বিষাক্ত বাতাসে ঢেকে গিয়েছে দিল্লি। এয়ার কোয়ালিটি ইনডেক্স ছাড়িয়েছে ৩৫০, দৃশ্যমানতা নেমেছে ২০০ মিটারের নীচে। বাড়ছে শ্বাসকষ্ট ও হৃদরোগের সমস্যা।

ফাইল ছবি
শেষ আপডেট: 9 November 2025 11:02
দ্য ওয়াল ব্যুরো: আবারও ধোঁয়া আর কুয়াশায় ঢেকে গিয়েছে দিল্লির আকাশ। রবিবার সকাল থেকে লোধি রোড, অক্ষরধাম, ইন্ডিয়া গেট-সহ শহরের একাধিক এলাকায় কার্যত দূরের কিছু দেখা যাচ্ছে না। সেন্ট্রাল পলিউশন কন্ট্রোল বোর্ড (CPCB)-এর তথ্যানুসারে, দিল্লির এয়ার কোয়ালিটি ইনডেক্স (AQI) বিভিন্ন জায়গায় ৩৭৭ থেকে ৪১২-র মধ্যে ঘোরাফেরা করছে। ‘ভেরি পুওর’ থেকে ‘সিভিয়র’— দুই শ্রেণিতেই পড়ছে এই মান, যা নিরাপদ সীমার বহু গুণ বেশি।
শহরতলির আলিপুর, আনন্দ বিহার, অশোক বিহার ও বাওয়ানা এলাকাতেও AQI ছাড়িয়েছে ৪০০। পাশের শহর নয়ডা ও গাজিয়াবাদেও একই পরিস্থিতি। প্রচুর রিল-ভিডিও সোশ্যাল মিডিয়ার মাধ্য়মে সামনে আসছে, যেখানে এয়ার পিউরিফায়ারের ফিল্টার একদিনে বা এক বেলায় ভর্তি হয়ে যাচ্ছে। ফিল্টারে মোটা ধুলোর স্তর পড়ে যেতে দেখা যাচ্ছে। বিভিন্ন রিপোর্ট বলছে, দিল্লিতে বেড়েছে এয়ার ফিল্টার বা পিউরিফায়ারের চাহিদা। ফুসফুস বাঁচাতে ঘরে ঘরে এই যন্ত্রই ভরসা।
তবে, চিকিৎসকদের আশঙ্কা, এই পিওরিফায়ার ঘরে কাজ করছে ঠিকই, বাইরে তো এসব নেই। স্কুল-কলেজ থেকে অফিস যাদের রোজ যেতে হচ্ছে, তাদের কী হবে!
বিশেষজ্ঞদের মতে, এই মাত্রার দূষিত বাতাসে প্রতিদিন কয়েকটি সিগারেট খাওয়ার সমান ক্ষতি হচ্ছে। অনেক এলাকায় দৃশ্যমানতা নেমে গিয়েছে ২০০ মিটারের নীচে। এতে ট্র্যা ফিকের সমস্যা বাড়ার পাশাপাশি শ্বাসকষ্ট, বুকজ্বালা, এমনকি হৃদরোগের ঝুঁকিও বাড়ছে। সরকারি হাসপাতালগুলোতে শ্বাসকষ্টজনিত রোগীর সংখ্যা বাড়তে শুরু করেছে বলে জানাচ্ছেন চিকিৎসকরা।
সরকারের উদ্যোগ
এই মারাত্মক পরিস্থিতিতে মুখ্যমন্ত্রী রেখা গুপ্তার নেতৃত্বাধীন দিল্লি সরকার ঘোষণা করেছে, প্রধনমন্ত্রী উজ্জ্বলা যোজনার (PMUY) আওতায় গ্যাস দেওয়া হবে শহরের বস্তিগুলোতেও। তাতে উনুন বা অন্য কিছু জ্বালিয়ে রান্নার প্রবণতা কমবে। যেসব পরিবার এখনও কাঠ বা কয়লা ব্যবহার করে রান্না করেন, তাদের গ্যাস দিলে দূষণ খানিকটা কমতে পারে। পাশাপাশি স্বাস্থ্য সুরক্ষাই এই উদ্যোগের লক্ষ্য বলে জানিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী। এর জন্য দিল্লি আরবান শেল্টার ইমপ্রুভমেন্ট বোর্ডকে (DUSIB) শহরজুড়ে জরিপ চালানোর নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
দূষণ রোধে বাড়তি পদক্ষেপ
রাজ্য প্রশাসনের তরফে সাফাই অভিযান আরও জোরদার করা হয়েছে। রাস্তায় ধুলো কমাতে চলছে জলের গাড়ি, মেকানিক্যাল ক্লিনিং ও রোড রিপায়ারিং। শহরের প্রতিটি ওয়ার্ডে মোতায়েন করা হয়েছে মেইনটেন্যান্স ভ্যান। স্থানীয় প্রশাসনকে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে, সব পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা সংক্রান্ত সম্পদ যেন ব্যবহার করা হয়।
সরকারি সূত্রে খবর, আগামী কয়েকদিন দিল্লির বাতাস ‘ভেরি পুওর’ শ্রেণিতেই থাকবে বলে অনুমান করছে এয়ার কোয়ালিটি আর্লি ওয়ার্নিং সিস্টেম। পরিস্থিতি আরও খারাপ হলে জারি হতে পারে গ্রেডেড রেসপন্স অ্যাকশন প্ল্যান (GRAP)-এর তৃতীয় ধাপের নিষেধাজ্ঞা।
রাজধানীতে দূষণ এখন জনস্বাস্থ্যের সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জগুলির একটি। দূষণ মোকাবিলায় তাৎক্ষণিক ও দীর্ঘমেয়াদি, দুই দিকেই সমন্বিত ব্যবস্থা নেওয়ার আশ্বাস দিয়েছে সরকার। তবে এখনই যা অবস্থা, তাতে পরিস্থিতি দ্রুত ভাল হবে, তা আশা করা যাচ্ছে না। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, শুধু প্রশাসন নয়, সাধারণ মানুষকেও সচেতন হতে হবে, পদক্ষেপ করতে হবে দ্রুত।