অবশ্য এই নতুন নয়, অতীতেও আরএসএস একাধিকবার সংবিধানের প্রস্তাবনা থেকে শব্দ দুটি বাদ দেওয়ার কথা বলেছে।

রাষ্ট্রীয় স্বয়ং সেবক সঙ্ঘের মহাসচিব দত্তাত্রেয় হোসবালে
শেষ আপডেট: 27 June 2025 10:02
দ্য ওয়াল ব্যুরো: ফের ঘুরিয়ে সংবিধান (constitution) বদলের দাবি তুলল আরএসএস (RSS)। সংবিধানের প্রস্তাবনায় সমাজতন্ত্র (Socialist) ও ধর্মনিরপেক্ষতা (Secularism) শব্দ দুটি থাকার যৌক্তিকতা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন রাষ্ট্রীয় স্বয়ং সেবক সঙ্ঘের মহাসচিব দত্তাত্রেয় হোসবালে (Dattatreya Hosabale)।
জরুরি অবস্থা নিয়ে আলোচনায় এই শীর্ষ আরএসএস নেতা সমাজতন্ত্র ও ধর্মনিরপেক্ষতা শব্দ দুটি সংবিধান থেকে বাদ দেওয়ার কথা বলেন। তাঁর মতে, এই শব্দ দুটির সঙ্গে জরুরি অবস্থার ছোঁয়া আছে।
প্রসঙ্গত, সত্তরের দশকের মাঝামাঝি সময়ে ইন্দিরা গান্ধী (Indira Gandhi) দল ও সরকার নিয়ে প্রবল সংকটের মুখে সংবিধান সংশোধন করে শব্দ দুটি যুক্ত করে কংগ্রেসের পাশাপাশি দলীয় বৃত্তের বাইরের মানুষকেও তাঁর পাশে টেনে আনার চেষ্টা করেন। আরএসএস নেতা দত্তাত্রেয় হোসবোলের কথায়, ইন্দিরা গান্ধী নিজের গদি বাঁচাতে শব্দ দুটি সংবিধানে যুক্ত করেছিলেন। হোসবলে বলেন, আজকের ভারতে সংবিধানে এই শব্দ দুটি রাখার কোনও যুক্ত আছে কি?
আরএসএস অবশ্য এই নতুন নয়, অতীতেও তারা একাধিকবার সংবিধানের প্রস্তাবনা থেকে শব্দ দুটি বাদ দেওয়ার কথা বলেছে। আরএসএস মনে করে, সংবিধানে যে ধর্মনিরপেক্ষতার কথা বলা হয়েছে তা ছদ্ম ধারণা। রাষ্ট্রের কোনও ধর্ম না থাকার যে কথা বলে ধর্মনিরপেক্ষতা শব্দটি ব্যবহারের মাধ্যমে তুলে ধরা হয়েছে তা ভ্রান্ত ধারণা। তাদের মতে, ইউরোপ, আমেরিকার বহু দেশ ধর্মকে পাশে নিয়েই রাষ্ট্র চালনা করে এবং সংখ্যাগরিষ্ঠের ধর্মই সেখানে প্রধান বিবেচ্য। এই ভাবনা থেকে আরএসএস ভারতকে হিন্দু রাষ্ট্র ঘোষণার দাবিতে অবিচল।
বিজেপিও একই ভাবনার শরিক। গত লোকসভা ভোটে চারশোর বেশি আসন জিতে ক্ষমতায় আসার যে পরিকল্পনা নিয়ে দলটি এগিয়েছিল তার পিছনে সংবিধান বদলই মুখ্য উদ্দেশ্য ছিল বলে বিরোধীদের অভিমত। যদিও ভোটের পর বিজেপি ও সরকারের তরফে স্পষ্ট করা হয়েছে, সংবিধান বদলের কোনও বাসনা তাদের নেই। কোনও কোনও বিশেষজ্ঞের মতে, নরেন্দ্র মোদীর সরকার নানা কর্মসূচির মাধ্যমে ভারতকে কার্যত হিন্দুরাষ্ট্র বানিয়ে নিয়েছে। আলাদা করে সংবিধান সংশোধন করে হিন্দুরাষ্ট্র ঘোষণার প্রয়োজন ফুরিয়েছে। যদিও হোসাবোলের মন্তব্যে স্পষ্ট সংবিধান বদলের বাসনা ত্যাগ করেনি রাষ্ট্রীয় স্বয়ং সেবক সঙ্ঘ।