
প্রতীকী ছবি
শেষ আপডেট: 9 February 2025 11:42
দ্য ওয়াল ব্যুরো: দিল্লি বিধানসভা ভোটে (Delhi Election 2025) অরবিন্দ কেজরিওয়াল ও আম আদমি পার্টির ভরাডুবি হতেই ‘ভাণ্ডারের ভোট’ (পড়ুন লক্ষ্মীর ভাণ্ডার) নিয়ে কেউ কেউ প্রশ্ন তুলেছেন। তাঁদের মতে, শুধু ভাণ্ডারের ভোটই যথেষ্ট নয়। দিল্লির ভোট প্রমাণ করে দিল সুনির্দিষ্ট কৌশল নিয়ে নামলে ভাণ্ডারের ভোটকেও পরাস্ত করা যায়। বাংলায় কারও কারও এ কথা হয়তো মনে ধরছে।
এ কথা একদিকে ঠিক। আবার ঠিক নয়ও বটে। দিল্লির নির্বাচনের ফলাফল আপাতভাবে দেখলে মনে হবে কেজরিওয়ালের দল খুব লজ্জাজনক ভাবেই হেরেছে। বিধানসভার ৭০টি আসনের মধ্যে তাদের দখলে ছিল ৬২ টি আসন। তা কমে ২২ হয়েছে। তুলনায় বিজেপির জয় এতটাই বড় যে কেজরিওয়ালকে আরও খাটো দেখাচ্ছে। কারণ, ৮ থেকে ৪৮-এ পৌঁছেছে বিজেপি। কিন্তু আরও গভীরে গিয়ে দেখলে বোঝা যাবে, বিজেপির তুলনায় আপের ভোটের ফারাক মাত্র ১.৯৯ শতাংশ। অর্থাৎ পুরো ২ শতাংশও নয়।
আরও গভীরে দেখলে বোঝা যাবে, দশ বছরের প্রতিষ্ঠান বিরোধিতা সত্ত্বেও দিল্লিতে সংখ্যালঘু, দলিত ও মুসলিম অধ্যুষিত এলাকায় আপ যেমন জনভিত্তি অনেকটাই ধরে রেখেছে। তেমনই আর্থিক ভাবে অনগ্রসর, ঝুপড়ি এলাকা, গরিব, নিম্নবিত্ত মানুষের মধ্যে তাঁর জনপ্রিয়তা ও ভোট প্রায় অটুট। অর্থাৎ ভাণ্ডারের ভোট তাঁর সঙ্গেই ছিল এই ভোটে। সেটাই তাঁর গৃহলক্ষ্মী। তা বিশেষ কমেনি। বরং মধ্যবিত্ত ও উচ্চ মধ্যবিত্ত শ্রেণির মধ্যে তাঁর যে প্রভাব ছিল তা লঘু থেকে লঘুতর হয়েছে। আর সেই কারণেই মুখ থুবড়ে পড়েছে আপ।
গত ১০ বছরে দিল্লিতে আপ সরকারের মাইলফলক প্রকল্পগুলো ছিল, ২০০ ইউনিট পর্যন্ত বিনামূল্যে বিদ্যুৎ, মহিলাদের জন্য ফ্রি বাস রাইড, প্রবীণ নাগরিক ও বিশেষ চাহিদাসম্পন্নদের আর্থিক সাহায্য। মুখ্যমন্ত্রী তীর্থযাত্রা যোজনায় প্রবীণদের বিনামূল্যে তীর্থভ্রমণের সুযোগ দেওয়া ও জয় ভীম মুখ্যমন্ত্রী প্রতিভা বিকাশ যোজনার মাধ্যমে অনগ্রসর শ্রেণির ছাত্রছাত্রীদের বিনামূল্যে প্রতিযোগিতামূলক পরীক্ষার কোচিং দেওয়া। আর এবার ভোটে কেজরিওয়ালের অঙ্গীকার ছিল মহিলাদের মাসে ২ হাজার টাকা করে ভাতা দেবে সরকার।
দিল্লি ভোটের এই ফলাফলের পরই রাজ্যে বিজেপি নেতারা বাংলার ব্যাপারেও আশাবাদী হয়ে উঠেছেন। তাঁদের কেউ কেউ বলছেন, বাংলাতেও আর ভাণ্ডারের ভোট কাজে লাগবে না।
কিন্তু রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকদের অনেকের মতে, বাংলার ব্যাপারটা সম্পূর্ণই ভিন্ন। দিল্লির সঙ্গে তুলনা করা যাবে। তৃণমূলের ভোটের পাটিগণিত এখনও পর্যন্ত ফরমিডেবল তথা বেশ মজবুত। সাড়ে ৭ কোটি ভোটারের মধ্যে লক্ষ্মীর ভাণ্ডার বা আবাসের উপভোক্তাদের সংখ্যা কমবশি আড়াই কোটির বেশি। তা ছাড়া প্রায় ৩০ শতাংশ সংখ্যালঘু ভোটের সমর্থন রয়েছে তৃণমূলের সঙ্গে। সেই সঙ্গে রয়েছে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের ব্যক্তিগত জনপ্রিয়তার ভোট। তা ছাড়া কেজরিওয়ালের সঙ্গে আরও বড় ফারাক রয়েছে। মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের বিরুদ্ধে ব্যক্তিগত স্তরে কোনও দুর্নীতির অভিযোগ নেই। ‘আম আদমি’ কেজরিওয়ালের শিশমহল নিয়ে যে অভিযোগ উঠেছিল, তার সুযোগও বাংলায় নেই।
বস্তুত লক্ষ্মীর ভাণ্ডারে যে মোক্ষলাভ হতে পারে তা বিজেপিও এখন বুঝে গেছে। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের লক্ষ্মীর ভাণ্ডারকে অনুকরণ করে বিজেপি শাসিত রাজ্যে লাডলি বহেনা, লড়কি বহেন যোজনা ইত্যাদি শুরু হয়েছে। আর দিল্লি ভোটে বিজেপিও অঙ্গীকার করেছিল যে ক্ষমতায় এলে মহিলাদের মাসে আড়াই হাজার টাকা করে দেবে। যার নাম হবে মহিলা সম্মান নিধি।
কে বলতে পারে বিজেপির এই জয়ের নেপথ্যে সেটা অনুঘটক নয়! সুতরাং লক্ষ্মীর জয় সর্বত্র। এর বিকল্প আপাতত নেই।