গ্রেফতার হওয়া তিনজন হলেন— শ্বেতা শর্মা (অ্যাসোসিয়েট ডিন), ভাবনা কপিল (এক্সিকিউটিভ ডিরেক্টর) এবং কাজল (সিনিয়র ফ্যাকাল্টি)।

দিল্লি বাবা
শেষ আপডেট: 2 October 2025 20:45
দ্য ওয়াল ব্যুরো: দিল্লির (Delhi God Man) স্বঘোষিত গডম্যান চৈতন্যানন্দ সরস্বতী (Chaitanyananda Saraswati) ওরফে পার্থসারথীর বিরুদ্ধে যৌন হেনস্থার (Molestation) মামলায় এবার গ্রেফতার হলেন তাঁর তিন ঘনিষ্ঠ মহিলা সহযোগী। পুলিশ জানিয়েছে, জেরায় তাঁরা স্বীকার করেছেন যে বাবার নির্দেশে তাঁরা ছাত্রছাত্রীদের ভয় দেখিয়ে, নানা অজুহাতে তাঁর কাছে যেতে বাধ্য করতেন এবং প্রমাণ নষ্ট করার চেষ্টা করতেন।
গ্রেফতার হওয়া তিনজন হলেন— শ্বেতা শর্মা (অ্যাসোসিয়েট ডিন), ভাবনা কপিল (এক্সিকিউটিভ ডিরেক্টর) এবং কাজল (সিনিয়র ফ্যাকাল্টি)। এঁদের বিরুদ্ধে হেনস্থায় সহযোগিতা, ভয় দেখানো ও প্রমাণ নষ্ট করার মতো গুরুতর অভিযোগ রয়েছে।
অগস্টে দিল্লির বসন্ত কুঞ্জে শ্রী সারদা ইনস্টিটিউট অফ ইন্ডিয়ান ম্যানেজমেন্টের চেয়ারম্যান হিসেবে থাকা অবস্থাতেই চৈতন্যানন্দের বিরুদ্ধে অন্তত ১৭ জন ছাত্রী যৌন হেনস্থার অভিযোগ আনেন। সেই মামলায় রবিবার ভোরে আগ্রার একটি হোটেল থেকে তাঁকে গ্রেফতার করে পুলিশ। বর্তমানে তিনি পাঁচ দিনের পুলিশ হেফাজতে রয়েছেন।
পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, ৬২ বছরের এই স্বঘোষিত ধর্মগুরুর আচরণে কোনও অনুতাপের ছাপ নেই। তাঁর কাছ থেকে তিনটি মোবাইল ফোন, একটি আইপ্যাড বাজেয়াপ্ত করা হয়েছে। একটি ফোন থেকেই ইনস্টিটিউটের ক্যাম্পাস ও হোস্টেলের সিসিটিভি ফুটেজে প্রবেশাধিকার মিলত। ফোনের তথ্য ঘেঁটে পুলিশ জানিয়েছে, মহিলা ছাত্রছাত্রীদের যোগাসনের ছবিতে কুরুচিকর মন্তব্য করতেন তিনি।
চৈতন্যানন্দের একাধিক ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্ট ও স্থায়ী আমানত মিলিয়ে প্রায় ৮ কোটি টাকা ইতিমধ্যেই ফ্রিজ করেছে প্রশাসন।
প্রাক্তন এক ছাত্রের কথায়, প্রায় ন’বছর ধরেই ছাত্রীদের হেনস্থা করতেন চৈতন্যানন্দ। তাঁদের ফোন কেড়ে নিয়ে আলাদা কক্ষে রাখতেন। পরিবর্তে দামী ফোন (ব্ল্যাকবেরি, অ্যাপল) দেওয়া হত, যাতে বাবার অনুগামীরা মেসেজ ও চ্যাট মুছে ফেলতে পারে। পরিবার ও আত্মীয়দের সঙ্গে যোগাযোগ করতেও বাধা দেওয়া হত।
২০১৬ সালে ওই ছাত্রীর এক সহপাঠীকে টার্গেট করা হয়েছিল বলেও অভিযোগ। তাঁকে বলা হয়েছিল বিদেশে বা মথুরায় ইন্টার্নশিপে পাঠানো হবে। সন্দেহ হওয়ায় ওই ছাত্রী কয়েক দিনের মধ্যেই ইনস্টিটিউট ছেড়ে দেন।
এফআইআরের অভিযোগ, রাতে ছাত্রছাত্রীদের ঘরে ডেকে পাঠাতেন, অশালীন বার্তা পাঠাতেন এবং সিসিটিভির মাধ্যমে তাঁদের চলাফেরা নজরদারি করতেন চৈতন্যানন্দ। অভিযোগ আরও, তিনি ও তাঁর অনুগামীরা প্রধানমন্ত্রীর দফতরের সঙ্গে যোগসাজশ থাকার দাবি করে প্রশাসনিক সহযোগিতা আদায় করতেন।
এখন পর্যন্ত এই মামলায় অন্তত ৮১ জনকে গ্রেফতার করা হয়েছে। চৈতন্যানন্দের তিন মহিলা সহযোগীকে পাকড়াও করার পর তদন্তে আরও বহু চাঞ্চল্যকর তথ্য উঠে আসছে বলে জানিয়েছে পুলিশ।