বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসকে কেন ও কীভাবে বহু বছর ধরে সন্দেহজনক কার্যকলাপের জন্য ব্যবহার করা হল - সেই রহস্যের উত্তর পাওয়াই এখন তদন্তকারীদের প্রধান লক্ষ্য (Faridabad Police SIT investigation)।

আল-ফালাহ বিশ্ববিদ্যালয়
শেষ আপডেট: 21 November 2025 08:07
দ্য ওয়াল ব্যুরো: দিল্লি বিস্ফোরণ (Delhi Incident) মামলায় ফরিদাবাদের আল-ফালাহ বিশ্ববিদ্যালয়ের গুরুত্ব (Al Falah University Delhi blast link), অবদান বিশদে খতিয়ে দেখতে আরও একধাপ এগোল তদন্ত। বেশিরভাগ ইঙ্গিত বলছে, বিশ্ববিদ্যালয়টি দীর্ঘদিন ধরে এক চরমপন্থী মডিউলের ঘাঁটি হিসেবে কাজ করছিল, এমনই সন্দেহে বৃহস্পতিবার বিশেষ তদন্ত দল বা SIT গঠন করল ফরিদাবাদ পুলিশ (Faridabad Police SIT investigation)। এই ঘটনার পর সমান্তরালভাবে একাধিক কেন্দ্রীয় সংস্থা–সহ রাষ্ট্রীয় নিরাপত্তা ব্যবস্থাও নড়েচড়ে বসেছে।
পুলিশ জানিয়েছে, দুইজন ACP-এর নেতৃত্বে গঠিত SIT–এর সঙ্গে রয়েছেন এক ইনস্পেক্টর এবং দুই সাব-ইনস্পেক্টর। দলটি বিশ্ববিদ্যালয়ের সামগ্রিক কাজকর্ম, তহবিলের উৎস, ক্যাম্পাসে থাকা সন্দেহজনক নেটওয়ার্ক - সব দিক খতিয়ে দেখতে শুরু করেছে। বিশেষত, ধৃত চিকিৎসকরা কীভাবে বিশ্ববিদ্যালয়কে নিরাপদ আশ্রয় হিসেবে বহু বছর ধরে ব্যবহার করল, কীভাবে বিস্ফোরক সংগ্রহ, মজুত ও ফরিদাবাদ থেকে দিল্লিতে পৌঁছে দিল - এসব প্রশ্নের উত্তর খোঁজা হচ্ছে।
ফরিদাবাদ পুলিশের মুখপাত্র বলেন, “আল-ফালাহ বিশ্ববিদ্যালয়ের সঙ্গে দিল্লি বিস্ফোরণের যে যোগসূত্র পাওয়া গেছে, তার তদন্তে SIT গঠন করা হয়েছে। দলটি সব দিকেই তদন্ত শুরু করেছে।”
বিশ্ববিদ্যালয়কে ‘ঘাঁটি’ তৈরি করার নেপথ্যে কে? কীভাবে বজায় থাকল অদৃশ্য নেটওয়ার্ক?
ফরিদাবাদের পুলিশ কমিশনার SIT-কে নির্দেশ দিয়েছেন খতিয়ে দেখতে যে, বিশ্ববিদ্যালয়ের পরিবেশ কীভাবে এমন একটি মডিউলকে এত বছর অচিহ্নিতভাবে সক্রিয় থাকতে দিল। তদন্তকারীরা ক্যাম্পাসের তহবিল চ্যানেল, সন্দেহভাজনদের যাতায়াত, পাশের গ্রামগুলির সম্ভাব্য ‘স্থানীয় সমর্থন’, এমনকি মামলার পর নিখোঁজ হয়ে যাওয়া একাধিক শিক্ষক-শিক্ষাকেও তালিকাভুক্ত করছেন।
মঙ্গলবার বিশ্ববিদ্যালয় পরিদর্শনে গিয়ে হরিয়ানা DGP ওপি সিংহ সরাসরি উদ্বেগ প্রকাশ করেন। তাঁর কথায়, “অভ্যন্তরীণ নিরাপত্তা ব্যবস্থার ধসে পড়া অত্যন্ত চিন্তার বিষয়।” তিনি ফরিদাবাদের জেলা প্রশাসন ও পুলিশ কমিশনারকে ব্যক্তিগতভাবে নজরদারি ও নেতৃত্বে থাকার নির্দেশ দেন।
বিস্ফোরকের উৎস: ফরিদাবাদের ধাউজ গ্রাম?
প্রাথমিক তদন্তে ইঙ্গিত মিলেছে, দিল্লির বিস্ফোরণে ব্যবহৃত বিস্ফোরক সম্ভবত এসেছে ফরিদাবাদের ধাউজ গ্রাম থেকে। SIT এখন সেই পথটিই গোপনে অনুসরণ করছে। বিস্ফোরক সংগ্রহ থেকে শুরু করে পরিবহণ পর্যন্ত প্রতিটি ধাপে কারা সাহায্য করেছিল, কোথায় নজরদারির ফাঁক ছিল - সব বিষয় খতিয়ে দেখা হচ্ছে।
উত্তর অঞ্চলের আন্তঃবিশ্ববিদ্যালয় টুর্নামেন্ট থেকেও বাদ পড়ল আল-ফালাহ
তদন্তের আঁচ পড়েছে বিশ্ববিদ্যালয়ের অন্যান্য ক্ষেত্রেও। আলিগড় মুসলিম বিশ্ববিদ্যালয় আয়োজিত নর্থ জোন ইন্টার-ইউনিভার্সিটি ক্রিকেট টুর্নামেন্ট থেকে আল-ফালাহ বিশ্ববিদ্যালয়কে সরিয়ে দেওয়া হয়েছে। উত্তর ভারতের ৮৪টি বিশ্ববিদ্যালয় এই টুর্নামেন্টে অংশ নেয়। ২২ নভেম্বর আল-ফালাহ ও মানব রচনা বিশ্ববিদ্যালয়ের মধ্যে ম্যাচ হওয়ার কথা ছিল। তদন্ত ও নিরাপত্তাজনিত উদ্বেগের কারণে তা বাতিল করা হয়েছে।
ফরিদাবাদ পুলিশ ইতিমধ্যেই বিভিন্ন সংস্থার সঙ্গে যৌথভাবে তদন্ত এগিয়ে নিয়ে যাচ্ছে। বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসকে কেন ও কীভাবে বহু বছর ধরে সন্দেহজনক কার্যকলাপের জন্য ব্যবহার করা হল - সেই রহস্যের উত্তর পাওয়াই এখন তদন্তকারীদের প্রধান লক্ষ্য।