দিল্লির বায়ুদূষণে ফের রেকর্ড অবনতি। ঘন ধোঁয়াশায় ঢেকে রাজধানী, এয়ার কোয়ালিটি ইনডেক্স ছুঁল ভয়াবহ মাত্রা। তবুও আপাতত নতুন কোনও বিধি নিষেধ জারি করছে না প্রশাসন।

ফাইল ছবি
শেষ আপডেট: 10 November 2025 09:31
দ্য ওয়াল ব্যুরো: দিল্লিতে ফের রেকর্ড মাত্রায় বেড়েছে বায়ুদূষণ। ঘন ধোঁয়াশায় ঢেকে গেছে শহর, তাপমাত্রাও স্বাভাবিকের তুলনায় অনেকটা কম। দূষণ পরিস্থিতি আরও খারাপ হওয়ায় রবিবার সন্ধ্যায় ইন্ডিয়া গেটে প্রতিবাদে নামে দিল্লিবাসী। সেখানে হাজির ছিলেন বহু অভিভাবক ও তাঁদের সন্তানরাও। সকলের দাবি, দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ করুক সরকার।
কেন্দ্রীয় দূষণ নিয়ন্ত্রণ পর্ষদের (CPCB) তথ্য অনুযায়ী, সোমবার সকাল ৭টায় দিল্লির এয়ার কোয়ালিটি ইনডেক্স (AQI) ছিল ৩৫৪, যা ‘খুবই খারাপ’ (Very Poor) শ্রেণিতে পড়ে। এই পরিস্থিতিতে রাজধানী ‘রেড জোন’-এ প্রবেশ করেছে। রবিবার AQI ছিল ৩৯০, অর্থাৎ একই শ্রেণির মধ্যে আরও খারাপ অবস্থায় ছিল দিল্লি।
তবে শহরের বেশ কয়েকটি মনিটরিং স্টেশন এখনও ‘গুরুতর’ দূষণ স্তর দেখাচ্ছে। আনন্দ বিহারে AQI ছিল ৩৭৯, আইটিও-তে ৩৭৬, চাঁদনি চক ৩৬০, ওখলা ফেজ-২ ৩৪৮, জওহরলাল নেহরু স্টেডিয়াম ৩১৬ এবং দিল্লি বিমানবন্দরের টার্মিনাল ৩-এ ৩০৫।
নয়ডার সেক্টর ৬২-তে AQI রেকর্ড হয়েছে ৩৪২, সেক্টর ১-এ ৩২৫ এবং সেক্টর ১১৬-এ ৩৩৯। গ্রেটার নয়ডার নলেজ পার্ক-III এবং V-তে AQI যথাক্রমে ৩১৬ ও ৩১৪।
গুরুগ্রামের সেক্টর ৫১-এ AQI রেকর্ড হয়েছে ৩২৭। ফারিদাবাদের নিউ ইন্ডাস্ট্রিয়াল টাউন এবং সেক্টর ১১ তুলনামূলকভাবে কিছুটা ভালো অবস্থায় রয়েছে, যথাক্রমে ২৩০ ও ২৩৮।
রবিবার দিল্লির সর্বোচ্চ তাপমাত্রা ছিল ২৮.১ ডিগ্রি সেলসিয়াস, যা স্বাভাবিকের থেকে ১.৪ ডিগ্রি কম। সর্বনিম্ন তাপমাত্রা ছিল ১১.৭ ডিগ্রি। চলতি মরশুমের সর্বনিম্ন তাপমাত্রা ১১ ডিগ্রি রেকর্ড হয়েছিল শনিবার।
আবহাওয়া দফতরের পূর্বাভাস অনুযায়ী, আগামী কয়েক দিন দিল্লির বায়ু মান ‘খুবই খারাপ’ অবস্থাতেই থাকবে। দীপাবলির পর থেকে রাজধানী ক্রমাগত ‘খারাপ’ থেকে ‘খুবই খারাপ’ শ্রেণিতে ঘুরপাক খাচ্ছে, মাঝেমধ্যে ‘গুরুতর’ স্তরেও পৌঁছচ্ছে।
রবিবার সন্ধ্যায় ইন্ডিয়া গেটে এই দূষণবিরোধী বিক্ষোভে অংশ নেন শতাধিক মানুষ, যাঁদের মধ্যে ছিলেন অভিভাবক, শিশু ও পরিবেশকর্মীরা। তাঁদের দাবি, রাজধানীর বায়ুদূষণ রোধে দ্রুত পদক্ষেপ করুক প্রশাসন।
দিল্লি পুলিশের ডেপুটি কমিশনার (দিল্লি) দেবেশ কুমার মাহলা জানিয়েছেন, “ইন্ডিয়া গেটে বিক্ষোভের অনুমতি ছিল না। শুধুমাত্র জনতার মঞ্চই নির্ধারিত বিক্ষোভস্থল। তাই কয়েকজনকে আটক করা হয়। এটি সম্পূর্ণ প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থা।”