ইতিমধ্যেই দিল্লি মিউনিসিপ্যাল কর্পোরেশ নিজেদের আর্থিক অবস্থা “গুরুতর” বলে উল্লেখ করেছে।

শুরু হয়েছে সম্ভাব্য ব্যয় ও আশ্রয়কেন্দ্রের জায়গা নির্ধারণের কাজ
শেষ আপডেট: 14 August 2025 13:50
দ্য ওয়াল ব্যুরো: রাজধানীতে পথকুকুর ইস্যু নিয়ে তীব্র বিতর্কের মধ্যে, প্রায় ১০ লক্ষ সারমেয় সামলানোর ক্ষমতা ও বাস্তবতা নিয়ে প্রশ্ন উঠছে দিল্লি মিউনিসিপ্যাল কর্পোরেশনের (এমসিডি) বিরুদ্ধে। বিভিন্ন সংবাদমাধ্যমের দাবি, সোমবার সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশ মেনে দিল্লি-এনসিআর জুড়ে সব পথকুকুরকে আশ্রয়কেন্দ্রে পাঠাতে গেলে প্রতিদিন প্রায় ১১ কোটি টাকা খরচ হবে (Delhi stray dogs relocation cost)।
এই খরচের মধ্যে রয়েছে প্রতিটি কুকুরের জন্য খাবার, পরিবহণ, পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা, চিকিৎসা, কর্মী ও বিদ্যুতের বিল। সব মিলিয়ে প্রতিদিন প্রায় প্রতিটি কুকুরের জন্য ১১০ টাকা। এই মামলার শুনানি আবার হবে আজ, ১৪ আগস্টে, নতুন তিন বিচারপতির বেঞ্চে।
প্রস্তুতি ও প্রাথমিক পরিকল্পনা কী বলছে?
সিনিয়র কর্পোরেশন কর্মকর্তারা সুপ্রিম কোর্টের চূড়ান্ত নির্দেশের অপেক্ষায় থাকলেও, তাঁরা ইতিমধ্যেই সম্ভাব্য ব্যয় ও আশ্রয়কেন্দ্রের জায়গা নির্ধারণের কাজ শুরু করেছেন। একজন শীর্ষ কর্মকর্তা জানিয়েছেন, “যদি সমস্ত অনুমানিত ১০ লক্ষ কুকুরকে আশ্রয় কেন্দ্রে পাঠানো হয়, তাহলে প্রতিদিনের খরচ হবে প্রায় ১১ কোটি টাকা।”
বর্তমানে এমসিডি কেবলমাত্র বারবার কামড়ানোর অভিযোগ রয়েছে এমন বা রোগাক্রান্ত কুকুর ধরছে। প্রতিদিন প্রায় ৩৫০ কুকুরকে নির্বীজকরণ (স্টেরিলাইজেশন) করা হয় এবং ১০ দিন পর তাদের আবার রাস্তায় ছেড়ে দেওয়া হয়। একেকটি নির্বীজকরণের খরচ প্রায় ১,০০০ টাকা।
সুপ্রিম কোর্টের নতুন নির্দেশ অনুযায়ী দিল্লি, নয়ডা, গাজিয়াবাদ, গুরগাঁও ও ফরিদাবাদে ৬-৮ সপ্তাহের মধ্যে অন্তত ৫ হাজার কুকুরের জন্য আশ্রয়কেন্দ্র তৈরি করতে হবে। এখন থেকে ধরা কুকুরকে আর রাস্তায় ফেরানো যাবে না।
১৬ বছর ধরে কুকুরের গণনা হয়নি। এই পরিস্থিতিতে, প্রতিটি কুকুরকে মাইক্রোচিপ বসিয়ে ট্র্যাক করার পরিকল্পনা করছে এমসিডি। প্রতিটি চিপের দাম ১৫০-২০০ টাকা। এতে কুকুরের মেডিক্যাল হিস্ট্রি, টিকাদান ও নির্বীজকরণের তথ্য থাকবে। এই ডেটা পড়তে যে হ্যান্ডহেল্ড স্ক্যানার লাগবে, তার দাম প্রায় ৪ হাজার টাকা।
বর্তমানে এমসিডি প্রতিটি গরুর জন্য গরুশালায় প্রতিদিন ৪০ টাকা খরচ করে। কুকুর আশ্রয়কেন্দ্রের ব্যয় হবে তার তিনগুণ।
বিজেপি সাংসদ মেনকা গান্ধী বলেছেন, এই প্রকল্প কার্যকর করা বাস্তবে অসম্ভব। কেবল আশ্রয়কেন্দ্র তৈরিতেই লাগবে প্রায় ১৫ হাজার কোটি টাকা। তাঁর দাবি, সরকারের নিজস্ব কোনও আশ্রয়কেন্দ্র নেই, সবই বেসরকারি উদ্যোগে চলে। “এটি বাস্তবসম্মত নির্দেশ নয়, কেবল আইনি ও প্রশাসনিক জটিলতা তৈরি করবে,” মন্তব্য তাঁর।
মঙ্গলবার, দিল্লির মেয়র রাজা ইকবাল সিং প্রাণী অধিকার সংগঠনগুলির সঙ্গে বৈঠক করেন। সিদ্ধান্ত হয়েছে - একটি যৌথ কমিটি তৈরি হবে, যাতে থাকবে কর্মী, কাউন্সিলর ও এমসিডি কর্মকর্তা। প্রথমে শুধুমাত্র আক্রমণাত্মক কুকুর ধরা হবে এবং আশ্রয়কেন্দ্রের অবস্থা জনসাধারণ দেখতে ও অংশগ্রহণ করতে পারবে।
৮০ একর জমিতে ঘোঘা ডেয়ারিতে বড় আশ্রয়কেন্দ্র তৈরির ভাবনা চলছে। এছাড়া, দ্বারকা সেক্টর ২৯-ও বিবেচনায় রয়েছে। তবে সবকিছুই নির্ভর করছে সুপ্রিম কোর্টের চূড়ান্ত নির্দেশের উপর।
ইতিমধ্যেই এমসিডি নিজেদের আর্থিক অবস্থা “গুরুতর” বলে উল্লেখ করেছে। বকেয়া বিল, কর্মীদের বেতন, অবসর সুবিধা, ঋণ - সব মিলিয়ে তীব্র অর্থাভাব চলছে। পথকুকুর আশ্রয়কেন্দ্রের ব্যয় সেই চাপ আরও বাড়াবে বলে আশঙ্কা।