ফের একবার দেশে মাথাচাড়া দিচ্ছে করোনা। কেরল, তামিলনাড়ু, মহারাষ্ট্র ও কর্নাটক-সহ একাধিক রাজ্যে মিলছে নতুন করে সংক্রমণের খবর।

মাথাচাড়া দিচ্ছে করোনা
শেষ আপডেট: 25 May 2025 08:11
দ্য ওয়াল ব্যুরো: ফের একবার দেশে মাথাচাড়া দিচ্ছে করোনা। কেরল, তামিলনাড়ু, মহারাষ্ট্র ও কর্নাটক-সহ একাধিক রাজ্যে মিলছে নতুন করে সংক্রমণের খবর। মৃতও হয়েছেন দু’জন করোনা আক্রান্ত। পশ্চিমবঙ্গেও হদিস মিলেছে নতুন সংক্রমণের। ফলে স্বাভাবিক ভাবেই প্রশ্ন উঠছে— ফের কি ভয়াল রূপ নেবে কোভিড? কী বলছে কেন্দ্র? তবে কি আবারও ফিরতে পারে লকডাউনের সেই সব দিন?
সরকারি সূত্র বলছে, এখনই আতঙ্কিত হওয়ার মতো পরিস্থিতি নয়। অধিকাংশ সংক্রমণই হালকা। রোগীরা হাসপাতালে ভর্তি না হয়ে বাড়িতে থেকেই সুস্থ হয়ে উঠছেন। পরিস্থিতির দিকে কড়া নজর রাখা হচ্ছে, তবে এই মুহূর্তে কোনও জোরালো বিধিনিষেধের পরিকল্পনা নেই।
শনিবার সংক্রমণের হার বাড়তেই কেন্দ্রীয় স্বাস্থ্যসচিব জরুরি বৈঠকে বসেন স্বাস্থ্য গবেষণা দফতরের সচিব, আইসিএমআরের ডিরেক্টর জেনারেল এবং ন্যাশনাল সেন্টার ফর ডিজিজ কন্ট্রোলের কর্তাদের সঙ্গে। বৈঠকে সামগ্রিক পরিস্থিতির পর্যালোচনা করা হয়।
নতুন ভ্যারিয়েন্টের খোঁজ
INSACOG-এর রিপোর্ট অনুযায়ী, ভারতে ক্রমশ বাড়ছে করোনা ভাইরাসের নতুন ভ্যারিয়েন্ট NB.1.8.1-এর প্রভাব। এছাড়াও LF.7 ভ্যারিয়েন্টেও ইতিমধ্যেই সংক্রমিত হয়েছেন চারজন। যদিও এই ভ্যারিয়েন্টগুলির সংক্রমণ ক্ষমতা এখনও খুব বেশি নয় বলেই মনে করা হচ্ছে। আক্রান্তদের বেশিরভাগই মৃদু উপসর্গ নিয়েই সুস্থ হয়ে উঠছেন। তবু সম্ভাব্য পরিস্থিতির জন্য হাসপাতালগুলিকে বাড়তি বেড ও অক্সিজেন সিলিন্ডার মজুত রাখার নির্দেশ দিয়েছে কেন্দ্র। বাড়ানো হয়েছে নজরদারি।
শুধু ভারত নয়, সিঙ্গাপুর, হংকং-সহ একাধিক দেশে করোনা সংক্রমণের গ্রাফ ফের ঊর্ধ্বমুখী। তবে এখন পর্যন্ত এমন কোনও প্রমাণ পাওয়া যায়নি, যাতে বলা যায় এই নতুন ভ্যারিয়েন্টগুলি আগের তুলনায় অনেক বেশি সংক্রামক। ভারতে সবচেয়ে বেশি সংক্রমণ হয়েছে JN.1 ভ্যারিয়েন্টে, যার শিকার হয়েছেন প্রায় ৫৩ শতাংশ করোনা রোগী। দ্বিতীয় স্থানে রয়েছে ওমিক্রনের সাব-লিনিয়েজ, যা প্রায় ২০ শতাংশ সংক্রমণের জন্য দায়ী।
কেন্দের তরফে সতর্কতা বজায় রাখতে বলা হয়েছে সাধারণ মানুষকে। মাস্ক পরা, হাত ধোওয়ার অভ্যাস ও ভিড় এড়িয়ে চলার মতো প্রাথমিক সুরক্ষা-বিধি মেনে চলার পরামর্শ দিয়েছে স্বাস্থ্য দফতর।