দিল্লি বিস্ফোরণকাণ্ডে সামনে এল সন্দেহভাজন আত্মঘাতী উমর মহম্মদের প্রথম ছবি। জম্মু-কাশ্মীরের পুলওয়ামার চিকিৎসক কীভাবে জড়িয়ে পড়লেন রেড ফোর্ট সংলগ্ন বিস্ফোরণে?
.jpeg.webp)
উমর মহম্মদের প্রথম ছবি
শেষ আপডেট: 11 November 2025 11:44
দ্য ওয়াল ব্যুরো: দিল্লি বিস্ফোরণ মামলায় সামনে এল মূল অভিযুক্ত চিকিৎসক উমর মহম্মদের প্রথম ছবি। বিভিন্ন জাতীয় সংবাদমাধ্যম সূত্রে খবর, সোমবার সন্ধ্যায় রেড ফোর্টের কাছে যে সাদা রঙের হুন্ডাই আই২০ গাড়িটিতে বিস্ফোরণ হয়, সেটির মালিক জম্মু ও কাশ্মীরের পুলওয়ামার বাসিন্দা চিকিৎসক উমর মহম্মদ। ওই ভয়াবহ বিস্ফোরণে আট জনের মৃত্যু হয়েছে, জখম ২০ জনেরও বেশি।
১৯৮৯ সালের ২৪ ফেব্রুয়ারি পুলওয়ামায় জন্ম উমরের। আল ফালাহ মেডিক্যাল কলেজে চিকিৎসক হিসেবে কর্মরত ছিলেন। তদন্তকারীদের দাবি, উমর জঙ্গি যোগ সন্দেহে ধৃত চিকিৎসক আদিল আহমদ রাঠার এবং মুজাম্মিল শাকিলের ঘনিষ্ঠ সহযোগী। এই দুই চিকিৎসককে সোমবার গ্রেফতার করে জম্মু-কাশ্মীর ও হরিয়ানা পুলিশের যৌথ দল, যাঁদের সঙ্গে যুক্ত 'হোয়াইট কলার' সন্ত্রাস মডিউলটি ধরা পড়েছে।
তদন্ত সূত্রের খবর, ওই দু’জনের গ্রেফতারের পরই উমর পালিয়ে যান ফরিদাবাদ থেকে। গত কয়েক দিনে তদন্তকারীরা প্রায় ২,৯০০ কেজি সন্দেহজনক বিস্ফোরক উদ্ধার করেছে। এই খবর পেয়ে না কি উমর আতঙ্কিত হয়ে পড়েন এবং শেষ পর্যন্ত আত্মঘাতী বিস্ফোরণ ঘটান।
সূত্রের দাবি, উমর ও তাঁর সহযোগীরা অ্যামোনিয়াম নাইট্রেট ফুয়েল অয়েল (ANFO) ব্যবহার করেই বিস্ফোরণ ঘটান। গাড়ির ভিতরে ডিটোনেটর বসিয়ে জনবহুল এলাকায় এই হামলা চালানোর পরিকল্পনা করা হয়।
সিসিটিভি ফুটেজে দেখা গেছে, গাড়িটি বদরপুর সীমান্ত দিয়ে দিল্লিতে প্রবেশ করছে। সেখান থেকে ওল্ড দিল্লিতে আসে আউটার রিং রোড হয়ে। রেজিস্ট্রেশন নম্বর HR 26CE7674-সহ গাড়িটি বিকেল ৩টা ১৯ মিনিটে রেড ফোর্ট সংলগ্ন পার্কিংয়ে ঢোকে এবং সাড়ে ৬টার কিছু আগে বেরোয়। ওই সময় পুরো তিন ঘণ্টা গাড়ির ভিতর থেকে কেউ বের হয়নি বলেই সূত্রের দাবি।
প্রাথমিক তদন্তের পর পুলিশ জানিয়েছে, বিস্ফোরণে ব্যবহৃত গাড়িটি গত কয়েক মাসে একাধিক মালিকের হাতে ঘুরেছে। মার্চ ২০২৫-এ সলমান নামের এক ব্যক্তি গাড়িটি দেবেন্দরের কাছে বিক্রি করেন। পরে তা দেবেন্দর থেকে আমিরের হাতে যায় ২৯ অক্টোবর। সেখান থেকে শেষ পর্যন্ত গাড়িটি পৌঁছয় উমর মহম্মদের কাছে।
তদন্তকারীরা জানিয়েছেন, গাড়ির হস্তান্তরের ব্যাপারে তারিক নামের এক ব্যক্তিও জড়িত। বর্তমানে আমির ও তারিককে জেরা করছে দিল্লি পুলিশ।