ছেলেকে নিয়ে স্থানীয় থানায় অভিযোগ দায়ের করেন বাবা। পুলিশের হস্তক্ষেপে স্কুল কর্তৃপক্ষের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের হয়।

মেঝেতে বসিয়ে পরীক্ষা নিল স্কুল
শেষ আপডেট: 9 October 2025 16:00
দ্য ওয়াল ব্যুরো: স্কুল থেকে ফিরে বাবাকে জিজ্ঞেস করেছিল ছেলেটা, “ফি কবে দেবে গো?” বাবা বুঝতে পারেননি প্রথমে, ছেলে হঠাৎ কেন এমন প্রশ্ন করল। পরে জানতে পারেন অপ্রত্যাশিত ঘটনার কথা।
মহারাষ্ট্রের (Maharashtra) ভিওয়ান্ডির সালাউদ্দিন আইয়ুবি মেমোরিয়াল উর্দু হাই স্কুল (School)। অভিযোগ, এই স্কুলেরই দশম শ্রেণির ছাত্র ফাহাদ ফয়েজ খানকে (Fahad Faiz Khan) প্রথম সেমেস্টারের পরীক্ষায় বসানো হয়েছিল ক্লাসের অন্য ছাত্রদের থেকে আলাদা করে। তাও আবার মেঝেতে, খবরের কাগজের উপর। কারণ, তার বাবা স্কুল ফি-র টাকা দিতে পারেননি (Class 10 Boy Made To Sit On Floor For Exam)।
ফাহাদের বাবা, ফয়েজ খান (Faiz Khan), পেশায় শ্রমিক। তিনি জানান, “৩ অক্টোবর রাতে কাজ থেকে ফিরে দেখি, ফাহাদ কাঁদছে। জিজ্ঞেস করতেই বলল, ‘বাবা, স্কুলের ফি কবে দেবে গো?’ তখনই বুঝতে পারলাম কিছু একটা ঘটেছে।”
পরের দিন সকালে স্কুলে যান ফাহাদের বাবা। তাঁর কথায়, “স্কুল থেকে প্রথমে আমাকে বলল, ফাহাদ তিন তলায় বসে। কিন্তু আমাকে ওপরে যেতে দিল না। আমি জোর করে উঠে যেতেই দেখি, আমার ছেলে মেঝেতে খবরের কাগজের উপর বসে পরীক্ষা দিচ্ছে। পরীক্ষককে প্রশ্ন করলে তিনি বললেন, প্রিন্সিপালের সঙ্গে কথা বলুন। আমি ছেলেকে নিয়ে বাইরে বেরিয়ে আসি।”
এর পরেই তিনি ছেলেকে নিয়ে স্থানীয় থানায় অভিযোগ দায়ের করেন। পুলিশের হস্তক্ষেপে স্কুল কর্তৃপক্ষের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের হয়। পরে পুলিশই ফাহাদকে আবার স্কুলে পৌঁছে দেয়, যাতে সে পরীক্ষা শেষ করতে পারে।
ফাহাদের বাবার অভিযোগ, “স্কুল ফি মোট ২,৫০০ টাকা। তার মধ্যে আমি ১,২০০ টাকা দিয়েছিলাম। বাকি ১,৩০০ টাকা না দেওয়ায় তারা আমার ছেলের নবম শ্রেণির রেজাল্টও আটকে রেখেছে।”
পরিবারের অভিযোগ, স্কুলের এই আচরণে শুধু এক ছাত্র নয়, এক শিশুর আত্মসম্মান ভেঙে গিয়েছে। ফাহাদের বাবার কথায়, “ছেলেটা খুব কষ্ট পেয়েছে। ওর মনে এখন ভয় ঢুকে গেছে। ভাবছে যেন গরিব বলেই ওর সঙ্গে এমন ব্যবহার করা হয়েছে।”
এই ঘটনায় শিক্ষামহল থেকে নিন্দার ঝড় উঠেছে। শিক্ষা অধিদফতর সূত্রে জানা গিয়েছে, অভিযোগের তদন্ত শুরু হয়েছে। দোষী প্রমাণিত হলে স্কুলের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে।