ড্রাইভারের সঙ্গে বাড়ি ফিরলেও, ঘটনার দিন শৌর্য স্কুলের পিছনের গেট দিয়ে একাই বেরিয়ে যায় এবং মেট্রো স্টেশনে পৌঁছে আত্মহত্যা করে বলে প্রাথমিকভাবে জানা গেছে।
.jpeg.webp)
দিল্লিতে আত্মঘাতী পড়ুয়া!
শেষ আপডেট: 20 November 2025 15:07
দ্য ওয়াল ব্যুরো: দিল্লির একটি নামী বেসরকারি স্কুলে দশম শ্রেণির ছাত্র শৌর্য পাটেলের মৃত্যু নতুন করে প্রশ্ন তুলছে স্কুলের পরিবেশ এবং শিক্ষক-শিক্ষিকাদের আচরণ নিয়ে। পরিবারের অভিযোগ, মাত্র ১৬ বছরের শৌর্য দীর্ঘদিন ধরে স্কুলে অপমান ও দুর্ব্যবহারের শিকার হচ্ছিল (Delhi school student suicide)। মৃত্যুর দিনও মঞ্চে পড়ে যাওয়ার পর শিক্ষকরা প্রকাশ্যে তাকে বকাঝকা করেন। এই ধারাবাহিক অপমানই তাকে চরম সিদ্ধান্ত নিতে বাধ্য করেছে বলে মনে করেন পরিবারের সদস্যরা।
মঙ্গলবার রাজেন্দ্র প্লেস মেট্রো স্টেশনের ২ নম্বর প্ল্যাটফর্ম থেকে ঝাঁপ দেন শৌর্য (Shourya Patil case)। পুলিশ তাঁর স্কুলব্যাগ থেকে একটি সুইসাইড নোট উদ্ধার করেছে, যেখানে তিনজন শিক্ষকের নাম উল্লেখ করে লেখা ছিল—“ওরা আমাকে বারবার হেনস্তা করেছে।”
শৌর্যের বাবা প্রদীপ পাটেল জানান, প্রায় এক বছর ধরে তাঁদের ছেলে বাড়িতে এসে স্কুলে অপমানের কথা বলত। কিন্তু প্রতিবার স্কুলে অভিযোগ জানাতে গেলে শিক্ষকরা বিষয়টি হেলাফেলা করতেন। উল্টে বলা হত, শৌর্যের পড়ায় মন নেই, ফলে নম্বর কমছে। প্রদীপবাবুর কথায়, “ওর বয়সে মনোযোগ নষ্ট হওয়া খুব স্বাভাবিক। তাই বলে কোনও শিশুকে সবার সামনে অপমান করা যায় না।” তিনি আরও অভিযোগ করেন, একসময় স্কুল থেকে শৌর্যকে ট্রান্সফার সার্টিফিকেট (TC) দেওয়ার হুমকিও দেওয়া হয়েছিল।
ঘটনার দিন স্কুলে সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের রিহার্সাল চলছিল। নাচের অনুশীলনের সময় শৌর্য হঠাৎ পড়ে গেলে সে কান্না শুরু করে। তখন শিক্ষকরা তাকে রিহার্সাল থেকে বাদ দেন। পাশাপাশি অভিযোগ ওঠে, শিক্ষকরা তাকে বলেন—সে ইচ্ছে করে পড়ে গেছে, অভিনয় করছে। এক শিক্ষক তো সরাসরি বলেছিলেন, “যত খুশি কাঁদো, আমার কিছু যায় আসে না।” তখন স্কুলের প্রিন্সিপাল উপস্থিত থাকলেও তিনি কোনও পদক্ষেপ নেননি বলে দাবি পরিবারের।
সাধারণত ড্রাইভারের সঙ্গে বাড়ি ফিরলেও, ঘটনার দিন শৌর্য স্কুলের পিছনের গেট দিয়ে একাই বেরিয়ে যায় এবং মেট্রো স্টেশনে পৌঁছে আত্মহত্যা করে বলে প্রাথমিকভাবে জানা গেছে।
প্রদীপ পাটেলের অভিযোগ, মৃত্যুর আগের চার দিন ধরে একজন শিক্ষক তাঁদের ছেলেকে অভিভাবককে নালিশ ও TC দেওয়ার হুমকি দিচ্ছিলেন। এমনকি একদিন ধাক্কাও দেন। সুইসাইড নোটে শৌর্য লিখেছে, “আমার বাবা-মা আমার জন্য অনেক করেছেন, আমি তাঁদের কিছুই দিতে পারলাম না… আমার পর যেন আর কোনও বাচ্চা এমন সিদ্ধান্ত না নেয়।” শেষ দিকে সে নিজের অঙ্গদানের ইচ্ছাও প্রকাশ করেছে।