এক নাবালিকাকে যৌন হেনস্তায় অভিযুক্তের জামিনের আবেদন খারিজ করে দিল দিল্লি হাইকোর্ট। বিচারপতি গিরিশ কাঠপালিয়া অভিযুক্তের সঙ্গে নাবালিকার আগেভাগে পরিচয় ছিল এবং যৌনকর্মে তার সম্মতি ছিল, এই যুক্তিও খারিজ করে দিয়েছেন।

প্রতীকী ছবি।
শেষ আপডেট: 25 July 2025 17:28
দ্য ওয়াল ব্যুরো: নিছক বন্ধুত্বের খাতিরে কোনও মেয়ের বিনা অনুমতিতে তাঁর সঙ্গে যৌনকর্ম করার অধিকার জন্মায় না। একথা বলে এক নাবালিকাকে যৌন হেনস্তায় অভিযুক্তের জামিনের আবেদন খারিজ করে দিল দিল্লি হাইকোর্ট। বিচারপতি গিরিশ কাঠপালিয়া অভিযুক্তের সঙ্গে নাবালিকার আগেভাগে পরিচয় ছিল এবং যৌনকর্মে তার সম্মতি ছিল, এই যুক্তিও খারিজ করে দিয়েছেন। আদালত বলেছে, নাবালিকার ক্ষেত্রে তার সম্মতিকেও আইন স্বীকৃতি দেয় না।
আদালত বলে, কোনও মেয়ের সঙ্গে একটি ছেলের বন্ধুত্ব হতেই পারে। তাই বলে মেয়েটির অনুমতি ছাড়া তার সঙ্গে সঙ্গম করার অধিকার থাকে না ছেলেটির। এমনকী মেয়েটি যদি নাবালিকা হয়, তাহলে তার সম্মতিও আইনস্বীকৃত নয়। মেয়েটির নির্দিষ্ট অভিযোগের উপর গুরুত্ব দিয়ে আদালত বলেছে, এফআইআর এবং জিজ্ঞাসাবাদের সময় মেয়েটি বারবার বলে তার নিষেধ করা সত্ত্বেও ছেলেটি একাধিকবার তার যৌন হেনস্তা করে।
রায়ে আদালত বলেছে, অভিযুক্ত তার মিষ্টি কথায় তার সঙ্গে বন্ধুত্ব পাতিয়েছিল। এফআইআরে নির্যাতিতা এই কথা বলে থাকলেও তার সঙ্গে সম্মতিতে যৌন সঙ্গম করার অধিকারের কোনও তালমিল খুঁজে পাচ্ছি না আমি, বলেন বিচারপতি। ফলে এই মামলায় অভিযুক্তকে জামিন দেওয়ার কোনও কারণ দেখছি না। এই বলে ছেলেটির জামিনের আবেদন খারিজ করে দিয়েছে আদালত।
মামলার বিবরণে রয়েছে, অভিযুক্ত হল একজন নির্মাণ শ্রমিক। বিকাশপুরীতে এনডিএমসি ফ্ল্যাট তৈরিতে সে কাজ করছিল। ২০২৩ সালে একটি মেয়ের সঙ্গে বন্ধুত্ব পাতায়। এবং তাকে ধর্ষণ করে। মেয়েটিকে এসব কথা ফাঁস করার ভয় দেখিয়ে সে নভেম্বর পর্যন্ত লাগাতার ধর্ষণ করতে থাকে। ছেলেটির দাবি, মেয়েটি সেই সময় নাবালিকা ছিল না। এবং যা হয়েছে, তা তার সম্মতিতেই হয়েছে। কিন্তু, মেয়েটির স্কুল রেকর্ড বলছে, অপরাধ সংঘটনের সময় সে নাবালিকা ছিল।