সরকারি সূত্রে জানা গিয়েছে, ক্লাসরুমে এয়ার পিউরিফায়ার বসিয়ে পড়ুয়াদের ক্ষতিকর পার্টিকুলেট ম্যাটারের সংস্পর্শ থেকে দূরে রাখাই মূল লক্ষ্য। আধিকারিকদের দাবি, এই কাজ পরিকল্পিত ও নজরদারির মধ্যে করা হবে, যাতে বাস্তব ফল পাওয়া যায়।

শেষ আপডেট: 19 December 2025 17:55
দ্য ওয়াল ব্যুরো: ক্রমাগত বাড়তে থাকা বায়ুদূষণে হাঁসফাঁস করছে রাজধানী (Delhi pollution)। প্রাথমিকে অনলাইন ক্লাসের নির্দেশ আগেই জারি করা হয়েছিল, এবার শিশুদের সুরক্ষিত রাখতে আরও বড় সিদ্ধান্ত নিল দিল্লি সরকার ( Delhi government)। শহর জুড়ে সরকারি স্কুলগুলিতে ধাপে ধাপে ক্লাসরুমে এয়ার পিউরিফায়ার বসানোর পরিকল্পনা ঘোষণা করা হয়েছে (air purifiers in Delhi government schools)।
প্রথম পর্যায়ে ১০ হাজার ক্লাসরুমে এয়ার পিউরিফায়ার বসানো হবে বলে বৃহস্পতিবার জানালেন দিল্লির শিক্ষামন্ত্রী আশিস সুদ। মন্ত্রী জানান, এই প্রকল্প বাস্তবায়নের জন্য বৃহস্পতিবারই টেন্ডার ডাকা হচ্ছে, যার মাধ্যমে গোটা দিল্লির সরকারি স্কুলগুলিতে পরিষ্কার অভ্যন্তরীণ বাতাস নিশ্চিত করার কাজ শুরু হবে।
ধাপে ধাপে সমস্ত ক্লাসরুমে
আশিস সুদের কথায়, প্রথম পর্যায়ের কাজ শেষ হলে এই উদ্যোগ আরও বিস্তৃত হবে। “পরবর্তী ধাপে দিল্লির সমস্ত সরকারি স্কুলের প্রতিটি ক্লাসরুমে এয়ার পিউরিফায়ার বসানো হবে। শিশুদের শ্বাস-প্রশ্বাস নিয়ে আমরা কোনও আপস করি না, কাউকেও করতে দেব না,” বলেন তিনি।
মন্ত্রী স্পষ্ট করে দেন, পড়ুয়াদের স্বাস্থ্য ও সুরক্ষা সরকারের কাছে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার।
তিনি আরও জানান, এই সিদ্ধান্ত বৃহত্তর এক পরিকল্পনার অংশ, যার লক্ষ্য হল বিশেষ করে শীতকালে, যখন দিল্লির বাতাসের মান ভয়াবহ পর্যায়ে পৌঁছে যায়, তখন শিশুদের ক্ষতিকর বায়ুদূষণের প্রভাব থেকে যতটা সম্ভব দূরে রাখা।
ভয়াবহ বায়ুগুণের মধ্যেই সিদ্ধান্ত
এই ঘোষণা এমন এক সময়ে এল, যখন দিল্লি দীর্ঘদিন ধরেই ‘ভেরি পুওর’ এবং ‘সিভিয়ার’ এয়ার কোয়ালিটির সঙ্গে লড়াই করছে। বায়ুদূষণের সবচেয়ে বড় শিকারদের মধ্যে শিশুরাই অন্যতম। দূষণের জেরে তাদের মধ্যে শ্বাসকষ্ট, হাঁপানি এবং দীর্ঘমেয়াদি ফুসফুসের ক্ষতির ঝুঁকি অনেকটাই বেড়ে যায়।
গত কয়েক সপ্তাহে দূষণের মাত্রা বেড়ে যাওয়ায় প্রশাসনকে একাধিক জরুরি ব্যবস্থা নিতে হয়েছে,
এই আবহেই ক্লাসরুমের ভিতরের বাতাস পরিষ্কার রাখার দিকে জোর দিচ্ছে সরকার।
ক্লাসরুমের ভিতরের বাতাসে জোর
সরকারি সূত্রে জানা গিয়েছে, ক্লাসরুমে এয়ার পিউরিফায়ার বসিয়ে পড়ুয়াদের ক্ষতিকর পার্টিকুলেট ম্যাটারের সংস্পর্শ থেকে দূরে রাখাই মূল লক্ষ্য। আধিকারিকদের দাবি, এই কাজ পরিকল্পিত ও নজরদারির মধ্যে করা হবে, যাতে বাস্তব ফল পাওয়া যায়।
শিক্ষা দফতরের কর্তারা বলছেন, এই উদ্যোগ থেকে স্পষ্ট যে সরকার বুঝতে পারছে যে, স্কুলের মতো জায়গায়, যেখানে শিশুরা দিনে বহু ঘণ্টা কাটায়, সেখানে অভ্যন্তরীণ বায়ুদূষণ নিয়ন্ত্রণ অত্যন্ত জরুরি।
২০২৬-এর মধ্যে সাফ হবে ভলস্বা ল্যান্ডফিল
বৃহত্তর দূষণ নিয়ন্ত্রণ পরিকল্পনার কথাও এদিন তুলে ধরেন আশিস সুদ। তিনি জানান, ভলস্বা ল্যান্ডফিল সাইট ২০২৬ সালের সেপ্টেম্বরের মধ্যে পুরোপুরি পরিষ্কার করা হবে। এই ল্যান্ডফিল বহুদিন ধরেই দিল্লির বায়ু ও পরিবেশ দূষণের অন্যতম বড় উৎস হিসেবে চিহ্নিত।
দিল্লি সরকার ফের একবার জানিয়েছে, পুরনো আবর্জনার পাহাড় সরানো এবং বর্জ্য ব্যবস্থাপনা পরিকাঠামো উন্নত করাই দীর্ঘমেয়াদি দূষণ নিয়ন্ত্রণ পরিকল্পনার গুরুত্বপূর্ণ অংশ।
পড়াশোনা ও স্বাস্থ্যের ভারসাম্য
প্রতি বছরই বায়ুদূষণ দিল্লির সামনে বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়ায়। এই অবস্থায় সরকারের এই সিদ্ধান্তকে পড়াশোনার ধারাবাহিকতা বজায় রেখে পড়ুয়াদের স্বাস্থ্য সুরক্ষার একটি গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ বলেই মনে করছেন অনেকেই।
শীতকালে দূষণের ঝুঁকি যত দিন থাকবে, তত দিন সরকারি স্কুলের ক্লাসরুমে ধাপে ধাপে এয়ার পিউরিফায়ার বসানোর এই উদ্যোগ শিশুদের সুরক্ষায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা নেবে, পাশাপাশি চলবে দূষণ কমানোর অন্যান্য প্রচেষ্টাও।