
শেষ আপডেট: 9 February 2024 10:13
দ্য ওয়াল ব্যুরো: প্রধানমন্ত্রীর নরেন্দ্র মোদী সংসদে দাঁড়িয়ে দাবি করেছেন, ২০২৪-এর লোকসভা ভোটে তিনি চারশোর বেশি আসন নিয়ে ক্ষমতায় ফিরবেন। এর মধ্যে তার দল বিজেপি একাই ৩৭০ এর বেশি আসন দখল করবে বলে দাবি করেছেন প্রধানমন্ত্রী।
অন্যদিকে তৃণমূল নেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় সংশয় প্রকাশ করেছেন, কংগ্রেস এবার চল্লিশটি আসন পাবে কিনা।সন্দেহ। ২০১৪ র ভোটে হাত শিবির ৪৪টি আসন জিতেছিল। ২০১৯-এ জেতে ৫২টি। মমতার কথা অনুযায়ী ২৪ শে সবচেয়ে কম আসন পাওয়ার রেকর্ড করতে চলেছে কংগ্রেস।
মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের কথার সূত্র ধরে সংসদেই প্রধানমন্ত্রী কংগ্রেসকে খোঁচা দিতে গিয়ে বলেছেন আশা করি শতাব্দী প্রাচীন দলটি চল্লিশের সীমা পার করবে। ইন্ডিয়া টুডে গ্রুপের এ মাসের সমীক্ষা রিপোর্ট অবশ্য ভিন্ন চিত্র উঠে এসেছে।
লোকসভা ভোটে সম্ভাব্য ফলাফল নিয়ে ইতিমধ্যেই প্রাক নির্বাচনী সমীক্ষা প্রকাশিত হতে শুরু করেছে। তেমনি একটি সমীক্ষা করেছে প্রথম সারির টেলিভিশন চ্যানেল ইন্ডিয়া টুডে। চলতি মাসে করা তাদের সেই সমীক্ষা রিপোর্ট বলছে, বিজেপির নেতৃত্বাধীন এনডিএ ৪০০ আসনের গণ্ডি পেরবে না। অন্যদিকে তারা বলেছে কংগ্রেসের প্রাপ্ত আসন ৭০ এর বেশি হবে।
অর্থাৎ কংগ্রেসের নেতৃত্বাধীন ইন্ডিয়া জোট যে ক্ষমতায় ফিরছে না সমীক্ষা রিপোর্টে তা স্পষ্ট। মানে তৃতীয়বারের জন্য প্রধানমন্ত্রী হতে চলেছেন নরেন্দ্র মোদী, তা নিয়েও কোন সংশয় নেই।
কিন্তু সংসদে দাঁড়িয়ে প্রধানমন্ত্রী যে ভাষা ও ভঙ্গিমায় প্রধানমন্ত্রী চারশো আসন পাওয়ার কথা ঘোষণা করেছেন, সমীক্ষা অনুযায়ী বিজেপির সম্ভাব্য ফলাফল তার ধারে কাছেও যাচ্ছে না।
ইন্ডিয়া টুডে বলেছে বিজেপির আসন বাড়তে পারে মাত্র একটি। অর্থাৎ ২০১৯ সালে তারা ৩০৩টি আসনে জয়লাভ করেছিল। আগামী ভোটে সেই সংখ্যা বেড়ে হতে পারে ৩০৪।
অন্যদিকে বিজেপি তথা এনডিএ শরিক দলগুলির আসন অনেকটা কমে যাবে। ফলে সামগ্রিকভাবে ২০১৯- এর তুলনায় ফল ভাল হবে না গেরুয়া শিবিরের। তবে মনে রাখতে হবে ভোট যত এগিয়ে আসে ততই পরিস্থিতির পরিবর্তন ঘটে। মোদীর ভবিষ্যতবাণী মিলে যাওয়া যেমন অসম্ভম নয়, তেমনই উল্টোটাও সম্ভব।
সমীক্ষায় আঞ্চলিক দলগুলির সম্ভাব্য ফলাফল নিয়ে এখনও পর্যন্ত কোনও আভাস প্রকাশ করা হয়নি। তবে বিজেপির সম্পর্কে যে তথ্য সমীক্ষায় উঠে এসেছে তা থেকে স্পষ্ট পদ্ম শিবিরকে এবারও আঞ্চলিক দলের কাছেই শক্ত চ্যালেঞ্জের মুখে পড়তে হবে।
রাজনৈতিক মহল মনে করছে, বিষয়টি বিজেপি নেতৃত্বের কাছেও স্পষ্ট। তাই নতুন করে তারা শরিকের সন্ধানে নেমেছে।
বিহারে নীতীশ কুমারকে জোটে ফেরানোর পর অন্ধপ্রদেশের প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী তথা তেলেগু দেশ পার্টির নেতা চন্দ্রবাবু নাইডুর সঙ্গে বিজেপির শীর্ষ নেতৃত্বের আলাপ-আলোচনা এগোচ্ছে। কদিন আগেও বর্ষীয়ান এই প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী তথা টিডিপি নেতার ফোন এড়িয়ে গিয়েছেন অমিত শাহ জেপি নাড্ডারা।
কিন্তু গত বুধবার চন্দ্রবাবুকে দিল্লিতে ডেকে অন্ধ্রে আসন সমঝোতা নিয়ে প্রাথমিক আলোচনা করেছেন বিজেপির দুই শীর্ষ নেতা।
চন্দ্রবাবু হলেন সেই নেতা যিনি ১৯৯৮ সালে এনডিএ গঠনের সময় অটল বিহারী বাজপেয়ী, লালকৃষ্ণ আডবাণীদের হাত ধরেছিলেন। ছিলেন, এনডিএ'র আহ্বায়ক। ২০১৮ সালে তিনি এনডিএ ছেড়ে যান। আবার তাঁকে ফেরানোর চেষ্টা হচ্ছে মোদীর স্বপ্ন পূরণের জন্য।
অন্ধ্র প্রদেশে বিজেপি এখন খুবই দুর্বল শক্তি। মাস দুই আগে কর্নাটকে পদ্ম শিবির জেডিএসের হাত ধরেছে।