রাষ্ট্রপতি ভবনে অনুষ্ঠিত শপথগ্রহণ অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী, মন্ত্রিসভা ও বিরোধী শিবিরের নেতারা।

সি পি রাধাকৃষ্ণন
শেষ আপডেট: 12 September 2025 12:29
দ্য ওয়াল ব্যুরো: ভারতের উপ-রাষ্ট্রপতি হিসেবে শপথ নিলেন সি পি রাধাকৃষ্ণন। দেশের ১৫তম উপ-রাষ্ট্রপতি হিসেবে শুক্রবার রাষ্ট্রপতি ভবনে রাষ্ট্রপতি দ্রৌপদী মুর্মুর হাত থেকে শপথ গ্রহণ করলেন। লাল কুর্তা পরে ইংরেজিতে ঈশ্বরের নামে শপথ নেন তিনি।
এদিন অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী, কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ, প্রতিরক্ষা মন্ত্রী রাজনাথ সিং, প্রাক্তন উপ-রাষ্ট্রপতি জগদীপ ধনকড়-সহ মন্ত্রিসভার একাধিক সদস্য ও বিরোধী শিবিরের নেতারা। ধনকড় এদিন প্রথমবার প্রকাশ্যে আসেন ২১ জুলাই উপ-রাষ্ট্রপতির পদ থেকে ইস্তফা দেওয়ার পর।
গত ৯ সেপ্টেম্বর এনডিএ-র প্রার্থী রাধাকৃষ্ণন ৪৫২ ভোট পেয়ে দেশের ১৫তম উপ-রাষ্ট্রপতি নির্বাচিত হন। তাঁর প্রতিদ্বন্দ্বী প্রাক্তন সুপ্রিম কোর্ট বিচারপতি বি সুধর্শন রেড্ডি পান ৩০০ ভোট। ধনকড় হঠাৎ ইস্তফা দেন তাই এই উপনির্বাচন হয়।
কে সি পি রাধাকৃষ্ণন?
১৯৫৭ সালের ৪ মে তামিলনাড়ুর তিরুপ্পুরে জন্ম। কেবল ১৬ বছর বয়সে, ১৯৭৩ সালে, তিনি যুক্ত হন রাষ্ট্রীয় স্বয়ংসেবক সংঘের (আরএসএস) সঙ্গে। সেখান থেকেই তাঁর রাজনৈতিক যাত্রার শুরু। প্রথমে জনতা পার্টি হয়ে, পরে বিজেপিতে যোগ দেন তিনি। শুরু থেকেই দলের মূল ভাবধারার সঙ্গে তাঁর গভীর সংযোগ ছিল।
রাজনীতিতে উত্থান
১৯৯৮ সালে বিজেপির প্রার্থী হিসেবে কোয়েম্বাটুর থেকে লোকসভায় জয়লাভ করেন রাধাকৃষ্ণন। ১৯৯৯ সালেও তিনি আসন ধরে রাখেন। প্রথমবার ১.৫ লক্ষের বেশি ভোটে এবং দ্বিতীয়বার ৫৫ হাজার ভোটে জেতেন তিনি। এই সাফল্যের পেছনে ১৯৯৮ সালের কোয়েম্বাটুর বিস্ফোরণের পর বিজেপির জনপ্রিয়তার উত্থানও বড় কারণ হিসেবে কাজ করে।
পরে ধীরে ধীরে দলে তাঁর প্রভাব বাড়ে। ২০০৪ থেকে ২০০৭ পর্যন্ত তিনি বিজেপি তামিলনাড়ুর সভাপতি ছিলেন। সেই সময়ে তিনি ৯৩ দিনের একটি যাত্রা করেন, ভারতের নদীগুলিকে যুক্ত করা, অস্পৃশ্যতা বিরোধী আন্দোলন, সন্ত্রাসবাদের বিরুদ্ধে প্রচার ইত্যাদি ইস্যুতে। এছাড়া, ২০০৪ সালে ডিএমকে বিজেপির সঙ্গে সম্পর্ক ছিন্ন করলে এনডিএ-র জোট রাজনীতিকে পুনরুজ্জীবিত করতেও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা নেন তিনি।