পাক জঙ্গি সংগঠন জইশ-ই-মহম্মদের (JeM) এক হ্যান্ডলার ‘হানজুল্লা’, বিস্ফোরক বানানোর ভিডিও পাঠিয়েছিল ধৃত চিকিৎসক মুজাম্মিল শাকিলকে। অনুমান করা হচ্ছে, ‘হানজুল্লা’ নামটি ভুয়ো, আসল পরিচয় গোপন রাখতেই এই ছদ্মনাম ব্যবহার করা হয়েছে।
.jpg.webp)
ফাইল ছবি
শেষ আপডেট: 21 November 2025 12:46
দ্য ওয়াল ব্যুরো: আত্মঘাতী হামলার পরিকল্পনা ছিল অনেক আগে থেকেই, সেইমতো প্রস্তুতিও নিচ্ছিল সন্দেহভাজন জঙ্গি-চিকিৎসকরা। দিল্লি বিস্ফোরণের (Delhi Red Fort Blast) তদন্তে এই বিষয়টি আগেই জানিয়েছে এনআইএ। এবার আরও কিছু চাঞ্চল্যকর তথ্য উঠে এল তাদের হাতে। দিল্লির আত্মঘাতী বোমারু উমর কয়েকমাস ধরেই নিয়মিত অনলাইনে ভিডিও (Online Video) বানিয়ে মানুষকে জঙ্গি কার্যকলাপের প্রতি প্রভাবিত করার চেষ্টা করছিল।
জাতীয় তদন্তকারী সংস্থা এনআইএ-র (NIA) তদন্তে জানা গেছে, উমর উন-নবির ভিডিওতে উগ্রপন্থী মতবাদ, আত্মঘাতী হামলাকে 'বীরত্ব' বলে দেখান হত। একাধিক ভিডিওতে ভারত বিরোধী মন্তব্য করেছেন। তিনি আফগান মুজাহিদিন বা তালিবানের উদাহরণ দিয়ে বোঝানোর চেষ্টা করতেন যে সাধারণ মানুষও নাকি 'বিশ্বশক্তি'-কে হারাতে পারে। তদন্তকারীরা এই ধরনের ১২টি ভিডিও উদ্ধার করেছেন। যার মধ্যে একটিতে তাকে বলতে শোনা গেছে, 'যদি আল্লাহর উপর তোমার ভরসা থাকে, তাহলে ভারতকেও হারানো সম্ভব।'
উমর শুধু ভিডিও বানাতেন না, বরং হরিয়ানা’র আল-ফালাহ ইউনিভার্সিটিতে (Al Falah University) তাঁর সঙ্গে যুক্ত 'হোয়াইট কলার' জঙ্গি মডিউলের অন্যান্য সদস্যদের এগুলো পাঠাতেন। এই ভিডিওগুলি শেয়ার করার জন্য তাদের একাধিক গ্রুপ বানানো ছিল, যেখানে আত্মঘাতী হামলা নিয়ে অনলাইন সেশনও নিতেন বলে সন্দেহ।
তদন্তে আরও জানা গেছে, পাক জঙ্গি সংগঠন জইশ-ই-মহম্মদের (JeM) এক হ্যান্ডলার ‘হানজুল্লা’, বিস্ফোরক বানানোর ভিডিও পাঠিয়েছিল ধৃত চিকিৎসক মুজাম্মিল শাকিলকে। অনুমান করা হচ্ছে, ‘হানজুল্লা’ নামটি ভুয়ো, আসল পরিচয় গোপন রাখতেই এই ছদ্মনাম ব্যবহার করা হয়েছে।
সূত্রের খবর, কাশ্মীরের নওগাঁও এলাকায় গত অক্টোবরে যেসব জইশের পোস্টার পাওয়া গিয়েছিল, তাতেও লেখা ছিল- ‘কম্যান্ডার হানজুল্লা ভাই’। সেই পোস্টার পাওয়ার পরই জঙ্গি নেটওয়ার্ক নিয়ে সন্দেহ তৈরি হয় এবং পরবর্তীতে দিল্লি বিস্ফোরণের তদন্তে একই নাম উঠে আসায় বিষয়টি আরও স্পষ্ট হচ্ছে।
এনআইএ এখন এই ‘হানজুল্লা’-র আসল পরিচয় ও অবস্থান খুঁজে বের করার চেষ্টা করছে। বিশেষ করে, কীভাবে এবং কোন মাধ্যমে সে ভারতে থাকা অভিযুক্তদের সঙ্গে যোগাযোগ রাখত, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে। সেই সঙ্গে বিস্ফোরণের পরিকল্পনায় জইশের বড় কোনও নেটওয়ার্ক জড়িত ছিল কি না, তাও অনুসন্ধান করছে তদন্তকারীরা।
দিল্লি বিস্ফোরণকাণ্ডে (Delhi Red Fort Blast) ধৃত জাসির বিলাল ওরফে দানিশের সঙ্গেও ভিডিও শেয়ার করতেন উমর। বেশ কিছু উদ্ধার হওয়া চ্যাট থেকে জানা গেছে, জাসির প্রথমে এই হামলার অংশ নিতে দ্বিধাবোধ করেণ কিন্তু উমর তাঁর ভিডিও দিয়েই জাসিরের 'ব্রেনওয়াশ' করতে সফল হয়।
দিল্লি কাণ্ডের (Delhi Red Fort Blast) কয়েকদিন পর উমরের একটি ভিডিও সোশ্যাল মিডিয়ায় ছড়িয়ে পড়ে। যেখানে তিনি আত্মঘাতী হামলার পক্ষেই নিজের মতামত দিয়েছিলেন। এমনকি এই ধরনের হামলাকে ভুল বোঝা হয় বলেও ব্যখ্যা করেছিলেন।
গত ১০ নভেম্বর দিল্লির লাল কেল্লার কাছে একটি সাদা হুন্ডাই i20 গাড়িতে বিস্ফোরণ হয়। ডিএনএ পরীক্ষায় নিশ্চিত হয়েছে- এই গাড়িতেই আত্মঘাতী হামলা চালিয়েছিলেন উমর। এই ঘটনার কয়েক ঘণ্টা আগেই ফরিদাবাদ থেকে ২ হাজার ৯০০ কেজি বিস্ফোরক উদ্ধার করা হয়েছিল। তদন্তকারীদের অনুমান, চক্রের কয়েকজন গ্রেফতার হওয়ার পরই উমর ভয় পেয়ে আগেভাগে বিস্ফোরণ ঘটিয়ে ফেলেছিলেন। এই আত্মঘাতী হামলায় অন্তত ১৩ জনের মৃত্যু হয়েছে।
তবে তদন্তকারী সংস্থা সূত্রে খবর, আগামী কয়েকমাসের মধ্যেই দেশজুড়ে হামলার পরিকল্পনা ছিল উমরদের। তবে তাঁর এই 'ভুল' সেই চক্রান্ত ভেস্তে দিয়েছে।