উত্তরপ্রদেশের লখনউ শহরে মেট্রো স্টেশনের নrচে ঘুমিয়ে থাকা তিন বছরের শিশুকন্যাকে তুলে নিয়ে ধর্ষণ করা হয়। মেয়েটির অবস্থা আশঙ্কাজনক। পুলিশ তদন্তে নেমেছে।

প্রতীকী ছবি।
শেষ আপডেট: 6 June 2025 09:41
দ্য ওয়াল ব্যুরো: তিন বছরের শিশুকে ধর্ষণের অভিযোগ! উত্তরপ্রদেশের রাজধানী লখনউয়ের এই মর্মান্তিক ঘটনায় পুলিশ জানিয়েছে, মেয়েটি তার দিনমজুর বাবা-মায়ের সঙ্গে মেট্রো স্টেশনের নীচে ঘুমিয়ে ছিল। সে সময়েই এক অপরিচিত ব্যক্তি তাকে তুলে নিয়ে গিয়ে ধর্ষণ করে। শিশুটি বর্তমানে আশঙ্কাজনক অবস্থায় হাসপাতালে ভর্তি।
পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, বুধবার গভীর রাতে এই ঘটনা ঘটে। শিশুটির মা-বাবা দিনমজুরের কাজ করেন এবং প্রতিদিনের শেষে ওই স্টেশনের নীচেই তাঁরা রাতে আশ্রয় নেন। সেই রাতেই অভিযুক্ত ব্যক্তি শিশুটিকে চুপিচুপি তুলে নিয়ে যায় এবং একটি নির্জন স্থানে নিয়ে গিয়ে ধর্ষণ করে।
খবর পাওয়ার পর সঙ্গে সঙ্গে ঘটনাস্থলে পৌঁছন পুলিশ ও প্রশাসনের উচ্চপদস্থ আধিকারিকরা। লখনউ পুলিশের ডেপুটি কমিশনার (সেন্ট্রাল) আশিস কুমার শ্রীবাস্তব নিজেই ঘটনাস্থলে আসেন। শিশুটিকে দ্রুত উদ্ধার করে একটি স্থানীয় হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। পরে অবস্থার অবনতি হলে তাকে উন্নত চিকিৎসার জন্য অন্য হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়। হাসপাতাল সূত্রে জানা গেছে, শিশুটির শারীরিক অবস্থা অত্যন্ত সংকটজনক।
ডেপুটি কমিশনার জানান, 'আমরা আলমবাগ থানায় মামলা দায়ের করেছি। ঘটনার তদন্তের জন্য পাঁচটি পৃথক দল গঠন করা হয়েছে। আশেপাশের সমস্ত সিসিটিভি ফুটেজ খতিয়ে দেখা হচ্ছে এবং অভিযুক্তকে দ্রুত শনাক্ত ও গ্রেফতার করার জন্য পুলিশ সর্বোচ্চ চেষ্টা করছে।'
পুলিশ আরও জানায়, আশপাশের এলাকা জুড়ে নজরদারি বাড়ানো হয়েছে এবং প্রত্যক্ষদর্শীদের জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে। যদিও এখনও পর্যন্ত অভিযুক্তের পরিচয় নিশ্চিত করা যায়নি।
ঘটনাটি প্রকাশ্যে আসতেই লখনউ সহ সমগ্র উত্তরপ্রদেশে তীব্র প্রতিক্রিয়া তৈরি হয়েছে। শিশু নিরাপত্তা ও গরিব পথবাসী পরিবারগুলির সুরক্ষা নিয়ে ফের প্রশ্ন উঠেছে। ঘটনার নিন্দা জানিয়ে দোষীর দ্রুত গ্রেফতার ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি তুলেছেন সকলে।
মানবাধিকার কর্মী ও শিশু সুরক্ষা সংগঠনগুলিও এই ঘটনায় কড়া প্রতিক্রিয়া জানিয়েছে। তাদের বক্তব্য, 'শিশুদের জন্য নিরাপদ পরিবেশ নিশ্চিত করতে প্রশাসনের আরও দায়িত্বশীল পদক্ষেপ প্রয়োজন। এমন অপরাধ শুধু আইন দিয়ে ঠেকানো যাবে না, এর জন্য সামাজিক সচেতনতা ও কাঠামোগত সহায়তা অত্যন্ত জরুরি।'
অন্যদিকে, পুলিশ জানিয়েছে তারা বিষয়টিকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে দেখছে এবং তদন্তে কোনও রকম গাফিলতি বরদাস্ত করা হবে না। প্রশাসনও আশ্বস্ত করেছে, শিশুটির চিকিৎসা যাতে যথাসম্ভব উন্নত ও দ্রুত হয়, সে ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে।