of Laloo Prasad) নিয়ে প্রশ্ন তুলেছে।
বিরোধী নেতাদের বক্তব্য, সাত বছর আগে তেজপ্রতাপের স্ত্রী ঐশ্বর্যা রাইকে (Aishwarya Rai) বিয়ের এক মাসের মাথায় বাড়ি থেকে বের করে দিয়েছিলেন লালুপ্রসাদ। সেদিন আরজেডি সুপ্রিমোর বিবেক কোথায় ছিল। কেন সেদিন ছেলেকে শাসন করেননি।
লালুপ্রসাদ রবিবার লম্বা এক বিবৃতিতে দাবি করেন, সামাজিক লজ্জার কারণ হয় এমন কোনও কিছু তাঁর পরিবার বরদাস্ত করে না। পরিবারের সকলে সেটা মেনে চলে। বড় ছেলে বিপথে গিয়েছে বলে তাঁকে ত্যাজ্য করেছেন। দল থেকেও ছয় বছরের জন্য বের করে দিয়েছেন।
তেজপ্রতাপের সঙ্গে ঐশ্বর্যার বিবাহ বিচ্ছেদের মামলা এখনও চলছে। এরই মধ্যে রবিবার লালুপ্রসাদের বড় ছেলে সমাজমাধ্যমে ঘোষণা করেন, অনুষ্কা যাদব নামে একজনের সঙ্গে তাঁর সাত বছর ধরে সম্পর্ক আছে। সেই পোস্ট ভাইরাল হতে তেজপ্রতাপ দাবি করেন, তাঁর অ্যাকাউন্ট হ্যাক হয়েছে। কিন্তু লালুপ্রসাদ ছেলেকে দল থেকে তাড়িয়ে দেওয়ার পাশাপাশি পরিবার থেকেও বের করে দেন। সেই সিদ্ধান্ত জানিয়েছে এক্স হ্যান্ডেলে লালুপ্রসাদ লেখেন, ‘ব্যক্তিগত জীবনে নৈতিক মূল্যবোধকে (moral values) অবহেলা করা সামাজিক ন্যায়বিচারের (Social Justice) জন্য আমাদের সম্মিলিত সংগ্রামকে দুর্বল করে। বড় ছেলের কার্যকলাপ, দায়িত্বজ্ঞানহীন আচরণ আমাদের পারিবারিক মূল্যবোধ এবং ঐতিহ্যের সঙ্গে সঙ্গতিপূর্ণ নয়। অতএব, উপরোক্ত পরিস্থিতির কারণে, আমি তাঁকে দল এবং পরিবার থেকে সরিয়ে দিচ্ছি এখন থেকে দল এবং পরিবারে তাঁর কোনও ভূমিকা থাকবে না। তাঁকে দল থেকে ৬ বছরের জন্য বহিষ্কার করা হয়েছে।
তিনি আরও লিখেছেন, ‘তিনি (তেজপ্রতাপ) নিজেই তাঁর ব্যক্তিগত জীবনের ভালো-মন্দ বুঝতে সক্ষম। যার সঙ্গে তাঁর সম্পর্ক আছে, তাঁর (তরুণী অনুষ্কা যাদব) উচিত নিজস্ব বিবেচনার ভিত্তিতে সিদ্ধান্ত নেওয়া। আমি সবসময় জনজীবনে জনলজ্জার সমর্থক। পরিবারের বাধ্য সদস্যরা জনজীবনে এই ধারণাটি গ্রহণ করেছেন এবং অনুসরণ করেছেন। ধন্যবাদ।’
লালুর পোস্ট ট্যাগ করে জেডিইউ নেতা নীরজ কুমার পাল্টা লিখেছেন, সাত বছর আগে যখন বড় বউমাকে বাড়ি থেকে এক কাপড়ে বের করে দিয়েছিলেন সেদিন আপনার বিবেক কোথায় ছিল। আসলে মহিলাদের প্রতি এমন আচরণ বিহারের নয়, আপনার পরিবারের সংস্কৃতি।
তেজপ্রতাপের বিয়ে হয়েছিল বিহারের প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী দারোগা প্রসাদের নাতনি (Grand daughter of Daroga Prasad Rai, the ex CM of Bihar) ঐশ্বর্যার সঙ্গে। দারোগা প্রসাদের সঙ্গে লালুপ্রসাদের পারিবাহিক বন্ধুত্ব ছিল। দু’জনই সমাজবাদী রাজনীতির মানুষ এবং জয়প্রকাশ নারায়ণের সম্পূর্ণ ক্রান্তি আন্দোলন থেকে রাজনীতির পাদপ্রদীপে এসেছেন।
জেডিইউ-র আর এক নেতা কেসি ত্যাগী বলেন, লালুপুত্রের ঘটনায় বলেন, কেউ ব্যক্তিগত জীবনে নীতিনিষ্ঠ না হলে রাজনীতিতে নৈতিকতা রক্ষা কঠিন। রাজনীতিকদের এই ব্যাপারে ব্যক্তিগত ও জনজীবনের মধ্যে ফারাক থাকে না। একাধিক বিজেপি নেতাও লালুপ্রসাদের পুত্র ও আরজেডি সুপ্রিমোর সমালোচনা করেছেন। বিরোধীদের বক্তব্য, ছয় মাসের মাথায় বিহার বিধানসভার ভোট। বড় ছেলের প্রতি লালুপ্রসাদের কঠোর অবস্থান আসলে ইলেকশন স্টান্স। রাজনৈতিক মহলের একাংশের মতে, বিরোধীরাও ভোটের অঙ্কেই এই ইস্যুতে লালুপ্রসাদকে নিশানা করতে শুরু করেছে।