প্রতিমন্ত্রীর বক্তব্য অনুযায়ী, ওই দিন ছুটি নিয়েছিলেন ৬১ জন সিনিয়র পাইলট ও ৫১ জন ফ্লাইট অফিসার। এই ঘটনার প্রসঙ্গে তিনি বলেন, “এই ছুটির প্রবণতা দেখায় যে, দুর্ঘটনার পর মানসিক স্বাস্থ্যের দিকে নজর দেওয়া কতটা জরুরি।”

ভেঙে পড়া এয়ার ইন্ডিয়ার সেই বিমান
শেষ আপডেট: 24 July 2025 21:34
দ্য ওয়াল ব্যুরো: ১২ জুন আমদাবাদের মেঘানিনগরে ভয়াবহভাবে ভেঙে পড়ে এয়ার ইন্ডিয়ার একটি বোয়িং বিমান (Air India Plane Crash)। প্রাণ হারান ২৬০ জন যাত্রী ও ক্রু সদস্য। এই মর্মান্তিক ঘটনার চার দিন পর, ১৬ জুন, অসুস্থতার কারণ (Sick Leave) দেখিয়ে ছুটি নিয়েছিলেন এয়ার ইন্ডিয়ার ১১২ জন পাইলট (Pilot)। বৃহস্পতিবার লোকসভায় এই তথ্যই জানিয়েছেন অসামরিক বিমান পরিবহণ প্রতিমন্ত্রী মুরলীধর মহল।
প্রতিমন্ত্রীর বক্তব্য অনুযায়ী, ওই দিন ছুটি নিয়েছিলেন ৬১ জন সিনিয়র পাইলট ও ৫১ জন ফ্লাইট অফিসার। এই ঘটনার প্রসঙ্গে তিনি বলেন, “এই ছুটির প্রবণতা দেখায় যে, দুর্ঘটনার পর মানসিক স্বাস্থ্যের দিকে নজর দেওয়া কতটা জরুরি।” তিনি আরও জানান, ২০২৩ সালের ফেব্রুয়ারি মাসেই সমস্ত বিমান সংস্থাকে নির্দেশ দেওয়া হয়েছিল যেন পাইলট ও অন্যান্য কর্মীদের স্বাস্থ্য পরীক্ষার সময় মানসিক স্বাস্থ্যও পরীক্ষা করা হয়।
এই বিষয়ে আরও পদক্ষেপ হিসেবে, পাইলট ও এয়ার ট্র্যাফিক কন্ট্রোলারদের মানসিক স্বাস্থ্য নিয়ে প্রশিক্ষণ দেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি, মানসিক চাপে থাকা কর্মীদের সহায়তার জন্য ‘পিয়ার সাপোর্ট টিম’ গঠনের পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।
আমদাবাদ দুর্ঘটনার তদন্ত করছে এয়ারক্র্যাফ্ট অ্যাক্সিডেন্ট ইনভেস্টিগেশন ব্যুরো (AAIB)। প্রাথমিক তদন্তে উঠে এসেছে, বিমানের জ্বালানির সুইচ অনিচ্ছাকৃতভাবে ‘কাটঅফ’ মোডে চলে গিয়েছিল। ককপিটে পাইলটদের মধ্যে বিভ্রান্তিকর কথোপকথনও রেকর্ডে পাওয়া গেছে, যেখানে একজন অপরজনকে প্রশ্ন করছেন, "তুমি কি বন্ধ করেছ?" জবাবে বলা হয়, "না"। যদিও কিছু সংবাদমাধ্যম এই ঘটনায় পাইলটের ভুল দাবি করলেও তদন্তকারীরা তা নাকচ করেছেন।
এদিকে, এয়ার ইন্ডিয়া জানিয়েছে, গত এক বছরে সুরক্ষা নীতিমালা লঙ্ঘনের ঘটনায় তারা ডিজিসিএ-র কাছ থেকে চারটি কারণ দর্শানোর নোটিস পেয়েছে। বিমানের ক্লান্তি ও প্রশিক্ষণ সংক্রান্ত বিধি লঙ্ঘনের অভিযোগও রয়েছে। সংস্থার দাবি, তারা যাত্রী ও কর্মীদের নিরাপত্তার বিষয়ে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ।