Date : 14th Apr, 2026 | Call 1800 452 567 | info@thewall.in
ভোটের ডিউটিতে কড়া নিয়ম! প্রিসাইডিং ও সেক্টর অফিসারদের জন্য একগুচ্ছ নির্দেশিকা কমিশনের'বন্ধু' মোদীকে ফোন ট্রাম্পের! ৪০ মিনিট ধরে হরমুজ প্রণালী নিয়ে কী আলোচনা হল?লোকাল ট্রেনের টিকিটে বিরাট ছাড়! ৫ টাকার টিকিট এখন কত পড়বে? জেনে নিন বিস্তারিতTB Vaccine: যক্ষ্মা প্রতিরোধে কতটা সফল নতুন টিকা? ট্রায়ালের রিপোর্টে আশার আলোর পাশাপাশি উদ্বেগের সুর বিজ্ঞানীদের'বাঙালি ব্রিটিশদের সামনে মাথা নত করেনি, আর এই বহিরাগতরা আমাদের কী করবে?' বিজেপিকে তোপ অভিষেকেরসাইলেন্ট লাং ডিজিজ: কাশি মানেই কি ক্যানসার? দূষণে ফুঁসছে ফুসফুস, কখন দরকার ট্রান্সপ্লান্ট?'ইগো সরিয়ে রাখুন', নিজেদের মধ্যে মতভেদ সরিয়ে এক হয়ে লড়ার নির্দেশ অভিষেকেরভাইরাল ভিডিও হাতিয়ার করে শাহের তোপ! হুমায়ুনকে ‘দিদির এজেন্ট’ বলে কটাক্ষ স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীরগরমে মেজাজ হারালেন কর্মীরা! চুঁচুড়ায় নিজের দলের লোকেদেরই বিক্ষোভের মুখে দেবাংশুবার্নল-বোরোলিন বিতর্ক, ‘লুম্পেনদের’ হুঁশিয়ারি দিয়ে বিপাকে ডিইও, কমিশনকে কড়া চিঠি ডেরেক ও’ব্রায়েনের

অপারেশন সিঁদুর মন্তব্যে ক্ষমা চাইতে নারাজ পৃথ্বীরাজ, প্রতিরক্ষা খরচ কমানো কি যুক্তিযুক্ত?

অপারেশন সিঁদুর (Operation Sindoor) ও দেশের স্থলবাহিনীর বিশাল বহর নিয়ে মন্তব্য নিয়ে ‘ক্ষমা’ চাইতে নারাজ মহারাষ্ট্রের প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী পৃথ্বীরাজ চৌহান (Prithviraj Chavan)।

অপারেশন সিঁদুর মন্তব্যে ক্ষমা চাইতে নারাজ পৃথ্বীরাজ, প্রতিরক্ষা খরচ কমানো কি যুক্তিযুক্ত?

মহারাষ্ট্রের প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী পৃথ্বীরাজ চৌহান।

শুভেন্দু ঘোষ

শেষ আপডেট: 17 December 2025 12:37

দ্য ওয়াল ব্যুরো: অপারেশন সিঁদুর (Operation Sindoor) ও দেশের স্থলবাহিনীর বিশাল বহর নিয়ে মন্তব্য নিয়ে ক্ষমা চাইতে নারাজ মহারাষ্ট্রের প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী পৃথ্বীরাজ চৌহান (Prithviraj Chavan)। বুধবার সকালে কংগ্রেস নেতা চৌহান জোর গলায় বলেন, সংবিধান আমাকে প্রশ্ন তোলার অধিকার দিয়েছে। তাহলে ক্ষমা চাওয়ার প্রশ্ন উঠছে কী করে? কেন আমি ক্ষমা চাইব? আমি দুঃখিত একথা বলব না। আমি যা বলেছি, তার মধ্যে ভুল তো কিছু বলিনি। তাহলে আমার ক্ষমা চাওয়ারও কিছু নেই।

পাকিস্তানের বিরুদ্ধে ভারতের জঙ্গি দমন অভিযান অপারেশন সিঁদুরের প্রথম দিনই ভারত পরাস্ত হয়েছিল, একথা বলে চরম বিতর্কে পড়েছেন চৌহান। এনিয়ে ক্ষমা চাওয়ার প্রসঙ্গ তোলা হলে সাংবাদিকদের বলেন, আমি এর বেশি কিছু বলতে চাই না। কিন্তু আমি ক্ষমা চাইছি না। এর কোনও প্রয়োজনই নেই। কারণ আমি ভুল কিছু বলিনি। গত মঙ্গলবার পুনেতে এক অনুষ্ঠানে তিনি এও বলেন, এই অভিযানে ভারতীয় সেনাবাহিনী (পদাতিক সেনা) এক কিলোমিটারও অগ্রসর হয়নি। পুরো লড়াইটা হয়েছে আকাশ ও ক্ষেপণাস্ত্রের মাধ্যমে।

তিনি আরও প্রশ্ন তোলেন যে, ভবিষ্যতের যুদ্ধ কৌশলটাই হবে আকাশ ও প্রযুক্তি রণসম্ভারে। তাহলে কেন আমাদের ১২ লক্ষ পদাতিক সেনার বিপুল বহর রাখতে হবে? এই বিপুল পরিমাণে সেনাকে কি অন্য কাজে ব্যবহার করা যায় না? ভারতীয় জনতা পার্টির তাবড় নেতারা কংগ্রেস নেতার এই মন্তব্যের ভূরিভূরি নিন্দা করে চলেছেন। কিন্তু, পৃথ্বীরাজ চৌহানের দাবি তামাম ভারতবাসীর সামনে এক মোক্ষম প্রশ্ন তুলে ধরেছে। আর সেটা হল- চৌহানের পরামর্শ সত্যিই বাস্তবসম্মত কিনা।

