পুলিশি জিজ্ঞাসাবাদে উঠে এসেছে, এই চক্রটি গত এক থেকে দেড় বছর ধরে সক্রিয় ছিল। একাধিক শহরে ছড়িয়ে থাকা দালালদের মাধ্যমে এই অবৈধ ব্যবসা চলছিল বলে জানা গিয়েছে।

বড়সড় ওষুধ কেলেঙ্কারির পর্দাফাঁস করল দিল্লি পুলিশ
শেষ আপডেট: 5 April 2026 18:50
দ্য ওয়াল ব্যুরো: সরকারি হাসপাতালে বিনামূল্যে বিতরণের জন্য বরাদ্দ ওষুধ চুরি এবং তারপর তা বাজারে বিক্রি করার একটি সংগঠিত চক্রের হদিস মিলেছে দিল্লিতে (Delhi Government hospital medicine scam)। এমনই এক বড়সড় ওষুধ কেলেঙ্কারির পর্দাফাঁস করল দিল্লি পুলিশ (government drugs illegal sale India)। এই ঘটনায় প্রায় ৭০ লক্ষ টাকার ওষুধ উদ্ধার হয়েছে (Delhi Crime Branch raid medicines) এবং এখনও পর্যন্ত পাঁচজনকে গ্রেফতার করা হয়েছে বলে জানা গিয়েছে।
দিল্লি পুলিশের ক্রাইম ব্রাঞ্চ সূত্রে জানা গিয়েছে, নির্দিষ্ট গোপন তথ্যের ভিত্তিতে বৃহস্পতিবার তিস হাজারির জয় ভারত ট্রান্সপোর্ট এলাকায় ফাঁদ পাতে পুলিশ। সেখানে অভিযান চালিয়ে নীরজ কুমার, সুশীল কুমার এবং লক্ষ্মণ মুখিয়া - এই তিন অভিযুক্তকে হাতেনাতে ধরা হয়।
তাঁদের কাছ থেকে বিপুল পরিমাণ ওষুধ উদ্ধার করা হয়, যা একটি মাহিন্দ্রা টেম্পো এবং একটি হ্যাচব্যাক গাড়িতে করে পাচার করা হচ্ছিল। উদ্ধার হওয়া ওষুধগুলির গায়ে স্পষ্ট লেখা ছিল, “GOVT. SUPPLY NOT FOR SALE” - যা থেকেই বোঝা যায়, এগুলি সরকারি সরবরাহের ওষুধ, যা বাজারে বিক্রির জন্য নয়।
জিজ্ঞাসাবাদে ফাঁস চক্রের জাল
পুলিশি জিজ্ঞাসাবাদে উঠে এসেছে, এই চক্রটি গত এক থেকে দেড় বছর ধরে সক্রিয় ছিল। একাধিক শহরে ছড়িয়ে থাকা দালালদের মাধ্যমে এই অবৈধ ব্যবসা চলছিল বলে জানা গিয়েছে।
তদন্তে আরও জানা যায়, দিল্লির দীন দয়াল উপাধ্যায় হাসপাতালের এক ফার্মাসিস্ট বা স্টোরকিপার বিনেশ কুমার এবং চুক্তিভিত্তিক কর্মী প্রকাশ মেহতো এই চক্রের সঙ্গে যুক্ত। তাঁরা হাসপাতালের স্টক থেকে রেকর্ডে কারচুপি করে ওষুধ সরিয়ে ফেলতেন।
এই তথ্যের ভিত্তিতে ওই দু’জনকেও গ্রেফতার করা হয়েছে।
কী কী ওষুধ উদ্ধার হয়েছে?
উদ্ধার হওয়া ওষুধের মধ্যে রয়েছে একাধিক উচ্চমূল্যের অ্যান্টিবায়োটিক ও জরুরি চিকিৎসায় ব্যবহৃত গুরুত্বপূর্ণ ওষুধ। এর মধ্যে উল্লেখযোগ্য -
এই ধরনের ওষুধ সাধারণত গুরুতর রোগের চিকিৎসায় ব্যবহৃত হয় এবং সরকারি হাসপাতালে বিনামূল্যে দেওয়া হয়।
চক্রের মূল হোতা কে?
পুলিশ জানিয়েছে, মূল অভিযুক্ত নীরজ কুমার উত্তরপ্রদেশের সাহারানপুরের এক পাইকারি ওষুধ ব্যবসায়ী। তিনিই এই চক্রের প্রধান রিসিভার এবং ডিস্ট্রিবিউটর হিসেবে কাজ করতেন। অন্য অভিযুক্তরা পরিবহণ এবং হাসপাতাল থেকে ওষুধ সরানোর দায়িত্বে ছিল।
এই ঘটনায় ব্যবহৃত সমস্ত ওষুধ এবং গাড়ি বাজেয়াপ্ত করা হয়েছে। ক্রাইম ব্রাঞ্চ থানায় মামলা দায়ের হয়েছে। পুলিশ এখন আর্থিক লেনদেনের খোঁজখবর নিচ্ছে, পাশাপাশি এই চক্রে আর কারা জড়িত তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে।
সরকারি সম্পদের অপব্যবহারের বিরুদ্ধে কড়া বার্তা
পুলিশের মতে, এই অভিযানে একটাই বার্তা স্পষ্ট, সরকারি সম্পদের অপব্যবহার রুখতে এবং প্রকৃত প্রাপকদের কাছে প্রয়োজনীয় ওষুধ পৌঁছে দিতে তারা কতটা তৎপর।
এই কেলেঙ্কারি সামনে আসায় প্রশ্ন উঠছে, সরকারি হাসপাতালের ভিতরে কীভাবে এত বড় মাত্রায় ওষুধ পাচার সম্ভব হল?