ঘন কুয়াশার জেরে দিল্লি ও উত্তর ভারতের একাধিক বিমানবন্দরে ব্যাহত উড়ান পরিষেবা। দেরি ও বাতিলের আশঙ্কায় যাত্রীদের আগেভাগে ফ্লাইট স্ট্যাটাস যাচাই করার পরামর্শ দিল এয়ারলাইন্সগুলি।

ব্যাহত বিমান পরিষেবা
শেষ আপডেট: 18 December 2025 10:03
দ্য ওয়াল ব্যুরো: ঘন কুয়াশার চাদরে ঢেকেছে উত্তর ভারত। দৃশ্যমানতা কমেছে অনেকটা। এই পরিস্থিতিতে ব্যাহত উড়ান পরিষেবা। বৃহস্পতিবার সকাল থেকেই দিল্লি (Delhi) ও সংলগ্ন উত্তর ভারতের একাধিক বিমানবন্দরে ধিমে গতিতে চলছে উড়ান ওঠা-নামা। পরিস্থিতির গুরুত্ব বুঝে একের পর এক এয়ারলাইন্স (Airlines) যাত্রীদের জন্য ট্রাভেল অ্যাডভাইসরি (Travel Advisory) জারি করা হল। দেরি, বাতিল-দুটোরই আশঙ্কা থাকছে বলে স্পষ্ট বার্তা দেওয়া হয়েছে তাতে।
বৃহস্পতিবার স্পাইসজেট (SpiceJet) জানায়, দিল্লির খারাপ আবহাওয়া ও ঘন কুয়াশার কারণে উড়ান পরিষেবায় বড়সড় প্রভাব পড়তে পারে। সংস্থার তরফে বলা হয়েছে, শুধু নির্দিষ্ট কোনও উড়ান নয়, দিল্লি থেকে ছাড়া ও দিল্লিতে নামা সমস্ত ফ্লাইটের পাশাপাশি তার সঙ্গে যুক্ত কনসিকোয়েনশিয়াল ফ্লাইট (Consequential Flights)–ও প্রভাবিত হতে পারে। তাই বিমানবন্দরে রওনা দেওয়ার আগে যাত্রীদের সংস্থার ওয়েবসাইটে গিয়ে ফ্লাইট স্ট্যাটাস দেখে নেওয়ার পরামর্শ দিয়েছে তারা।
একই সুরে সতর্ক করেছে এয়ার ইন্ডিয়া (Air India)। সংস্থার তরফে জানানো হয়েছে, আগামী কয়েক দিন উত্তর ও পূর্ব ভারতের একাধিক বিমানবন্দরে ঘন কুয়াশার কারণে ভিজিবিলিটি (Low Visibility) কম থাকবে। তার সরাসরি প্রভাব পড়তে পারে দিল্লিতে অবস্থিত এয়ার ইন্ডিয়ার প্রধান হাব (Main Hub)-সহ গোটা নেটওয়ার্কে। বুধবার জারি করা অ্যাডভাইসরিতে বিশেষ করে ছুটির মরশুমে যাত্রা করা যাত্রীদের আগেভাগে ফ্লাইটের খোঁজখবর নিয়ে নেওয়ার অনুরোধ জানানো হয়েছে।
এয়ার ইন্ডিয়া আরও জানিয়েছে, কুয়াশাজনিত সমস্যার মোকাবিলায় তারা আগাম অপারেশনাল প্ল্যানিং (Operational Planning), গ্রাউন্ড কো-অর্ডিনেশন (Ground Coordination) জোরদার করার মতো একাধিক পদক্ষেপ করেছে। তবুও হঠাৎ করে ফ্লাইট বাতিল বা দীর্ঘ বিলম্ব হওয়ার সম্ভাবনা উড়িয়ে দেওয়া যাচ্ছে না। যাত্রীদের সাহায্যের জন্য গ্রাউন্ড স্টাফ ২৪ ঘণ্টা প্রস্তুত থাকবে বলেও জানানো হয়েছে। পাশাপাশি সংস্থার ফগকেয়ার (FogCare) উদ্যোগের কথাও তুলে ধরা হয়েছে। এই ব্যবস্থায়, যেসব ফ্লাইট কুয়াশায় প্রভাবিত হতে পারে, সেসব যাত্রীর মোবাইলে আগাম বার্তা পাঠানো হয়। চাইলে অতিরিক্ত চার্জ ছাড়াই ফ্লাইট বদল বা পুরো টাকা ফেরতের সুযোগও থাকছে।
এর আগে বুধবার ইন্ডিগো (IndiGo) জানিয়েছিল, চণ্ডীগড় (Chandigarh) অঞ্চলে কুয়াশা ও কম দৃশ্যমানতার কারণে উড়ান সময়সূচি প্রভাবিত হয়েছে। সংস্থা জানায়, তারা আবহাওয়ার পরিস্থিতির উপর নজর রাখছে এবং যাত্রীদের ওয়েবসাইট বা অ্যাপের মাধ্যমে আপডেট দেখে নিতে বলা হয়েছে।
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এই আবহাওয়ার পেছনে দূষণও বড় কারণ। সেন্ট্রাল পলিউশন কন্ট্রোল বোর্ড (Central Pollution Control Board)-এর সামীর অ্যাপ (Sameer App) অনুযায়ী, বৃহস্পতিবার সকাল ৬টায় দিল্লির এয়ার কোয়ালিটি ইনডেক্স (AQI) ছিল ৩৫৬—‘ভেরি পুওর’ শ্রেণিতে। বিষাক্ত বাতাস ঠেকাতে দিল্লি সরকার ইতিমধ্যেই কড়া দূষণ নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থা ঘোষণা করেছে। এর মধ্যে রয়েছে হাইব্রিড ওয়ার্ক (Hybrid Work), নির্মাণ সামগ্রী বহনকারী গাড়ির উপর নিষেধাজ্ঞা এবং জাতীয় রাজধানীতে ঢোকা গাড়ির জন্য বাধ্যতামূলক পলিউশন আন্ডার কন্ট্রোল সার্টিফিকেট (PUC)। সব মিলিয়ে, কুয়াশা আর দূষণের যুগলবন্দিতে আপাতত স্বস্তি নেই দিল্লির আকাশে, আর ভোগান্তি বাড়ছেই যাত্রীদের।