স্ত্রী সোনিয়ার অভিযোগ, প্রীতম মাদকাসক্ত ছিলেন। নেশার ঘোরে প্রায়ই তাঁকে মারধর করতেন। সোনিয়া বারবার স্বামীকে ভালো পথে ফেরাতে চাইলেও, কোনো লাভ হয়নি।

স্বামীকে খুন করে ক্রাইম সিন সাজাল তরুণী
শেষ আপডেট: 4 August 2025 18:24
দ্য ওয়াল ব্যুরো: সংসারে রোজ অশান্তি। দিনের পর দিন স্বামীর অত্যাচারে অতিষ্ঠ হয়ে উঠেছিলেন। রাগ মেটাতেই প্রেমিকের সঙ্গে চক্রান্ত করে তাঁকে খুন করলেন বছর ৩৪-এর এক গৃহবধূ । এরপর তাঁদের পরিকল্পনামতো সব ঠিকই চলছিল। অতীত ভুলে নতুন জীবন শুরু করতে চেয়েছিলেন। কিন্তু প্রেমিকের একটি ভুলেই ভেস্তে গেল সবকিছু। রাজধানী দিল্লির (Delhi Murder Case) এই ঘটনার তদন্তে নেমে চাঞ্চল্যকর তথ্য উঠে এল পুলিশের হাতে।
পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, দিল্লির আলিপুরের বাসিন্দা প্রীতম প্রকাশ (৪২) দীর্ঘদিন ধরেই অপরাধ জগতের সঙ্গে যুক্ত ছিলেন। একাধিক মামলায় অভিযুক্ত ছিলেন। এমনকি আদালতের তরফে তাঁকে পলাতক ঘোষণা করা হয়েছিল। তাঁর স্ত্রী সোনিয়ার অভিযোগ, প্রীতম মাদকাসক্ত ছিলেন। নেশার ঘোরে প্রায়ই তাঁকে মারধর করতেন। সোনিয়া বারবার স্বামীকে ভালো পথে ফেরাতে চাইলেও, কোনো লাভ হয়নি।
সোনিয়া জানান, মাত্র ১৬ বছর বয়সে পরিবারের অমতে প্রীতমকে ভালবেসে বিয়ে করেছিলেন তিনি। তাঁদের একটি পুত্র ও দুই কন্যা সন্তান আছে। কিন্তু পাঁচজনের সংসারে শান্তি ছিল না। এরমধ্যেই ২০২৩ সালে সোশ্যাল মিডিয়ায় রোহিত নামে এক ক্যাব চালকের সঙ্গে আলাপ হয় সোনিয়ার। তিনিও আগে একাধিক অপরাধে যুক্ত ছিলেন, এমনকি একবার খুনের মামলাতেও নাম জড়িয়েছিল। এরপরও রোহিতের সঙ্গে ঘনিষ্ঠতা বাড়তে থাকে তাঁর। নতুন করে সংসার পাতার সিদ্ধান্ত নেন দু'জনে। কিন্তু বাধা হয়ে দাঁড়ান প্রীতম।
২০২৩ সালের ২ জুলাই, প্রীতমের সঙ্গে তীব্র অশান্তি হলে সোনিপতে নিজের বোনের বাড়ি চলে যান সোনিয়া। রোহিত নিজেই গাড়িতে করে তাঁকে সেখানে পৌঁছে দিয়েছিলেন। পথে যাওয়ার সময়ই প্রীতমকে খুন করার কথা প্রেমিককে বলেন সোনিয়া। কিন্তু রোহিত তখনই জানিয়ে দেন, তিনি নিজে প্রীতমকে মারতে পারবেন না, তবে ৬ লক্ষ টাকা দিলে একজন খুনি ভাড়া করে দেবেন। সোনিয়ার পক্ষে এত টাকা জোগাড় করা সম্ভব হয়নি, তাই সেখানেই পরিকল্পনা থমকে যায়।
এরপর আসে 'প্ল্যান বি'। ৫ জুলাই, প্রীতম স্ত্রীকে বাড়ি ফিরিয়ে আনতে সোনিপতে গিয়েছিলেন। কিন্তু সোনিয়া রাজি ছিলেন না। দুজনের মধ্যে ফের অশান্তি হয়। তারপরই বোনের শ্বশুরবাড়ির এক আত্মীয়, বিজয়কে প্রস্তাব দেন প্রীতমকে খুন করলে ১ লক্ষ টাকা দেওয়া হবে। আলোচনার পরে ৫০ হাজার টাকায় চুক্তি হয়।
ঘটনার দিন কী হয়েছিল?
পুলিশি জেরায় সোনিয়া জানান, সেদিন রাতে তিনি প্রীতমকে তাঁর বোনের বাড়িতেই থেকে যেতে বলেন। এরপর সবাই ঘুমিয়ে পড়লে বিজয়কে লুকিয়ে নিজের ঘরে নিয়ে আসেন। প্রীতমকে খুন করে তাঁর দেহ চাদরে মুড়ে ড্রেনের ধারে ফেলে দেয় দু'জনে। স্বামীর মোবাইল নিজের কাছেই রেখে দেন সোনিয়া। পরে আলিপুর থানায় ‘মিসিং’ ডায়রিও করেন। প্রীতমের মোবাইল ফোন নষ্ট করে দেওয়ার জন্য রোহিতকে দিয়ে দিয়েছিলেন। কিন্তু রোহিত ফোনটি ব্যবহার করতে থাকেন। এতেই গণ্ডগোল বাধে।
মাস কয়েক পর দিল্লি পুলিশের ক্রাইম ব্রাঞ্চ প্রীতমের খোঁজে তদন্ত শুরু করে। প্রীতমের মোবাইল ট্র্যাক করে জানতে পারে সেটি সোনিপত এলাকায় এখনও কেউ ব্যবহার করছে। এরপর পুলিশ রোহিতের উপর নজর রাখতে শুরু করে। তদন্তে রোহিতের পুরনো অপরাধের খোঁজও মেলে। সন্দেহ হওয়ায় তাঁকে গ্রেফতার করে পুলিশ।
জেরা শুরু হলে রোহিত প্রথমে বলেন, ফোনটি তিনি কিনেছেন। পরে চাপে পড়ে স্বীকার করেন, তিনি এবং সোনিয়া একসঙ্গে খুনের পরিকল্পনা করেছিলেন। প্রীতমকে খুন করে দেহ ফেলে দেওয়া হয়েছিল, ফোন নষ্ট না করে তিনি নিজের কাজেই ব্যবহার করছিলেন।
রোহিতের বয়ানের ভিত্তিতে পুলিশ গ্রেফতার করে সোনিয়াকে। শুরুতে অস্বীকার করলেও পরে খুনে নিজের জড়িত থাকার কথা স্বীকার করে নেন ওই মহিলা। তিনি জানান, খুনের পর বিজয়কে ৫০ হাজার টাকা দিয়েছিলেন। পরে প্রীতমের একটি গাড়ি বিক্রি করে ২ লক্ষ ৮০ হাজার টাকা পেয়েছিলেন। যার একভাগ রোহিতকে দেন, বাকি নিজেদের ভবিষ্যতের জন্য সঞ্চয় করেন।
তাৎপর্যপূর্ণ বিষয়টি হল, হরিয়ানা পুলিশ আগে ওই অজ্ঞাত মৃতদেহটি শনাক্ত করতে পারেনি। তবে তাদের কাছে ডিএনএ নমুনা ছিল। এখন সেই নমুনা মিলিয়ে প্রীতমের পরিচয় নিশ্চিত করা হবে।