গত মাসেই প্রাক্তন উপরাষ্ট্রপতি জগদীপ ধনকড় সংবিধানের প্রস্তাবনায় থাকা এই দু’টি শব্দের প্রাসঙ্গিকতা নিয়ে প্রশ্ন তোলেন।

শেষ আপডেট: 25 July 2025 09:01
দ্য ওয়াল ব্যুরো: সংবিধানের প্রস্তাবনা থেকে ‘সমাজতন্ত্র’ এবং ‘ধর্মনিরপেক্ষতা’ শব্দ দুটি সরানো হবে কিনা - এই প্রশ্ন নিয়ে সম্প্রতি জল্পনা তৈরি হয়েছে রাজনৈতিক মহলে। তবে বৃহস্পতিবার রাজ্যসভায় কেন্দ্রীয় সরকার স্পষ্ট জানিয়ে দিল, এমন কোনও পদক্ষেপের কথা তারা ভাবছে না।
রাজ্যসভার সদস্য রামজিলাল সুমন এই প্রসঙ্গে সরকারের অবস্থান জানতে চাইলে, লিখিত জবাবে কেন্দ্রীয় আইনমন্ত্রী অর্জুন মেঘওয়াল বলেন, “সংবিধানের প্রস্তাবনায় থাকা ‘সমাজতন্ত্র’ ও ‘ধর্মনিরপেক্ষতা’ শব্দ দু’টি অপসারণের উদ্দেশ্যে কোনও আইনি বা সাংবিধানিক প্রক্রিয়া বর্তমানে চালু নেই।”
আইনমন্ত্রীর বক্তব্য অনুযায়ী, এই ধরনের কোনও পরিবর্তনের আগে সর্বস্তরের পর্যালোচনা এবং বিস্তৃত ঐকমত্য জরুরি। কিন্তু এখন সেই রকম কোনও আলোচনা সরকারের বিবেচনাতেও নেই।
কীভাবে এই শব্দ দু'টি সংবিধানে এসেছিল?
প্রসঙ্গত, ভারতের মূল সংবিধান রচনার সময়ে ‘সমাজতন্ত্র’ ও ‘ধর্মনিরপেক্ষতা’ শব্দ দু’টি প্রস্তাবনায় অন্তর্ভুক্ত ছিল না। পরে, ১৯৭৬ সালে ইন্দিরা গান্ধীর আমলে ৪২তম সংবিধান সংশোধনের মাধ্যমে এই শব্দ দুটি অন্তর্ভুক্ত করা হয়।
এই সংশোধনীর বৈধতা চ্যালেঞ্জ করে একটি মামলা দায়ের হয় সুপ্রিম কোর্টে। তবে ২০২৪ সালের নভেম্বর মাসে দেশের সর্বোচ্চ আদালত সেই আবেদন খারিজ করে দেয়। পাশাপাশি সুপ্রিম কোর্ট স্পষ্ট জানায়, ‘ধর্মনিরপেক্ষতা’ শব্দটি সংবিধানের ‘বেসিক স্ট্রাকচার’ বা মৌলিক কাঠামোর অপরিহার্য অংশ।
এই ইস্যুতে রাজনৈতিক বিতর্ক বেশ কিছুদিন ধরেই জারি রয়েছে। গত মাসেই প্রাক্তন উপরাষ্ট্রপতি জগদীপ ধনকড় সংবিধানের প্রস্তাবনায় থাকা এই দু’টি শব্দের প্রাসঙ্গিকতা নিয়ে প্রশ্ন তোলেন। তাঁর মতে, এগুলি পরবর্তীকালে সংযুক্ত হওয়া শব্দ, এবং এদের বৈধতা নিয়ে আলোচনা হওয়া উচিত।
অসমের মুখ্যমন্ত্রী হিমন্ত বিশ্ব শর্মা-সহ বিজেপির একাধিক নেতাও সম্প্রতি এই শব্দ দু’টি প্রস্তাবনা থেকে বাদ দেওয়ার পক্ষে সওয়াল করেন। সেই প্রেক্ষিতেই এই বিতর্ক আরও জোরদার হয়।
তবে, সংসদে আইনমন্ত্রীর সাফ জবাব কেন্দ্রীয় সরকারের পক্ষ থেকে একপ্রকার অবস্থান স্পষ্ট করে দিল—বর্তমানে ‘সমাজতন্ত্র’ এবং ‘ধর্মনিরপেক্ষতা’ শব্দ বাদ দেওয়ার কোনও পরিকল্পনা নেই।