এই ঘটনার তদন্তে ইতিমধ্যেই দু’টি বিশেষ দল গঠন করেছে পুলিশ। ডেপুটি কমিশনার শশাঙ্ক সিং জানিয়েছেন, স্কুলের ভূমিকা নিয়েও তদন্ত চলছে।

প্রতীকী ছবি
শেষ আপডেট: 21 July 2025 08:05
দ্য ওয়াল ব্যুরো: স্কুল থেকে বাড়ি ফেরার পর অসহ্য যন্ত্রণায় কেঁদে উঠেছিল চার বছরের শিশু। মায়ের কাছে জানায়, যৌনাঙ্গে তীব্র যন্ত্রণা হচ্ছে। চিকিৎসকের কাছে নিয়ে যেতেই স্পষ্ট হয়, শিশুটি যৌন হেনস্থার শিকার। ভয়ঙ্কর এই ঘটনা ঘটেছে উত্তরপ্রদেশের লখনউয়ে। শুক্রবার, এই অভিযোগের ভিত্তিতে স্কুল ভ্যানের চালককে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। শুধু তাই নয়, গাফিলতির অভিযোগে স্কুল কর্তৃপক্ষের বিরুদ্ধেও তদন্ত শুরু হয়েছে।
পুলিশ জানিয়েছে, ধৃত চালকের নাম মহম্মদ আরিফ, বয়স ২৫। অভিযোগ, গাড়ির মালিক তিনিই, কিন্তু এক বেসরকারি স্কুল তাঁকেই ভ্যানচালক হিসেবে নিযুক্ত করেছিল। অভিযুক্ত আরিফ ও স্কুল ম্যানেজার সন্দীপ কুমারের বিরুদ্ধে ভারতীয় দণ্ডবিধি ও শিশু সুরক্ষা আইন পকসো-সহ একাধিক ধারায় মামলা রুজু হয়েছে।
ইন্দিরানগর থানার এসএইচও সুনীল কুমার তিওয়ারি জানান, দলিত শিশুটির মা কয়েক দিন আগেই স্কুল কর্তৃপক্ষকে চালক সম্পর্কে সতর্ক করেছিলেন। কিন্তু কর্তৃপক্ষ কোনও ব্যবস্থাই নেয়নি। এরপর শুক্রবার ফের ওই চালকই গাড়ি নিয়ে মেয়েকে নিতে এলে পরিবারের সন্দেহ বাড়ে। তখনই পুলিশের দ্বারস্থ হন নির্যাতিতার মা।
ধৃতদের বিরুদ্ধে ভারতীয় ন্যায় সংহিতার ৬৫(২) (১২ বছরের কম বয়সিকে ধর্ষণ), ৩৫২ (ইচ্ছাকৃতভাবে অপমান), ৩৫১(২) (ভয় দেখানো) ধারায় মামলা দায়ের করা হয়েছে। পাশাপাশি, তফসিলি জাতি ও জনজাতি (অপরাধ প্রতিরোধ) আইনও যুক্ত হয়েছে মামলায়।
এই ঘটনার তদন্তে ইতিমধ্যেই দু’টি বিশেষ দল গঠন করেছে পুলিশ। ডেপুটি কমিশনার শশাঙ্ক সিং জানিয়েছেন, স্কুলের ভূমিকা নিয়েও তদন্ত চলছে। স্কুলের কোনও কর্মীকে এখনও পর্যন্ত গ্রেফতার না করা হলেও, তাঁদের প্রত্যেককে জেরা করা হচ্ছে। স্কুল কর্তৃপক্ষের 'নিষ্ক্রিয়তা'কেই প্রাথমিকভাবে দায়ী করা হচ্ছে এই ঘটনায়।
ঘটনার তীব্র নিন্দা করেছে শহরের শিশু সুরক্ষা কর্মীরা। তাঁদের বক্তব্য, ছোটদের নিরাপত্তার দায়িত্ব স্কুল কর্তৃপক্ষকেই নিতে হবে। অভিভাবকদের অভিযোগ উপেক্ষা করা কিংবা অভিযুক্তকে ফের গাড়ি পাঠানো, সবই চূড়ান্ত দায়িত্বজ্ঞানহীন পদক্ষেপ।
ঘটনার পর এলাকায় চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে। স্থানীয়রাও স্কুলের বিরুদ্ধে ক্ষোভ উগরে দিয়েছেন।