স্বামীর দেহের কাটাছেঁড়া চান না, এই কথা বলেই ময়নাতদন্তে আপত্তি জানান সুস্মিতা। করণের পরিবারও সুস্মিতার কথায় সায় দিয়ে ময়নাতদন্ত না করানোর সিদ্ধান্ত নেয়। কিন্তু পুলিশের বিষয়টি সন্দেহজনক মনে হয়। করণের মৃত্যুকে দুর্ঘটনা মানতে চায়নি তারা।
_2.jpg.webp)
ইনস্টা চ্যাটই ফাঁস করল খুনের গল্প
শেষ আপডেট: 19 July 2025 17:20
দ্য ওয়াল ব্যুরো: প্রথমে মনে হয়েছিল বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হয়ে দুর্ঘটনাবশত মৃত্যু হয়েছে দিল্লির বাসিন্দা করণ দেবের (Karan Dev Murder Case)। পরিবারও মেনে নিয়েছিল বিষয়টি। কিন্তু কয়েকদিনের মধ্যেই সেই ঘটনাই চাঞ্চল্যকর মোড় নিল। স্ত্রী এবং খুড়তুতো ভাইয়ের মধ্যে গোপন সম্পর্ক এবং একটি ইনস্টাগ্রাম চ্যাট ঘেঁটে উঠে এল ভয়ঙ্কর তথ্য। দিল্লির উত্তমনগরে ৩৬ বছর বয়সি করণ দেবকে পরিকল্পনা করে খুন করা হয়েছে। অভিযোগের ভিত্তিতে গ্রেফতার করা হয়েছে স্ত্রী সুস্মিতা ও রাহুলকে।
গত ১৩ জুলাই সকালে পশ্চিম দিল্লির জনকপুরির একটি হাসপাতালে করণ দেবকে মৃত বলে ঘোষণা করা হয়। সুস্মিতা জানিয়েছিলেন, করণ বাড়িতে বিদ্যুৎস্পৃষ্ট (Accidental electrocution) হয়ে মারা গিয়েছেন। স্বামীর দেহের কাটাছেঁড়া চান না, এই কথা বলেই ময়নাতদন্তে আপত্তি জানান তিনি। করণের পরিবারও সুস্মিতার কথায় সায় দিয়ে ময়নাতদন্ত না করানোর সিদ্ধান্ত নেয়। কিন্তু পুলিশের বিষয়টি সন্দেহজনক মনে হয়। করণের মৃত্যুকে দুর্ঘটনা মানতে চায়নি তাঁরা। তাই নিয়ম মেনে হরিনগরে দীনদয়াল উপাধ্যায় হাসপাতালে মৃতদেহ ময়নাতদন্তের জন্য পাঠানো হয়।
করণের মৃত্যুর তিনদিন পর অর্থাৎ ১৬ জুলাই এই ঘটনা অন্য মোড় নেয়। করণের ভাই কুনাল দেব রাহুলের ফোনে ইনস্টাগ্রামে তাঁর বৌদি সুস্মিতার একটি চ্যাট খুঁজে পান। সেখানেই স্পষ্ট হয়ে যায় পরিকল্পনা করেই করণকে খুন করা হয়েছে। খুড়তুতো দাদা ও বৌদির কথোপকথন নিজের ফোনে ভিডিয়ো করে পুলিশের হাতে তুলে দেন কুণাল। তারপরই শুরু হয় থানায় ডেকে জিজ্ঞাসাবাদ এবং উঠে আসে লোমহর্ষক তথ্য।
পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, ১২ জুলাই রাতে করণের খাবারের সঙ্গে ১৫টি ঘুমের ওষুধ মিশিয়ে দিয়েছিলেন সুস্মিতা। কিন্তু কিছুটা সময় পেরিয়ে গেলেও করণ অচেতন না হওয়ায় ঘাবড়ে যান তিনি। এরপর ইনস্টাগ্রাম চ্যাটে রাহুলকে মেসেজ পাঠিয়ে তিনি লেখেন, 'একবার দেখে নাও, ওষুধ খাওয়ার কতক্ষণ পর মারা যায়। ও তো খাওয়ার তিন ঘণ্টা হয়ে গিয়েছে। এখনও কিছুই হয়নি। এখন কী করব বলো, কিছু পরামর্শ দাও।'
