বড় ছেলে তেজপ্রতাপকে (Tej Pratap Yadav) নিয়ে বড় পদক্ষেপ করলেন লালুপ্রসাদ যাদব
.jpeg.webp)
শেষ আপডেট: 25 May 2025 17:00
দ্য ওয়াল ব্যুরো: বড় ছেলে তেজপ্রতাপকে (Tej Pratap Yadav) নিয়ে বড় পদক্ষেপ করলেন লালুপ্রসাদ যাদব (Lalu Prasad Yadav, the National President of RJD)। এক্স হ্যান্ডেলে লালুপ্রসাদ লিখেছেন, ‘ব্যক্তিগত জীবনে নৈতিক মূল্যবোধকে (moral values) অবহেলা করা সামাজিক ন্যায়বিচারের (Social Justice) জন্য আমাদের সম্মিলিত সংগ্রামকে দুর্বল করে। বড় ছেলের কার্যকলাপ, দায়িত্বজ্ঞানহীন আচরণ আমাদের পারিবারিক মূল্যবোধ এবং ঐতিহ্যের সঙ্গে সঙ্গতিপূর্ণ নয়। অতএব, উপরোক্ত পরিস্থিতির কারণে, আমি তাঁকে দল এবং পরিবার থেকে সরিয়ে দিচ্ছি এখন থেকে দল এবং পরিবারে তাঁর কোনও ভূমিকা থাকবে না। তাঁকে দল থেকে ৬ বছরের জন্য বহিষ্কার করা হয়েছে।
তেজপ্রতাপ সম্পর্কে বাবা লালুপ্রসাদ আরও লিখেছেন, ‘তিনি (তেজপ্রতাপ) নিজেই তাঁর ব্যক্তিগত জীবনের ভালো-মন্দ বুঝতে সক্ষম। যার সঙ্গে তাঁর সম্পর্ক আছে, তাঁর (তরুণী অনুষ্কা যাদব) উচিত নিজস্ব বিবেচনার ভিত্তিতে সিদ্ধান্ত নেওয়া। আমি সবসময় জনজীবনে জনলজ্জার সমর্থক। পরিবারের বাধ্য সদস্যরা জনজীবনে এই ধারণাটি গ্রহণ করেছেন এবং অনুসরণ করেছেন। ধন্যবাদ।’
রবিবার সকাল থেকেই লালুপ্রসাদের বড় ছেলে তেজপ্রতাপকে নিয়ে বিহার সরগরম। রাজনীতির ময়দান থেকে সমাজমাধ্যমে শোরগোল পড়ে যায় তেজপ্রতাপের ফেসবুক পোস্ট নিয়ে। তাতে তিনি অনুষ্কা যাদব নামে এক তরুণীর সঙ্গে তাঁর বিশেষ সম্পর্কের কথা ফাঁস করেন।
তেজপ্রতাপ বিবাহিত হলেও বহু বছর স্ত্রীর সঙ্গে সেপারেশন চলছে। তাঁদের বিচ্ছেদের মামলা আদালতের বিচারাধীন। এই অবস্থায় দ্বিতীয় নারীর সঙ্গে তাঁর বিশেষ সম্পর্কের কথা নিজেই ফাঁস করার বিষয়টি লালুপ্রসাদ ও আরজেডির জন্য ভাল হয়নি। লালুপ্রসাদের নয় সন্তানের দু’জন ছেলে। ছোট ছেলে তেজস্বী বিহার বিধানসভার বিরোধী দলনেতা। লালুপ্রসাদের স্ত্রী তথা প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী রাবড়ী দেবী বিহার বিধান পরিষদের বিরোধী নেত্রী। লালুপ্রসাদ দলের সভাপতি। ঠিক ছয় মাসের মাথায় বিহার বিধানসভার ভোট। এই সময় তেজপ্রতাপের কাণ্ড বাড়তে না গিয়ে কঠোর পদক্ষেপ করলেন লালুপ্রসাদ।
তবে বড় ছেলেকে পরিবার থেকেও বের করে দেওয়া নিয়ে স্ত্রী রাবড়ীর সঙ্গে লালুর তীব্র মতবিরোধ দেখা দিয়েছে বলে আরজেডি সুত্রের খবর। বিরোধী দলগুলি লালুপ্রসাদের সিদ্ধান্তকে ‘আই ওয়াশ’ বলে মন্তব্য করেছে। তাঁদের বক্তব্য, আরজেডি সুপ্রিমো সব জানতেন। তেজপ্রতাপের উশৃঙ্খলতার কথা কারও অজানা নয়। বিবাহ বিচ্ছেদের আগে দ্বিতীয় নারীর সঙ্গে সম্পর্ক জানাজানি হতে লালুপ্রসাদ নড়েচড়ে বসেছেন ভোটের অঙ্ক বিবেচনায় রেখে।
বিরোধীদের বক্তব্য, তেজপ্রতাপের মানসিক স্থিরতার অভাব বরাবর। এর আগে নীতীশ কুমারের মন্ত্রিসভার সদস্য থাকাকালে নানা ধরনের অপকর্পে জড়িয়েছেন। দিন কয়েক আগে মুখ্যমন্ত্রী নীতীশের বাংলোর বাইরে দাঁড়িয়ে তাঁকে গালমন্দ করেছেন। বিরোধী নেতাদের বক্তব্য, নিরাপত্তা রক্ষীরা প্রাক্তন মন্ত্রী এবং লালুপ্রসাদের ছেলে বলে তেজপ্রতাপকে গ্রেফতার করেনি। কিন্তু লালুপ্রসাদের উচিত ছিল সেদিনই ছেলেকে দল থেকে বের করে দেওয়া।