প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর মার্কিন বন্ধুত্বের জোরাল দাবি নিয়ে শুক্রবার বিঁধল কংগ্রেস। দেশের প্রধান বিরোধী দলের অভিযোগ, পাকিস্তানের সেনাপ্রধান আসিম মুনির দুমাসের মধ্যে দ্বিতীয়বার আমেরিকায় যাচ্ছেন।

জয়রাম রমেশ নির্দিষ্ট করে বলেন যে, আমেরিকার সঙ্গে মুনিরের ঘনিষ্ঠতা বেড়েই চলেছে।
শেষ আপডেট: 8 August 2025 13:46
দ্য ওয়াল ব্যুরো: মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সঙ্গে গলায় গলায় ‘বিশেষ বন্ধুত্ব’ কোথায় গেল? প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর মার্কিন বন্ধুত্বের জোরাল দাবি নিয়ে শুক্রবার বিঁধল কংগ্রেস। দেশের প্রধান বিরোধী দলের অভিযোগ, পাকিস্তানের সেনাপ্রধান আসিম মুনির দুমাসের মধ্যে দ্বিতীয়বার আমেরিকায় যাচ্ছেন। আর এদিকে মোদী বলে বেড়ান, আমেরিকার প্রেসিডেন্ট তাঁর বিরাট বন্ধু।
এদিন কংগ্রেস নেতা জয়রাম রমেশ নির্দিষ্ট করে বলেন যে, আমেরিকার সঙ্গে মুনিরের ঘনিষ্ঠতা বেড়েই চলেছে। পহলগামে জঙ্গিহানা ও অপারেশন সিঁদুরের পর গত ১৮ জুন মুনির প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের সঙ্গে মধ্যাহ্নভোজের বৈঠকে ছিলেন। তারপর ফের সেদেশে একটি বিশেষ অনুষ্ঠানে যোগ দিতে যাচ্ছেন পাকিস্তানের ফিল্ড মার্শাল। যা মোদীর দাবি অনুযায়ী মার্কিন প্রশাসনের ঘনিষ্ঠ সম্পর্কের কথার পরিপন্থী।
রমেশ এক এক্সবার্তায় লিখেছেন, ফিল্ড মার্শান আসিম মুনিরের উসকানিমূলক কথাতেই ২২ এপ্রিল পহলগামে জঙ্গিহানা হয়েছিল। সেই লোকটিই ইদানীং আমেরিকার কাছের মানুষ হয়ে উঠেছেন। মুনির বর্তমানে আমেরিকায় যাচ্ছেন সেদেশের এক বড়মাপের সেনাকর্তার বিদায়ী সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে যোগ দিতে। তিনি কে, তিনি হলেন মার্কিন সেন্ট্রাল কমান্ডের প্রধান জেনারেল মাইকেল কুরিল্লা, যিনি গত ১০ জুন পাকিস্তানকে সন্ত্রাস দমন অভিযানে পাকিস্তানকে অসাধারণ বন্ধু বলে বর্ণনা করেছিলেন।
জয়রাম রমেশের দাবি, এত সব কাণ্ডের মতো মোদী যে বারবার দাবি করে থাকেন, ট্রাম্পের সঙ্গে তাঁর ব্যক্তিগত বন্ধুত্ব রয়েছে। তা আর ধোপে টিকছে না। সব কিছু প্রকাশ্যে এসে গিয়েছে। তিনি আরও বলেছেন, ২০২৫ সালের জানুয়ারি থেকে নয়াদিল্লিতে আমেরিকার কোনও স্থায়ী রাষ্ট্রদূত নেই। এমনকী এখনও কারও নামও ঠিক হয়নি। অর্থাৎ চিনের মতোই ভারতকেও পররাষ্ট্রীয় সম্পর্কের ক্ষেত্রে একই চোখে দেখে আমেরিকা, বোঝাতে চেয়েছেন রমেশ।
উল্লেখ্য, ভারত-মার্কিন শুল্কযুদ্ধের পরিবেশে নতুন চমক হচ্ছে পাকিস্তানের সেনাপ্রধান আসিম মুনির ফের যাচ্ছেন আমেরিকায়। দুমাসের মধ্যে এ নিয়ে দ্বিতীয়বার তিনি পা রাখবেন ডোনাল্ড ট্রাম্পের দেশে। এ সপ্তাহেই পাকিস্তানের চিফ অফ আর্মি স্টাফ তথা ফিল্ড মার্শাল আসিম মুনির টাম্পা যাবেন। সেখানে তিনি মার্কিন সেন্ট্রাল কমান্ড বা CENTCOM-এর কমান্ডার জেনারেল মাইকে কুরিল্লার বিদায়ী সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে যোগ দেওয়ার আমন্ত্রণ পেয়েছেন। আমেরিকার ম্যাকডিল বিমানঘাঁটিতে সেন্টকমের সদর কার্যালয়ে বিদায়ী সংবর্ধনা অনুষ্ঠান হবে। ফলে, তাঁর এই সফর কেবলমাত্র পাকিস্তানের পক্ষে আনন্দদায়ক নয়, ভারতের পক্ষেও এক চরম সতর্কবার্তা বলে অনেকের ধারণা।
প্রসঙ্গত, এই পাকিস্তানই ডোনাল্ড ট্রাম্পকে আন্তর্জাতিক শান্তি স্থাপনে নোবেল পুরস্কার দেওয়া উচিত বলে জানিয়েছিল। এবং ট্রাম্পের নয়া শুল্কনীতিতে আপসরফার মাধ্যমে একধাক্কায় প্রচুর মাশুল কমিয়ে নিয়েছে। সেখানে রাশিয়ার কাছ থেকে তেল কিনে যাওয়ায় বুধবারই ট্রাম্প ভারতের উপর ৫০ শতাংশ শুল্কের বোঝা চাপিয়েছেন। এবং আলোচনার রাস্তাও বন্ধ করে দিয়েছেন। সব মিলিয়ে কূটনৈতিক যুদ্ধের দৌড়ে পাকিস্তান বেশ কিছুটা এগিয়ে রয়েছে বলেও আন্তর্জাতিক বিশেষজ্ঞদের ধারণা।