নাবালিকা আদালতে বয়ান বদলালেও যৌন নির্যাতনের মামলায় সাজা খারিজ হয় না—২০১৬ সালের মামলায় দোষীর ২০ বছরের কারাবাস বহাল রেখে স্পষ্ট বার্তা দিল দিল্লি হাইকোর্ট।

ছবি: দ্য ওয়াল
শেষ আপডেট: 28 December 2025 09:45
দ্য ওয়াল ব্যুরো: পারিবারিক চাপ বা ভবিষ্যতের অনিশ্চয়তার ভয়ে যদি কোনো যৌন নির্যাতনের শিকার নাবালিকা আদালতে বয়ান বদল করে, তবে তার অর্থ এই নয় যে অপরাধী মুক্তি পেয়ে যাবে। ২০১৬ সালের একটি ধর্ষণ মামলায় সাজাপ্রাপ্ত এক ব্যক্তির আপিল খারিজ করে এই কড়া বার্তা দিল দিল্লি হাইকোর্ট।
২০১৬ সালের মার্চ মাসে মাত্র ১২ বছর বয়সী এক নাবালিকা অভিযোগ করেছিল যে, মাঝরাতে ঘুমন্ত অবস্থায় তার সৎ বাবা তাকে যৌন নির্যাতন করেছে। ঘটনার পর সে তার মাকে সব জানায় এবং পুলিশে অভিযোগ দায়ের করা হয়। কিন্তু মামলার বিচার চলাকালীন ওই নাবালিকা, তার মা এবং বোন সকলেই তাদের আগের বয়ান থেকে সরে দাঁড়ান। অভিযুক্ত ব্যক্তি দাবি করেছিলেন যে, যেহেতু মূল সাক্ষী (ভুক্তভোগী) নিজেই অভিযোগ সমর্থন করছেন না, তাই তাঁকে ছেড়ে দেওয়া উচিত।
বিচারপতি অমিত মহাজন এই যুক্তি খারিজ করে দেন। আদালত জানায়, একজন শিশু যখন এমন একজনের বিরুদ্ধে সাক্ষ্য দেয় যে তার অন্ন-বস্ত্রের সংস্থান করে, তখন সে এক ভয়াবহ মানসিক দ্বন্দ্বে ভোগে। আশ্রয় হারানো বা সামাজিক অপবাদের ভয়ে অনেক সময় ভুক্তভোগীরা সত্য গোপন করতে বাধ্য হয়।
আদালত স্পষ্ট করে দিয়েছে যে, পকসো আইনে অভিযুক্তের অপরাধের প্রাথমিক অনুমান কেবল সাক্ষীর বয়ান বদলানোর কারণে মুছে যায় না, বিশেষ করে যখন হাতে শক্তিশালী বৈজ্ঞানিক প্রমাণ (scientific evidence) থাকে।
আদালতের মতে, কোনো শিশুর ওপর তার নির্যাতনকারীকে বাঁচানোর দায়ভার চাপিয়ে দেওয়া কোনওভাবেই সমর্থনযোগ্য নয়। দিল্লি হাইকোর্ট আরও মনে করিয়ে দিয়েছে যে, পকসো আইন অনুযায়ী পুলিশ বা বিশেষ জুভেনাইল ইউনিটের দায়িত্ব হলো ভুক্তভোগী শিশুকে অবিলম্বে নিরাপদ আশ্রয় বা শেল্টার হোমে পাঠানোর ব্যবস্থা করা, যাতে সে কোনও ধরনের প্রভাব বা চাপের শিকার না হয়।