বিমান দুর্ঘটনার পর থেকেই ক্ষতিপূরণ নিয়ে নানা প্রশ্ন তুলছেন নিহতদের আত্মীয়রা। তাঁদের অভিযোগ, পরিবারগুলির উপর ‘চাপ’ সৃষ্টি করে ক্ষতিপূরণ সংক্রান্ত কাগজে সই করিয়ে নেওয়ার চেষ্টা চলছে।

ফাইল ছবি
শেষ আপডেট: 4 July 2025 12:12
দ্য ওয়াল ব্যুরো: আমেদাবাদে (Ahmedabad Plane Crash) এয়ার ইন্ডিয়ার বিমান দুর্ঘটনায় (Air India Crash) যে যাত্রীদের মৃত্যু হয়েছে তাদের পরিবারকে ভয় দেখানোর অভিযোগ উঠেছে বিমান সংস্থার বিরুদ্ধে! এই অভিযোগ করেছেন কমপক্ষে ৪০ জন নিহতের পরিবার। দাবি, ক্ষতিপূরণের অঙ্ক (Compensation) নিয়ে চাপ দেওয়া হচ্ছে নিহতদের পরিবারের সদস্যদের। কিন্তু সেই অভিযোগ উড়িয়ে দিয়েছে এয়ার ইন্ডিয়া কর্তৃপক্ষ। তাঁদের স্পষ্ট দাবি, সে অভিযোগ করা হচ্ছে তা ভিত্তিহীন ও অসত্য।
বিমান দুর্ঘটনার পর থেকেই ক্ষতিপূরণ নিয়ে নানা প্রশ্ন তুলছেন নিহতদের আত্মীয়রা। তাঁদের অভিযোগ, পরিবারগুলির উপর ‘চাপ’ সৃষ্টি করে ক্ষতিপূরণ সংক্রান্ত কাগজে সই করিয়ে নেওয়ার চেষ্টা চলছে। এর পরিপ্রেক্ষিতেই এয়ার ইন্ডিয়ার তরফে জানানো হয়েছে, কোনও পরিবারকে জোর করা হয়নি, বরং প্রয়োজনীয় সহানুভূতি ও নমনীয়তা রেখেই পুরো বিষয়টি সামলানো হচ্ছে। সংস্থার তরফে এও জানানো হয়েছে, যে সব প্রশ্নপত্র দেওয়া হয়েছিল, সেগুলির উদ্দেশ্য ছিল কেবল উত্তরাধিকার নির্ধারণ করা যাতে ক্ষতিপূরণ যথাযথভাবে উপযুক্ত ব্যক্তির কাছে পৌঁছয়।
মৃতদের পরিবারের অনেকে অবশ্য দাবি করেছেন, ফর্ম ফিলাপ নিয়ে ভয় দেখানো হয়েছে তাঁদের। বলা হয়েছে, কোনও ভুল থাকলে নাকি একটিও টাকা দেওয়া হবে না! এই প্রসঙ্গে এয়ার ইন্ডিয়ার বক্তব্য, “নির্ধারিত কিছু আইনি প্রক্রিয়া মানতেই হয়। তবে আমরা পরিবারগুলিকে সময় ও সুযোগ দিচ্ছি। যাঁরা প্রশ্নপত্র পেয়েছেন, তাঁদের তা ইমেল বা হাতে জমা দেওয়ার স্বাধীনতা রয়েছে। কাউকে আগাম না জানিয়ে বাড়িতে যাওয়া হয়নি।’’
টাটা গোষ্ঠীর মালিকানাধীন এয়ার ইন্ডিয়া প্রথমে পরিবারপিছু ১ কোটি টাকা ক্ষতিপূরণের ঘোষণা করেছিল। পরে আরও ২৫ লক্ষ টাকা ‘তাৎক্ষণিক সহায়তা’ হিসেবে দেওয়ার কথা জানানো হয়। কিন্তু নিহতদের পরিবার মনে করছেন, আন্তর্জাতিক আইন অনুযায়ী ক্ষতিপূরণ আরও বেশি হওয়া উচিত। কিন্তু এরপরই তাঁদের ভয় দেখানোর অভিযোগ উঠেছে। বিষয়টি নিয়ে স্বাভাবিকভাবেই বিতর্ক সৃষ্টি হয়েছে।
বিমান দুর্ঘটনায় মৃতদের মধ্যে ৫২ জন ছিলেন ব্রিটেনের বাসিন্দা। ইতিমধ্যে এও জানা গেছে, ক্ষতিপূরণ ইস্যুতে ব্রিটিশ-বংশোদ্ভূত পরিবারগুলি এয়ার ইন্ডিয়ার বিরুদ্ধে আইনি পথে হাঁটবে। তাঁরা যোগাযোগ করেছেন লন্ডনভিত্তিক আইন সংস্থা কিস্টোন ল-এর সঙ্গে। সংস্থাটি নিশ্চিত করেছে, তাদের সঙ্গে একাধিক পরিবারের আলোচনাও হয়েছে। বিষয়টি শুধু বীমা সংস্থার প্রাথমিক ক্ষতিপূরণ অফারেই আটকে নেই, বরং আন্তর্জাতিক আইন মেনে ‘আগাম অর্থ’ দেওয়ার দায়বদ্ধতা কতটা মানছে সংস্থা, সেটাও খতিয়ে দেখা হচ্ছে।