স্টার্টআপ (Startup Culture) মানেই কি ব্যক্তিগত জীবনের বিসর্জন, বসের ‘অতিরিক্ত প্রত্যাশা’? বারবার বিতর্কে উঠে এসেছে জোমাটো (Zomato)। মুখ খুললেন সিইও দীপিন্দর গয়াল (Deepinder Goyal)।

শেষ আপডেট: 6 January 2026 15:08
দ্য ওয়াল ব্যুরো: গিগ কর্মীদের (Gig workers) নিয়ে এমনিতেই মাঝে মাঝে নানা তথ্য উঠে আসে সোশ্যাল মিডিয়ায়। কখনও ডেলিভারি এজেন্টদের (Gig worker Delivery agents) টাকা কম, কখনও সারাদিনে কাজের সময় ছাড়িয়ে যায় সব হিসেব।
এখানেই নেটপাড়ায় প্রশ্ন উঠছে বারবার - স্টার্টআপ (Startup culture) মানেই কি রাতদিন কাজ, ব্যক্তিগত জীবনের বিসর্জন আর বসের ‘অতিরিক্ত প্রত্যাশা’? এই নিয়েই সাম্প্রতিক সময়ে বারবার বিতর্কে উঠে এসেছে জোমাটোর নাম। সেই বিতর্কের মাঝেই ওয়ার্ক-লাইফ ব্যালেন্স (Zomato Work-life balance), কর্মীদের প্রতি প্রত্যাশা এবং নিজের বিরুদ্ধে ওঠা ‘টক্সিক বস’ (Zomato CEO toxic boss) তকমা নিয়ে মুখ খুললেন জোমাটো (Zomato) ও ব্লিঙ্কিটের (Blinkit) প্যারেন্ট কোম্পানি Eternal-এর প্রতিষ্ঠাতা ও সিইও দীপিন্দর গয়াল (Zomato CEO Deepinder Goyal)।
রাজ শামানির জনপ্রিয় পডকাস্টে (Raj Shamani podcast Zomato CEO) হাজির হয়ে দীপিন্দর গয়াল স্পষ্ট ভাষায় জানালেন, কোনও ‘৯টা–৫টার মানসিকতা’ নিয়ে স্টার্টআপ গড়ে ওঠে না (startup 9 to 5 mindset)। তাঁর মতে, সিনিয়র লিডারশিপে থাকা প্রত্যেকের কাজের প্রতি এক ধরনের অবসেশন থাকা জরুরি।
“আমি চাই আমার সিনিয়র টিম কাজটাকে যেন চাকরি হিসেবে না দেখে। ওঁদের 'এটা' নিজের সন্তানের মতো ভাবতে হবে। সিনিয়র টিম যদি ভাবে এটা শুধু একটা চাকরি, সেখানে আমাকে থামতে হবে,” বললেন দীপিন্দর।
চাকরি নয়, মালিকের মতো মানসিকতা নিয়ে ভাবতে হবে (owner like mentality in Zomato)
পডকাস্টে প্রশ্ন ওঠে, কোনও কর্মী যদি নিজের কাজকে ‘চাকরি’ হিসেবে ভাবেন, সেটা কীভাবে বোঝা যাবে? এর উত্তরে খুব সাধারণ একটা উদাহরণ দেন জোমাটো কর্তা। তিনি বলেন, যদি এমন হয় যে, শুক্রবার সন্ধ্যা ৬টার সময় কোনও টেকনিক্যাল সমস্যা 'বাগ' ধরা পড়ল। সেই সমস্যার সমাধান যদি সোমবার পর্যন্ত অপেক্ষা করে রাখা হয়, সেটাকেই তিনি 'মালিকের মতো মানসিকতার অভাব' বলে মনে করেন।
দীপিন্দরের কথায়, “যে ব্যক্তি নিজের কাজের দায়িত্ব নিয়ে পারে, সে শুক্রবার রাতেই দু’ঘণ্টা সময় দিয়ে সমস্যাটা মিটিয়ে দেবে। আমি নিজে হলে ৬টায় অফিস ছেড়ে চলে যেতাম না। কাজটা শেষ করেই যেতাম।”
স্টার্টআপ মানসিকতা: ব্যক্তিগত জীবন বনাম জরুরি কোনও কাজ (Startup mentality)
তবে তাহলে কি ব্যক্তিগত জীবন (Zomato Work-life balance) বলে কিছুই থাকবে না? এই প্রশ্নে জোমাটো কর্তা বলেন, ''দুটো একসঙ্গেই চলতে পারে। সব কাজ একজনকেই করতে হবে, এমন নয়।'' কোনও জরুরি পরিস্থিতিতে, যিনি সেই দিন সময় দিতে পারবেন, তিনি দায়িত্ব নেবেন - এমন ব্যবস্থাই নাকি রয়েছে জোমাটোতে।
