শাদাব বেগ ২০০৭ সালে আল ফালাহ বিশ্ববিদ্যালয় (Al Falah University) থেকে ইলেকট্রনিক্সে বি.টেক করেন। তিনি ভারতীয় মুজাহিদিন (IM)-এর গুরুত্বপূর্ণ সদস্য এবং বহু হামলার 'মাস্টারমাইন্ড' হিসেবে পরিচিত।

শাদাব বেগের আল ফালাহ যোগ!
শেষ আপডেট: 20 November 2025 12:51
দ্য ওয়াল ব্যুরো: দিল্লি বিস্ফোরণের তদন্তে আল ফালাহ বিশ্ববিদ্যালয়ের (Al Falah University) নাম জড়িয়েছে। তবে আল ফালাহর জঙ্গি যোগ নতুন নয়, দিল্লি পুলিশ স্পেশাল সেলের (Delhi Police Special Cell) একটি গোপন রিপোর্টে জানা গেল, ২০০৭ ও ২০০৮ সালে দেশের বিভিন্ন বোমা হামলার সঙ্গে যুক্ত অন্যতম 'মোস্ট ওয়ান্টেড' জঙ্গি মির্জা শাদাব বেগ ছিলেন এই বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রাক্তন ছাত্র।
শাদাব বেগ ২০০৭ সালে আল ফালাহ বিশ্ববিদ্যালয় (Al Falah University) থেকে ইলেকট্রনিক্সে বি.টেক করেন। তিনি ভারতীয় মুজাহিদিন (IM)-এর গুরুত্বপূর্ণ সদস্য এবং বহু হামলার 'মাস্টারমাইন্ড' হিসেবে পরিচিত। গত ১৮ বছর ধরে পলাতক এই জঙ্গিকে ২০১৯ সালে শেষবার আফগানিস্তানে দেখা গেছে।
কে এই মির্জা শাদাব বেগ?
উত্তরপ্রদেশের আজমগড়ের বাসিন্দা শাদাব বেগ বিস্ফোরক বানানোয় পারদর্শী ছিলেন। তাঁর ইঞ্জিনিয়ারিংয়ের জ্ঞান ব্যবহার করা হত বিভিন্ন আইইডি (IED) তৈরিতে। তদন্তকারীদের দাবি, তিনি ২০০৭ সালের গোরখপুর বিস্ফোরণ এবং ২০০৮ সালের জয়পুর, আমদাবাদ-সুরাটের ধারাবাহিক বিস্ফোরণের সঙ্গে সরাসরি যুক্ত ছিলেন।
বিস্ফোরণের আগে তিনি কর্নাটকে গিয়ে ডেটোনেটর ও বিস্ফোরক সংগ্রহ করেন এবং সেগুলি রিয়াজ ও ইয়াসিন ভাটকালের হাতে তুলে দিয়েছিলেন। আমদাবাদ-সুরাট হামলার ঠিক ১৫ দিন আগে তিনি শহরে গিয়ে রেকি করেছিলেন, তিনটি আলাদা দল তৈরি করেন- একটি লজিস্টিকস, একটি ট্রেনিং এবং আরেকটি বোমা তৈরির দায়িত্বে ছিল।
২০০৮ সালে ভারতীয় মুজাহিদিন নেটওয়ার্ক ধরা পড়তেই শাদাব পালিয়ে যায়। তাঁর গ্রেফতারের জন্য ১ লক্ষ টাকা পুরস্কার ঘোষণা রয়েছে।
আফগানিস্তান যোগে ফের নতুন প্রশ্ন
দিল্লির লালকেল্লার (Delhi Red Fort Blast) কাছে সাম্প্রতিক বিস্ফোরণের তদন্তেও উঠে এসেছে আফগানিস্তান সংযোগ। স্পেশাল সেলের এক অফিসার জানিয়েছেন, দিল্লিকাণ্ডে শাদাবের জড়িত থাকার সম্ভাবনা উড়িয়ে দেওয়া যাচ্ছে না। "২০০৭–০৮ সালের বিস্ফোরণ চক্র এবং দিল্লি বিস্ফোরণের মধ্যে কোনও যোগ আছে কি না, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে," বলেন তিনি।
এর আগে আল-ফালাহ বিশ্ববিদ্যালয় (Al Falah University) থেকে ধৃত চিকিৎসক মুজাম্মিল শাকিলের ক্ষেত্রেও আফগানিস্তানে জঙ্গি প্রশিক্ষণের তথ্য মিলেছিল। উল্লেখ্য, শাকিল ও শাদাব- দু’জনেই একই বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র ছিলেন।
আল-ফালাহ বিশ্ববিদ্যালয়কে ঘিরে তদন্ত যত এগোচ্ছে, ততই সামনে আসছে জঙ্গি নেটওয়ার্কের আরও স্তর। তদন্তকারী সংস্থার দাবি, এই তথ্যগুলি দেশের একাধিক পুরনো হামলার তদন্তকেও নতুন দিশা দেখাতে পারে।