
সংগৃহীত ছবি
শেষ আপডেট: 21 April 2025 15:53
দ্য ওয়াল ব্যুরো: 'দাদা খাবারটা একটু উপরে দিয়ে যান,' 'এত দেরি করলেন, খিদেটাই চলে গেল!' বা 'ম্যাপ বুঝতে পারেন না যখন কাজ করেন কেন?' এসব কথা খুব একটা মুখে আটকায় না আজকাল। খাবার বা কোনও জিনিস অর্ডার করেছি মানে সেটা আমি যখন চাইছি, তখনই হাতের সামনে আসবে। এই মানসিকতা তো থাকেই, আর যিনি খাবার দিচ্ছেন তাঁকে বাঁকা চোখে দেখার প্রবণতাও লক্ষ্য করা যায়। ডেলিভারি পার্সনদের এমন অনেককিছুর সম্মুখীন হতে হয়, যা হয়তো আমাদের ধারণার বাইরে। সেই সব চাক্ষুস করতেই একদিনের জন্য এই পেশায় যোগ দিয়েছিলেন একটি বিজ্ঞাপন সংস্থার ক্রিয়েটিভ হেড। ব্লিঙ্কইট-এর হয়ে গোটা একটা দিন তিনি দরজায় দরজায় গিয়ে খাদ্যসামগ্রী-সহ অন্যান্য জিনিস ডেলিভারি দেন। তারপর শেয়ার করেন নিজের অভিজ্ঞতা।
এমন অভিজ্ঞতা যা একটা মানুষকে পাল্টে ফেলার জন্য নাকি যথেষ্ট। আর আবিষ্কার করেন, শ্রেণি বিভাজন এ সমাজে এখনও বর্তমান। দিল্লির মতো জায়গাতেও রয়েছে ক্লাস কালচার। শুধু জাতিভিত্তিক নয়, পেশা নিয়ে রয়েছে বিরাট নাকউঁচু মানসিকতা।
সম্প্রতি 'ভাইবস্ নেটওয়ার্ক' নামের এক বিজ্ঞাপন সংস্থার ক্রিয়েটিভ হেড লিঙ্কডইনে একটি পোস্ট করেন। সেখানেই গোটা বিষয়টি জানান তিনি। প্রথমে লেখেন, 'স্পর্শকাতরতা শুধুমাত্র জাতিভিত্তিক নয়, এই পেশাটিও এখনও তার প্রাপ্য সম্মান থেকে বঞ্চিত।' এই পেশা অর্থাৎ ডেলিভারির পেশা। সলমনের মতে, দীর্ঘ যানজট ও খারাপ আবহাওয়ার মধ্যেও যাঁরা ডেলিভারির কাজ করেন, তাঁরা সমাজের কাছে যথাযথ সম্মান পান না। লেখেন, 'শুধু পুলিশ নয়, এয়ারকন্ডিশনড গাড়িতে বসা সাধারণ মানুষও ডেলিভারি পার্টনারদের সঙ্গে দ্বিতীয় শ্রেণির নাগরিকের মতো ব্যবহার করেন।'
ডেলিভারির সময় বিভিন্ন বিল্ডিংয়ে একজন ডেলিভারি পার্সনকে মেইন লিফট ব্যবহার করতে বাধা দেওয়া হয়। কোথাও সোজাসুজি সিঁড়ি দিয়ে চতুর্থ তলা অবধি উঠতে বলা হয়, আবার কোথাও শুধু ‘সার্ভিস লিফট’ ব্যবহারের অনুমতি দেওয়া হয়। এই ধরনের সমস্ত ঘটনার সাক্ষী হন সলমন। যাঁরা সোশ্যাল মিডিয়ায় এমন বিষয় নিয়ে বড় বড় কথা বলেন, তাঁদের বেশিরভাগই যে আদতে এমন ব্যবহার ডেলিভারি পার্সনের সঙ্গে করেন, সেই প্রমাণও মেলে।
সলমনের ভাষায়, 'আমাদের বুঝতে হবে, ডেলিভারি পার্টনাররাও আমাদের মতোই মানুষ। শুধুমাত্র ইউনিফর্ম বা বাহ্যিক চেহারা দেখে আমরা যেন কারও চরিত্র, অবস্থান বা সম্মান নির্ধারণ না করি। প্রত্যেকেই সম্মানের যোগ্য, তা যেকোনও পেশাতেই হোন না কেন।'
তিনি জেপ্টো এবং ব্লিঙ্কইট-এর মতো ১০ মিনিট ডেলিভারি অ্যাপগুলির সংস্থার উদ্দেশে স্পষ্ট বার্তা দেন, তাঁরা যেন সচেতনতা বৃদ্ধির জন্য ক্যাম্পেইন শুরু করে। যাতে মানুষ এই পেশার কর্মীদের প্রতি সম্মান দেখাতে শেখে।
সলমনের পোস্টটি ভাইরাল হয়েছে সোশ্যাল মিডিয়ায়। বহু মানুষ তাঁর অভিজ্ঞতার সঙ্গে সহমত পোষণ করেন। একজন মন্তব্য করেন, 'খুব সুন্দর লিখেছেন সলমন, ডেলিভারি কর্মীদের প্রতিদিন এরকমই পরিস্থিতির মুখোমুখি হতে হয়। আমরা শুধুমাত্র তাদের কাজকে স্বীকৃতি দিয়ে এবং তাদের প্রতি সদয় হয়ে কিছুটা সাহায্য করতে পারি।' আরেকজন লেখেন, 'এটাই নতুন ধরণের বৈষম্য এবং স্পর্শকাতরতা। সবাই ভাবে এইসব চলে গেছে, কিন্তু না, এটা কেবল জাতি থেকে শ্রেণিতে রূপান্তরিত হয়েছে। বৈষম্য এখনও আছে, শুধু তার রূপ বদলেছে মাত্র।'
সলমন সলিম আগেও বিভিন্ন পেশার মানুষের জীবনযাত্রা বোঝার জন্য এক দিন করে তাঁদের ভূমিকায় কাজ করেছেন। এর আগে তিনি একদিন ই-রিকশা চালিয়েছেন, দিন মজুর হিসেবেও কাজ করেছেন। এইসব অভিজ্ঞতা তাঁকে সমাজের বাস্তব চিত্র দেখতে সাহায্য করে।