রাহুল উত্তর দেন, 'যদি কিছু না বুঝতে পারো, তাহলে ওকে একটা ইলেকট্রিক শক দাও।' সুস্মিতা ফের লেখেন, 'শক দিতে গেলে ওকে কীভাবে বাঁধব?' রাহুলের উত্তর আসে, 'টেপ দিয়ে।'
পরবর্তী কথোপকথনে দেখা যায়, সুস্মিতা জানান, 'ওর (করণের) শ্বাস খুব ধীরে চলছে।' রাহুল লেখেন, 'তুমি যেটুকু ওষুধ আছে সব দিয়ে দাও।' তাতে সুস্মিতা লেখেন, 'ওর মুখ খুলছে না। জল ঢেলে দিতে পারি, কিন্তু ওষুধ দেওয়া যাচ্ছে না। তুমি চলে আসো, একসঙ্গে চেষ্টা করলে হয়তো কাজ শেষ করতে পারব।'
পুলিশের দাবি, অভিযুক্তরা চেয়েছিল ঘটনাটিকে একটি দুর্ঘটনা হিসেবে চালিয়ে দিতে। প্রথমে ঘুমের ওষুধ দিয়ে অজ্ঞান করে, তারপর করণকে ইলেকট্রিক শক দিয়ে খুন করা হয়। গোটা ঘটনাটিকেই ‘বাড়িতে বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হওয়া’ প্রমাণ করতে চেয়েছিলেন তাঁরা।
স্বামীর খুনের পর নিজেই পাশের ফ্ল্যাটে থাকা শ্বশুরবাড়ির লোকজনকে গিয়ে সুস্মিতা জানান, করণ নাকি বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হয়েছেন। সাড়া দিচ্ছেন না। তাঁরা দ্রুত করণকে হাসপাতালে নিয়ে যান। সেখানে চিকিৎসকেরা তাঁকে মৃত বলে ঘোষণা করেন।
১৬ জুলাই কুণাল দেব পুলিশকে ইনস্টাগ্রাম চ্যাটের ভিডিয়ো এবং তথ্য দিয়ে অভিযোগ করেন, তাঁর দাদা করণকে খুন করেছেন সুস্মিতা ও রাহুল। অভিযোগ পাওয়ার পরে পুলিশ তদন্ত শুরু করে এবং দু’জনকে আটক করে জিজ্ঞাসাবাদ করে।
প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদেই দু’জন খুনের কথা স্বীকার করে নেয় বলে জানিয়েছে পুলিশ। সূত্রে খবর, জেরার মুখে সুস্মিতা বলেন, করণ প্রায়শই তাঁকে মারধর করতেন। এছাড়াও প্রায়ই টাকাপয়সা চেয়ে মানসিক ও শারীরিক নির্যাতন করতেন। এসব সহ্য করতে না পেরে রাহুলের সঙ্গে মিলে করণকে খুনের ছক কষেছিলেন সুস্মিতা। পুলিশ সূত্রে আরও জানা গিয়েছে, বেশ কিছু সময় ধরেই দেওর রাহুলের সঙ্গে বিবাহ বহির্ভূত সম্পর্কে ছিলে সুস্মিতা। করণের অবর্তমানে নিয়মিত তাঁদের বাড়িতে যাওয়া-আসা ছিল রাহুলের। এই মুহূর্তে ধৃত দু’জন পুলিশি হেফাজতে রয়েছে। আরও কেউ এই ঘটনায় যুক্ত কি না তা তদন্ত করে খতিয়ে দেখা হচ্ছে।