সম্প্রতি তদন্তকারীরা শাহিন সাইদকে নিয়ে বিশ্ববিদ্যালয় চত্বরের একাধিক জায়গায় তল্লাশি চালান। যে ঘরে তিনি থাকতেন, তাঁর অফিসঘর এবং যে সব শ্রেণিকক্ষে তিনি পড়াতেন, সবই ঘুরে দেখেন।

ফাইল ছবি
শেষ আপডেট: 29 November 2025 16:14
দ্য ওয়াল ব্যুরো: দিল্লির লালকেল্লার (Delhi Red Fort) কাছে ভয়াবহ বিস্ফোরণের (Blast) তদন্তে নতুন তথ্য সামনে এল। এনআইএ আল-ফালাহ বিশ্ববিদ্যালয়ের (Al Falah University) অধ্যাপিকা শাহিন সাইদের (Shaheen Saeed) ঘর থেকে প্রায় ১৮ লক্ষ টাকা নগদ (18 Lakh Cash) উদ্ধার করেছে। বিশ্ববিদ্যালয়ের হস্টেলের ২২ নম্বর ঘরটি এখন তদন্তের মূল কেন্দ্রবিন্দুতে।
সম্প্রতি তদন্তকারীরা শাহিন সাইদকে (Shaheen Saeed) নিয়ে বিশ্ববিদ্যালয় চত্বরের একাধিক জায়গায় তল্লাশি চালান। যে ঘরে তিনি থাকতেন, তাঁর অফিসঘর এবং যে সব শ্রেণিকক্ষে তিনি পড়াতেন, সবই ঘুরে দেখেন। এই অভিযানেই আলমারির ভিতর প্লাস্টিকের ব্যাগে মোড়া অবস্থায় ওই বিপুল পরিমাণ টাকা উদ্ধার হয়। এত নগদ অর্থ তাঁর কাছে এল কীভাবে, এটাই এখন তদন্তের প্রধান প্রশ্ন।
এর পাশাপাশি বিশ্ববিদ্যালয়ের ১৭ নম্বর ভবনের ১৩ নম্বর ঘর নিয়েও তদন্ত জারি রয়েছে। কারণ ওই ঘরটি ছিল ডা. মুজাম্মিলের, যেটি গোপন বৈঠকের আসর হয়ে উঠেছিল। এখানেই দিল্লি (New Delhi) ও উত্তরপ্রদেশের (Uttar Pradesh) বিভিন্ন এলাকায় ধারাবাহিক বিস্ফোরণের পরিকল্পনা নেওয়া হয় বলে অনুমান।
নগদে গাড়ি কেনা, তদন্তে নতুন সন্দেহ
তদন্তকারী সূত্রের দাবি, শাহিন সাইদ ও মুজাম্মিল শাকিল (Shaheed Saeed and Muzammil Shakeel) গত ২৫ সেপ্টেম্বর নগদে একটি মারুতি সুজুকি গাড়ি কেনেন। যে ৩২টি গাড়িতে বিস্ফোরক (Blast Material) বহন বা বিভিন্ন জায়গায় পৌঁছে দেওয়ার প্রস্তুতি চলছিল, এই গাড়িটি সেগুলিরই একটি। পরে গাড়িটি পাওয়া যায় আল-ফালাহ স্কুল অব মেডিক্যাল সায়েন্সেস-এর পার্কিং এলাকায়। একইদিনে কেনা গাড়ির পাশে দাঁড়িয়ে দু'জনের ছবি মিলেছে তদন্তকারীদের হাতে, যা নতুন করে সন্দেহ আরও ঘনীভূত করেছে।
প্রেম, বিয়ে এবং সন্ত্রাসের ছায়া
শাহিন সাইদকে নিয়ে তদন্তকারীরা ইতিমধ্যে বিস্ফোরক তথ্য পেয়েছেন। জানা গেছে, জীবনের ব্যক্তিগত টানাপড়েন, দুই বিয়ে ভাঙা (Broken Marriage) এবং তৃতীয় প্রেমের (Love Relationship) সূত্র ধরেই ধীরে ধীরে তিনি জড়িয়ে পড়েছিলেন জঙ্গি সংগঠনের ছায়ায়।
লখনউয়ের (Lucknow) ডালিগঞ্জে বড় হওয়া শাহিন ছোটবেলা থেকেই পড়াশোনায় উজ্জ্বল। এলাহাবাদ থেকে এমবিবিএস, পরে ফার্মাকোলজিতে বিশেষজ্ঞ। পরিবারের সবাই শিক্ষিত, সমাজে সম্মানিত। বাবা সরকারি কর্মচারী - সব মিলিয়ে অভিজাত, স্থির পরিবেশেই বড় হয়ে ওঠা।
২০০৩ সালে চক্ষুরোগ বিশেষজ্ঞ (Eye Specialist) জাফর হায়াতের সঙ্গে বিয়ে হয় তাঁর। দুই সন্তানের জন্ম। কিন্তু প্রায় এক দশক পর সম্পর্ক ভাঙে। বিদেশে বসবাসের ইচ্ছে, পেশাগত টেনশন এবং মানসিক অশান্তির জেরে বিচ্ছেদ, এটাই পরিবার ও বন্ধুমহলের বক্তব্য। বিচ্ছেদের পর হঠাৎ কলেজে যাওয়া বন্ধ করেন শাহিন। দীর্ঘ আট বছর যোগাযোগহীন অবস্থায় কাটান। পরে চাকরিও চলে যায়।
গাজিয়াবাদের (Gaziabad) এক ব্যবসায়ীর সঙ্গে দ্বিতীয় বিয়ে করেন। সেটাও দীর্ঘস্থায়ী হয়নি। আরও একবার ভেঙে যায় তাঁর ব্যক্তিগত জীবন। তবে এরপরই জীবন অন্য মোড় নেয়। তৃতীয়বার কাশ্মীরি তরুণ চিকিৎসক মুজাম্মিল শাকিলের সঙ্গে সম্পর্কে জড়ান শাহিন (Shaheen Saeed)। পরে ২০২৩ সালের সেপ্টেম্বর মাসে বিশ্ববিদ্যালয়ের কাছের এক মসজিদে তাঁদের বিয়ে হয়।
বিয়ের পর শাহিন নিয়মিত ধর্মীয় সভা, ছাত্রদের বৈঠকে যেতে থাকেন। সেখানেই তাঁর যোগাযোগ হয় জামাত-উল-মুমিনাত–এর সদস্য, জইশ-ই-মহম্মদের মহিলা শাখা, যেটির নেতৃত্বে পাকিস্তানের জইশ প্রধান মসুদ আজহারের বোন সাদিয়া আজহার। ধীরে ধীরে তাঁকে জঙ্গি মতাদর্শে প্রশিক্ষণ দেওয়া হয়। মুজাম্মিলও দিল্লি বিস্ফোরণকাণ্ডের অন্যতম অভিযুক্ত।