জম্মু–কাশ্মীর পুলিশ (Jammu Kashmir Police) ইতিমধ্যেই সাত জনকে গ্রেফতার করেছে, যাকে তারা ‘হোয়াইট-কলার টেরর মডিউল’ বলে উল্লেখ করছে।

মুজাম্মিল-সহ চার অভিযুক্তের ১০ দিনের বিচারবিভাগীয় হেফাজত
শেষ আপডেট: 29 November 2025 17:30
দ্য ওয়াল ব্যুরো: লালকেল্লার কাছে বিস্ফোরণের (Delhi Blast) তদন্তে শনিবার পাটিয়ালা হাউস কোর্টের নির্দেশে মূল অভিযুক্ত ডা: মুজাম্মিল শাকিল গনাই, ডা: আদিল আহমেদ রাধার, ডা: শাহিন সইদ ও মুফতো ইরফান আহমদ ওয়াগেকে ১০ দিনের বিচারবিভাগীয় (10-day judicial custody) হেফাজতে পাঠানো হয়েছে। এর আগে দশ দিনের হেফাজত শেষে চারজনকে আদালতে পেশ করা হয়।
জম্মু–কাশ্মীর পুলিশ (Jammu Kashmir Police) ইতিমধ্যেই সাত জনকে গ্রেফতার করেছে, যাকে তারা ‘হোয়াইট-কলার টেরর মডিউল’ বলে উল্লেখ করছে। তদন্তকারীদের মতে, এই নেটওয়ার্কের সঙ্গেই সরাসরি যুক্ত দিল্লির ওই বিস্ফোরণ।
এদিকে এনআইএ জানিয়েছে, আত্মঘাতী হামলার নেপথ্যের চক্র ভাঙতে বিভিন্ন রাজ্যে তল্লাশি চলছে। সংশ্লিষ্টদের শনাক্ত করতে স্থানীয় পুলিশকেও সঙ্গে নিয়ে তদন্ত এগোচ্ছে কেন্দ্রীয় এজেন্সি।
মুজাম্মিলের আরও দুই গোপন আস্তানা চিহ্নিত
তদন্তে নেমে দিল্লি পুলিশের হাতে এসেছে আরও বিস্ফোরক তথ্য। মূল অভিযুক্ত মুজাম্মিল গনাই নকল পরিচয় দিয়ে অন্তত দু'টি অতিরিক্ত ভাড়া বাড়ি নিয়েছিল বলে দাবি তদন্তকারীদের। আগেই ফতেপুর টাগা ও ফরিদাবাদের ধউজে তার ব্যবহৃত দুটি জায়গা খুঁজে পাওয়া গিয়েছিল। এবার সামনে এল খোরি জামালপুর গ্রামের একটি বাড়ি— যেখানে মালিককে সে বলেছিল, ফলের ব্যবসা শুরু করবে।
প্রাক্তন পঞ্চায়েত প্রধান জম্মা খানের বাড়ির উপরের তলায় তিনখানা শোবার ঘর, ড্রয়িংরুম ও রান্নাঘর সমেত ঘরটি ভাড়া নিয়ে ছিল সে। বাড়িটির ঠিক নীচেই ছিল প্লাস্টিকের কাঁচামালের একটি কারখানা। এপ্রিল থেকে জুলাই পর্যন্ত মাসে ৮ হাজার টাকা ভাড়া দিত বলে জানিয়েছেন মালিক। একই সঙ্গে একজন কৃষকের জমিতে একটি ছোট ঘরও ভাড়া নিয়েছিল সে।
ফরিদাবাদে আল-ফলাহ বিশ্ববিদ্যালয়ে কর্মরত থাকাকালীনই এই জায়গাগুলিতে সে যাতায়াত করত বলে দাবি পুলিশের। সম্প্রতি এনআইএ দল মুজাম্মিলকে নিয়ে আবার সেই বাড়িতে যায় ও মালিককে দীর্ঘক্ষণ জিজ্ঞাসাবাদ করে।
বিস্ফোরণের ঘটনায় কী ঘটেছিল
১০ নভেম্বর সন্ধ্যায় লালকেল্লা মেট্রো স্টেশনের এক নম্বর গেটের কাছে ধীরে চলা একটি হুন্ডাই i20 গাড়িতে বিস্ফোরণ হয়। মৃত্যু হয় ১৫ জনের। আহত বহু। বিস্ফোরণের অভিঘাতে আশপাশে দাঁড়িয়ে থাকা বেশ কয়েকটি গাড়িও ক্ষতিগ্রস্ত হয়।
প্রাথমিক তদন্তেই উঠে আসে, ঘটনাটি ফরিদাবাদে ধরা পড়া একটি নতুন সন্ত্রাস মডিউলের সঙ্গে যুক্ত। একের পর এক গ্রেফতার ও তল্লাশি দিয়ে গোটা নেটওয়ার্ক ভাঙার চেষ্টায় রয়েছে কেন্দ্রীয় ও রাজ্য পুলিশ বাহিনী।