মালাক্কা প্রণালিতে তৈরি ঘূর্ণিঝড় ‘সেনিয়ার’ এখনও আবহাওয়াবিদদের বিশেষ নজরে। কারণ এই অঞ্চলে এমন শক্তির কোনও ঘূর্ণিঝড়ের নজির আধুনিক রেকর্ডে নেই।

ছবি - এআই
শেষ আপডেট: 27 November 2025 11:50
দ্য ওয়াল ব্যুরো: জাঁকিয়ে শীত (Winter) পড়ার মুখে বারবার বাধা সৃষ্টি হচ্ছে। তার বড় কারণ একের পর এক ঘূর্ণিঝড় (Cyclone)। এই মুহূর্তে ঘূর্ণিঝড় ‘সেনিয়ার’ (Senyar) নিয়ে অঙ্ক কষতে হচ্ছে আবহাওয়া দফতরকে (Weather Office)। তার মধ্যেই আরও এক ঘূর্ণিঝড়ের ভ্রূকুটি। আইএমডি (IMD) জানিয়েছে, আগামী কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই আরও একটি নিম্নচাপ বড় ঘূর্ণিঝড়ে পরিণত হতে পারে। তার সম্ভাব্য নাম হবে - ‘দিতওয়াহ’ (Ditwah)।
বৃহস্পতিবার সকাল থেকে আইএমডি-র পর্যবেক্ষণে দেখা যায়, শ্রীলঙ্কার দক্ষিণ-পূর্ব উপকূলের কাছাকাছি উৎপত্তি হওয়া গভীর নিম্নচাপটি (Low Depression) উত্তর-উত্তর-পশ্চিম দিকে সরে বঙ্গোপসাগরের (Bay of Bengal) উষ্ণ জলে শক্তি বাড়াচ্ছে। ইতিমধ্যেই অঞ্চলজুড়ে ৮ কিলোমিটার বেগে অগ্রসর হচ্ছে এই সিস্টেম। আইএমডি (IMD) জানিয়েছে, শুক্রবারের মধ্যেই এটি পূর্ণাঙ্গ ঘূর্ণিঝড়ের রূপ নিতে পারে এবং পরবর্তী দু’দিনে উত্তর তামিলনাডু, পুদুচেরি এবং দক্ষিণ অন্ধ্র প্রদেশ উপকূলের দিকে এগোতে পারে।
এই কারণে চেন্নাই-সহ তামিলনাডুর (Tamilnadu) একাধিক জেলা - নাগাপট্টিনম, তিরুভল্লুর, তাঞ্জাভুর প্রভৃতিতে ২৭, ২৮ ও ২৯ নভেম্বর হলুদ এবং কমলা সতর্কতা জারি করা হয়েছে। উপকূলজুড়ে জোর হাওয়া, ভারী বৃষ্টি এবং সমুদ্র উত্তাল হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।
অন্যদিকে, মালাক্কা প্রণালিতে তৈরি ঘূর্ণিঝড় ‘সেনিয়ার’ (Senyar) এখনও আবহাওয়াবিদদের বিশেষ নজরে। কারণ এই অঞ্চলে এমন শক্তির কোনও ঘূর্ণিঝড়ের নজির আধুনিক রেকর্ডে নেই। মালয়েশিয়ার (Malaysia) আবহাওয়া দফতর জানিয়েছে, মালাক্কা প্রণালিতে ২০১৭ সালে একটি ট্রপিক্যাল ডিপ্রেশন দেখা গিয়েছিল ঠিকই, কিন্তু পূর্ণমাত্রার সাইক্লোন (Cyclone) তৈরি হওয়া এই প্রথম।
সেনিয়ার বর্তমানে সুমাত্রার দিকে এগোচ্ছে এবং মালয়েশিয়ার একাধিক উত্তর প্রদেশে ভারী বৃষ্টি ও ঝোড়ো হাওয়ার সতর্কতা দেওয়া হয়েছে। আবহাওয়াবিদদের মতে, এ ধরনের ঘূর্ণিঝড় মালাক্কা প্রণালিতে অত্যন্ত বিরল। কেউ কেউ একে ‘রেয়ারেস্ট অব দ্য রেয়ার’ বলছেন।
ভারতের আবহাওয়া দফতর আপাতত মৎস্যজীবীদের (Fishermen) গভীর সমুদ্রে না যাওয়ার নির্দেশ দিয়েছে। একইসঙ্গে তামিলনাডু ও অন্ধ্র উপকূলজুড়ে দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা দল মোতায়েন করা হচ্ছে। আগামী ৪৮ ঘণ্টা দক্ষিণ ভারতের আবহাওয়া অস্থির থাকবে বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা।
তবে কোনও ঘূর্ণিঝড়ের (Cyclone) প্রভাব সরাসরি বাংলায় পড়বে কিনা, তা নিয়ে এখন নিশ্চিত কোনও তথ্য পাওয়া যায়নি। এগুলির প্রভাবে পুরোপুরি শীত পড়তে বাধা সৃষ্টি হলেও রাজ্যে যে আবার ভারী বৃষ্টি হবে, তেমন আভাস এখনও নেই। যদিও আবহবিদরা মনে করছেন, ডিসেম্বরের দ্বিতীয় সপ্তাহ থেকে আবহাওয়ার বদল স্পষ্ট হবে। তার আগে হালকা থেকে মাঝারি বৃষ্টিপাত হতে পারে।