মেয়ের মৃত্যুর আসল সত্যি জানতেন, তাই অপরাধবোধ কুড়ে খাচ্ছিল মা অঞ্জনা সোলাঙ্কিকে।

শেষ আপডেট: 16 July 2025 15:26
দ্য ওয়াল ব্যুরো: প্রথমে মনে হয়েছিল এটা নিছক দুর্ঘটনা। কিন্তু তারপর সামনে এল তদন্তের মোড় ঘুরিয়ে দেওয়া এক বিস্ফোরক তথ্য। জানা যায়, তাঁদের ৭ বছরের মেয়ে পা পিছলে পড়েনি, স্বামীই তাকে গুজরাতের নর্মদা ক্যানেলে ঠেলে ফেলে দিয়েছে। সত্যি চাপা দেওয়ার অনেক চেষ্টা করেও অবশেষে পুলিশের কাছে মুখ খুললেন মহিলা।
মেয়ের মৃত্যুর আসল সত্যি জানতেন, তাই অপরাধবোধ কুড়ে খাচ্ছিল মা অঞ্জনা সোলাঙ্কিকে।
১০ জুন, খেড়ার বাসিন্দা বিজয় সোলাঙ্কি এবং অঞ্জনা সোলাঙ্কি তাঁদের বড় মেয়ে ভূমিকাকে নিয়ে স্থানীয় মন্দিরে দর্শনের জন্য গিয়েছিলেন। বাইকে করে বাড়ি ফেরার পথে অঞ্জনা স্বামীকে বলেন তিনি বাবার বাড়ি থেকে ঘুরে আসতে চান। কিন্তু অঞ্জনার অভিযোগ, সেই সময় বিজয় তা নাকচ করে দিয়ে ‘ছেলে চেয়েও মেয়ের জন্ম নিয়ে খুশি নন’ এই প্রসঙ্গে রাগারাগি শুরু করেন।
কিছুক্ষণ বাদেই প্রায় রাত ৮টা নাগাদ, কপদবঞ্জে ওয়াঘাবত ব্রিজের সামনে বাইক থামান। সেখানেই নর্মদা ক্যানেলের গভীর স্রোতের মুখে ঠেলে ফেলে দেন ভূমিকাকে।
ঘটনার আকস্মিকতায় অঞ্জনা হকচকিয়ে যান এবং সম্পূর্ণ ভেঙে পড়েন। কিন্তু ডিভোর্সের ভয় দেখিয়ে কার্যত তাঁর মুখ বন্ধ করে রাখেন বিজয়। তারপর তিনি স্ত্রীকে তাঁর বাবার বাড়িতে ছেড়ে দিয়ে আসেন।
খেড়া জেলার পুলিশ সুপারিন্টেনডেন্ট জানান, প্রথমে ওই দম্পতি তাঁদের জানান যে ক্যানালের সামনে দাঁড়িয়ে মাছ দেখতে গিয়ে পা পিছলে জলে পড়ে যায় ভূমিকা। পুলিশ প্রথমে ভূমিকার জুতো খুঁজে পায়, পরে উদ্ধার হয় দেহ।’
তিনি আরও যোগ করেন, ‘প্রাথমিকভাবে পুলিশ দুর্ঘটনা ধরে নিয়েই তদন্ত শুরু করেছিল। কিন্তু পরিবারের লোকজনকে জিজ্ঞাসাবাদ শুরু করতেই সন্দেহ বাড়ে পুলিশের। তারপরই ভূমিকার মা অঞ্জনা স্বীকার করেন মেয়ের খুনের কথা, জানান ঠিক কী হয়েছিল সেদিন। তিনি পুলিশের সঙ্গে ঘটনাস্থলে গিয়ে তিনি তদন্তে সহযোগিতা করেছেন।’
সংবাদমাধ্যমের সামনে ভেঙে পড়েন অঞ্জনা। তিনি জানান, ‘আমার অজান্তেই আমার স্বামী মেয়েকে ক্যানেলের ধারে দাঁড় করিয়ে দেন। তারপর মাছ দেখানোর অছিলায় ঠেলে ফেলে দেন ওকে ক্যানেলে। আমি কিছু বুঝে ওঠার আগেই ভূমিকা তলিয়ে যায়, অসহায় হয়ে দেখা ছাড়া আমার আর কিছু করার ছিল না।’ সেদিন রাতে তিনি ঘুমোতে পারেননি।
অঞ্জনার কথায়, তাঁর স্বামী বিজয়ের ইচ্ছে ছিল তাঁদের ছেলে হোক, কিন্তু তাঁদের পর পর দুই মেয়ে হয়। ১১ বছর আগে বিয়ে হয়েছে তাঁদের, কিন্তু প্রায়শই এই নিয়ে ঝামেলা হত তাঁদের মধ্যে। রেগে গিয়ে মাঝে মাঝে বাবার বাড়িতে চলে যেতেন তিনি। তখন বুঝিয়ে ঠান্ডা করে তাঁকে ফিরিয়ে আনত বিজয়।
তিন বছর আগে ছোট মেয়ের জন্মের পর থেকে বিজয় তার ওপর অত্যাচারও করতেন বলে অভিযোগ করেছেন অঞ্জনা। মেয়েকে খুনের ঘটনা লুকিয়ে মিথ্যে চালিয়ে যাওয়ার জন্য তাঁকে চাপে রাখা হয়েছিল বলেও জানিয়েছেন তিনি।
অঞ্জনার অভিযোগের ভিত্তিতে বিজয়কে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। পুলিশ জানিয়েছে, ‘তদন্ত চলছে। কোনও কুসংস্কার-সহ সবরকম দিক খতিয়ে দেখা হচ্ছে।’