চৌহান যুক্তি দিয়ে বলেছিলেন, আধুনিক যুদ্ধ কৌশল নির্ভর করে ড্রোন, ক্ষেপণাস্ত্র, সাইবার ও রিমোটচালিত নির্দিষ্ট লক্ষ্যভেদের উপর। বিশাল পদাতিক সেনার গুরুত্ব সারা বিশ্বেই কমে আসছে। সেদিক থেকে তুল্যমূল্য বিচারে চৌহানের বক্তব্যের বেশ সারবত্তা আছে।

  • আমেরিকার মতো দেশ দিনদিন সেনাবহর কমিয়ে প্রযুক্তির দিকে অতিরিক্ত নজর দিচ্ছে। যেমন- কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা প্রযুক্তি প্রয়োগের ড্রোন।
  • বিশাল সেনাবাহিনী রাখার অর্থ হচ্ছে সারা বছর ধরে বিপুল পরিমাণ বেতন, পেনশন ও অন্যান্য খাতে খরচ বৃদ্ধি। তুলনায় এই খাতে খরচ কমাতে পারলে তা আধুনিকতম যুদ্ধ কৌশলকে শক্তিশালী করা যেতে পারে। 
  • অপারেশন সিঁদুরেও দেখা গিয়েছে, বিমান ও ক্ষেপণাস্ত্র এবং ড্রোনের মাধ্যমেই লড়াইয়ের বেশিরভাগটা হয়েছে।
  • আবার ভারতের মতো বিরাট সীমান্তবর্তী এলাকা, যা হাজার হাজার কিমি জুড়ে বিস্তৃত। চিন, বাংলাদেশ ও পাকিস্তানের মতো পড়শি দেশের সঙ্গে যুক্ত। সে কারণে বড়সড় স্থলবাহিনী না থাকলে তা পাহারা দেওয়া মুশকিল। অনুপ্রবেশ বন্ধ, সন্ত্রাসবাদী দমন এবং জঙ্গি ঠেকাতে তা কাজে আসে। 
  • দেশের জমিরক্ষার নিরাপত্তায় কারগিল যুদ্ধ কিংবা গালওয়ান সংঘর্ষে সেনাবাহিনীই মূল শক্তি ছিল। বিমানবাহিনী দিয়ে দেশের ভূখণ্ড রক্ষা করা অসম্ভব।

অন্যদিকে, বৈশ্বিক প্রতিরক্ষা গতিপ্রকৃতি উল্টো কথাই বলছে। বেশিরভাগ দেশই সেনাবহর বাড়াচ্ছে এবং স্থলভাগ রক্ষার বাজেট বরাদ্দ বৃদ্ধি করছে। স্টকহোম ইন্টারন্যাশনাল পিস রিসার্চ ইনস্টিটিউটের (SIPRI 2025) রিপোর্ট বলছে-

  • ২০২৪ সালে আন্তর্জাতিক সেনাবাহিনী খাতে খরচ বৃদ্ধি বেড়েছে ২.৭১৮ ট্রিলিয়ন ডলার। ২০২৩ সালের তুলনায় তা ৯.৪ শতাংশ বেশি। সোভিয়েত ইউনিয়ন-আমেরিকার ঠান্ডাযুদ্ধের সময়কালের পর এত দ্রুত হারে এই খরচ বেড়েছে।
  • গত ১০ বছরে বৃদ্ধির হার ৩৭ শতাংশ।
  • ২০২৪ সালে ১০০-র বেশি দেশ তাদের বাজেট বৃদ্ধি করেছে।
  • ইউরোপ, মধ্য পূর্ব, এশিয়া, আমেরিকা, আফ্রিকা- সব অঞ্চলেই খরচ বৃদ্ধি করা হয়েছে। এর কারণ মূলত ইউক্রেন-রাশিয়া যুদ্ধ, গাজা-ইজরায়েল সংঘর্ষ, এশীয় অঞ্চলে উত্তেজনা বৃদ্ধি।
  • যে পাঁচটি দেশ বছরের পর বছর ধরে প্রতিরক্ষা বাজেট বরাদ্দ বাড়িয়ে চলেছে। তাদের মধ্যে শীর্ষে রয়েছে আমেরিকা। এই দেশ প্রতিবছর প্রায় ৯৯৭ বিলিয়ন ডলার বাজেট বরাদ্দ বাড়াচ্ছে। তারপরেই রয়েছে চিন। গত ৩০ বছর ধরে কমিউনিস্ট চিনের লাল ফৌজের জন্য ৩১৪ বিলিয়ন খরচ বৃদ্ধি ঘটছে। তৃতীয় স্থানে রাশিয়া। তারা ইউক্রেন যুদ্ধের কারণে ১৪৯ বিলিয়ন ডলার বাড়িয়েছে। জার্মানি ২০২৪ সালে একলাফে ৮৮.৫ বিলিয়ন ডলার খরচ বাড়িয়েছে। পঞ্চম স্থানে রয়েছে ভারত।
  • গত ১০ বছর ধরে ভারতে ৪২ শতাংশ বাজেট বরাদ্দ বেড়েছে, যা প্রায় ৮৬ বিলিয়ন ডলারের কাছাকাছি। এই পাঁচটি দেশ মিলে বিশ্বের মোট ব্যয়ের ৬০ শতাংশ প্রতিরক্ষায় খরচ করে।

```