“আমাদের টিম একে অপরের পাশে থাকে। আমরা কারও ছুটি ট্র্যাক করি না। মানুষ যত খুশি ছুটি নিতে পারে। কিন্তু দরকারের সময় দায়িত্ববোধটা থাকতেই হবে,” বলেন সিইও।
তিনি আরও স্পষ্ট করেন, স্টার্টআপ ঘড়ির হিসেবে ৯টা–৫টা হতে পারে, কিন্তু মন-মানসিকতায় ৯টা–৫টা হলে চলবে না। “সোমবার থেকে শুক্রবার কাজের সময়সূচি মেনে কোম্পানি চলতে পারে। কিন্তু সোমবার–শুক্রবার মানসিকতা নিয়ে কোনও কোম্পানি গড়া যায় না,” ব্যাখ্যা করেন তিনি।
দীপিন্দরের যুক্তি, বছরে হয়তো দু’একবারই এমন পরিস্থিতি আসে, যখন শুক্রবার রাতে সমস্যা মেটাতে হয়। কিন্তু তখন সিদ্ধান্তটা কী হবে? “আপনি কি বলবেন, উইকএন্ডে ১০ হাজার কাস্টমার হারালেও সমস্যা নেই, আমি দু’ঘণ্টা কাজ করব না? তখন আপনি কোন সিদ্ধান্ত নেবেন?” প্রশ্ন ছুড়ে দেন তিনি।
‘টক্সিক বস’ তকমা নিয়ে কী বললেন জোমাটোর সিইও (Zomato CEO toxic boss)?
পডকাস্টের সঞ্চালক রাজ শামানি এই প্রসঙ্গে বলেন, অনেকের কাছেই এই মানসিকতা ‘টক্সিক’ বলে মনে হতে পারে। এমনকি সোশ্যাল মিডিয়ায় দীপিন্দর গয়ালের বিরুদ্ধে ‘টক্সিক বস’ হওয়ার অভিযোগও উঠেছে। সেই অভিযোগ উড়িয়ে দেন দীপিন্দর গোয়াল।
“আমি মনে করি না, আমার সঙ্গে কাজ করা মানুষজন আমার সম্পর্কে এমন ভাবে,” বলেন তিনি। রেডিটে ওঠা মন্তব্যগুলিকে তিনি পুরনো বলে দাবি করেন, যেগুলি নাকি ২০১৩ সালের আগের। তিনি আবারও বলেন, জরুরি পরিস্থিতিতে অতিরিক্ত সময় দেওয়া তাঁর কাছে স্বাভাবিক। “যদি এমন কোনও বাগ থাকে, যার ফলে কাস্টমারের অর্ডার ১৫ মিনিট দেরি হচ্ছে, আমি সারা রাত জেগে সেটা ঠিক করব। দরকার হলে পুরো কোম্পানিকেই রাত জাগতে হবে,” বলেন তিনি।
‘আমরা কর্মীদের অনেকটাই পারিশ্রমিক দিই’
তবে রাজ শামানির প্রশ্ন ছিল, একজন প্রতিষ্ঠাতা সারা রাত কাজ করতেই পারেন, কিন্তু সাধারণ কর্মীর কাছ থেকে কি একই রকম প্রত্যাশা করা যায়? কারণ কর্মীর তো কোম্পানিতে মালিকানা নেই। এর উত্তরে দীপিন্দর বলেন, জোমাটো কর্মীদের ভাল পারিশ্রমিক দেয় (Zomato pay scale)। “আমরা মানুষকে অনেক টাকা দিই। প্রচুর ইক্যুইটি দিই,” বলেন তিনি।
তাঁর বক্তব্য, যাঁরা এই মানসিকতা নিয়ে কাজ করেন, তাঁরা দ্রুত এগিয়ে যান। যাঁরা পারেন না, তাঁরা নিজের জায়গাতেই আটকে থাকেন। “আমি কাউকে বিচার করি না। এটা আপনার নিজের সিদ্ধান্ত— আপনি পরিবার, ওয়ার্ক-লাইফ ব্যালেন্স, মানসিক শান্তি সামলে কাজ করতে পারবেন কি না।”
দীপিন্দরের মতে, মনে শান্তি নিয়েও কাজের প্রতি অবসেশন সম্ভব। “এমন মানুষ আছেন, যাঁরা সব কিছু ব্যালেন্স করে নিয়েও দরকার পড়লে রাতারাতি সমস্যার সমাধান করতে পারেন। তাঁরাই আসল ফল এনে দেন,” বলেন জোমাটো সিইও।