এই ঘটনায় এখনও পর্যন্ত মোট আটটি অস্থাবর সম্পত্তি বাজেয়াপ্ত করা হয়েছে। এর মধ্যে সাতটি সুলতানপুরিতে, একটি রোহিনির সেক্টর ২৪-এ অবস্থিত। আরও একটি চাঞ্চল্যকর তথ্য পেয়েছে পুলিশ।

ড্রাগ কুইন
শেষ আপডেট: 20 July 2025 16:35
দ্য ওয়াল ব্যুরো: দিল্লির উত্তরে সুলতানপুরি এলাকায় এক মাদকচক্রের বিরুদ্ধে বড়সড় পদক্ষেপ করল দিল্লি পুলিশ। অভিযুক্ত ওই চক্রের নেত্রী কুসুমের প্রায় ৪ কোটি টাকার সম্পত্তি বাজেয়াপ্ত করা হয়েছে। সূত্রের খবর, দীর্ঘদিন ধরে সুলতানপুরিতে বসবাস করছিলেন কুসুম, যাঁকে পুলিশ আধিকারিকরা ‘সুলতানপুরির ড্রাগ কুইন’ বলে ডাকেন। মার্চ মাস থেকে নিখোঁজ তিনি।
গত মার্চে কুসুমের বাড়িতে হানা দেয় পুলিশ। সেখান থেকে তাঁর ছেলে অমিতকে গ্রেফতার করা হয়। ওই তল্লাশিতে উদ্ধার হয় বিপুল পরিমাণ হেরোইনের প্যাকেট, ট্রামাডল নামের মাদক হিসেবে ব্যবহৃত ওষুধ, নগদ ১৪ লক্ষ টাকা এবং একটি মাহিন্দ্রা স্করপিও গাড়ি। এই ঘটনাই মাদকচক্র সম্পর্কে পুলিশকে অনেক তথ্য দেয়।
তদন্তের পরিধি বাড়িয়ে কুসুমের দুই মেয়ের ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্ট খতিয়ে দেখা হয়। পুলিশ জানিয়েছে, অ্যাকাউন্ট দেখতে গিয়ে চোখ কপালে ওঠে তাঁদের। গত ১৮ মাসে ড্রাগ কুইেনের মেয়েদের বিভিন্ন অ্যাকাউন্টে প্রায় ২ কোটি টাকার জমা হয়েছে। জমার অঙ্কগুলি ছিল বেশিরভাগই ছোট, ২ থেকে ৫ হাজার টাকার মধ্যে। চলতি বছরেই প্রায় ৭০ লক্ষ টাকা জমা পড়েছে বিভিন্ন অ্যাকাউন্টে। টাকা কোথা থেকে এল, তার কোনও সঠিক ব্যাখ্যা দিতে পারেননি কুসুমের মেয়েরা।
এই ঘটনায় এখনও পর্যন্ত মোট আটটি অস্থাবর সম্পত্তি বাজেয়াপ্ত করা হয়েছে। এর মধ্যে সাতটি সুলতানপুরিতে, একটি রোহিনির সেক্টর ২৪-এ অবস্থিত। আরও একটি চাঞ্চল্যকর তথ্য পেয়েছে পুলিশ। সুলতানপুরির এক বহুতল বাড়ির খোঁজ মিলেছে, যেখানে ভিতরের দেওয়াল ভেঙে চারটি আলাদা ফ্ল্যাটকে এক করে গড়ে তোলা হয়েছে একটি চারতলা প্রাসাদোপম ‘মিনি ম্যানশন’। বাইরে থেকে দেখে বোঝার উপায় ছিল না। তবে ভিতরে সেটি ছিল বিশাল বাড়ি।
পুলিশ এই বাড়ি সংক্রান্ত তথ্য দিল্লি পুরসভা (MCD)-কে পাঠিয়েছে। ভবনের বৈধতা ও অনুমোদন সংক্রান্ত তদন্তে নামছে এমসিডি। খুব শীঘ্রই এই বিষয়ে বিস্তারিত রিপোর্ট জমা পড়বে বলে জানা গিয়েছে।
তদন্তে এখনও অধরা কুসুম। ইতিমধ্যেই তাঁর নামে এনডিপিএস অ্যাক্টে মোট ১২টি মামলা নথিভুক্ত রয়েছে বলে জানিয়েছে পুলিশ। উত্তর-পশ্চিম দিল্লি, বিশেষত সুলতানপুরিতে মাদক সরবরাহের অন্যতম মাথা হিসেবেই কুসুম দীর্ঘদিন ধরে সক্রিয় ছিলেন। পুলিশি তৎপরতায় তাঁর গড়ে তোলা মাদক-সাম্রাজ্যের স্তম্ভগুলি এখন একে একে ভেঙে পড়ছে।