কংগ্রেস নেতাদের অভিযোগ, প্রোটোকল ভেঙে তাঁকে সামনের সারিতে না বসিয়ে পিছনের দিকে রাখা হয়েছে। কর্তব্যপথ থেকে সম্প্রচারিত দূরদর্শনের ছবিতে দেখা গিয়েছে, বিজেপির শীর্ষস্থানীয় নেতা ও কেন্দ্রীয় মন্ত্রী শিবরাজ সিং চৌহান সামনের সারিতে বসেছেন, অথচ রাহুল গান্ধী রয়েছেন তৃতীয় সারিতে।

রাহুল গান্ধী রয়েছেন তৃতীয় সারিতে।
শেষ আপডেট: 26 January 2026 17:47
দ্য ওয়াল ব্যুরো: ভারতের ৭৭-তম সাধারণতন্ত্র দিবসের কুচকাওয়াজে লোকসভার বিরোধী দলনেতা রাহুল গান্ধীর বসার জায়গা নিয়ে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। কংগ্রেস নেতাদের অভিযোগ, প্রোটোকল ভেঙে তাঁকে সামনের সারিতে না বসিয়ে পিছনের দিকে রাখা হয়েছে। কর্তব্যপথ থেকে সম্প্রচারিত দূরদর্শনের ছবিতে দেখা গিয়েছে, বিজেপির শীর্ষস্থানীয় নেতা ও কেন্দ্রীয় মন্ত্রী শিবরাজ সিং চৌহান সামনের সারিতে বসেছেন, অথচ রাহুল গান্ধী রয়েছেন তৃতীয় সারিতে। বিষয়টি ঘিরে গণতান্ত্রিক রীতি ও রাষ্ট্রীয় অনুষ্ঠানে বিরোধীদের মর্যাদা নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন উঠেছে।
কংগ্রেস সাংসদ তারিক আনোয়ার বলেন, সাধারণতন্ত্র দিবসের মতো গুরুত্বপূর্ণ অনুষ্ঠানে দেশের প্রধান বিরোধী দলের নেতা রাহুল গান্ধীকে প্রথম সারিতে না বসানো “চরম দুর্ভাগ্যজনক”। তাঁর দাবি, বিরোধী দলনেতার একটি বিশেষ প্রোটোকল মর্যাদা রয়েছে। ব্রিটিশ সংসদীয় ব্যবস্থার সঙ্গে তুলনা টেনে আনোয়ার বলেন, এই পদকে অনেক সময় ‘শ্যাডো প্রধানমন্ত্রী’-র সমতুল্য ধরা হয়। তাঁর মতে, এই ধরনের রীতি গণতান্ত্রিক ভারসাম্য রক্ষা এবং সাংবিধানিক পদগুলির মর্যাদা বজায় রাখার জন্যই রয়েছে। “এই প্রোটোকল সম্পূর্ণ উপেক্ষা করা হয়েছে,” বলেন আনোয়ার। তাঁর অভিযোগ, এত বড় রাষ্ট্রীয় অনুষ্ঠানে মূল বিরোধী দলের নেতাকে দ্বিতীয় বা তৃতীয় সারিতে বসানো নজিরবিহীন। আনোয়ার আরও বলেন, ঐতিহাসিকভাবে ভারত ওয়েস্টমিনস্টার ধারার বহু সংসদীয় রীতি অনুসরণ করে এসেছে, যার মধ্যে বিরোধী নেতাদের যথাযথ সম্মান দেওয়াও রয়েছে। কিন্তু সাম্প্রতিক বছরগুলিতে সেই প্রথা ধীরে ধীরে ভেঙে পড়ছে বলে তাঁর দাবি।
এই প্রসঙ্গে কংগ্রেস সাংসদ কেন্দ্রের নরেন্দ্র মোদী সরকারের বিরুদ্ধে দীর্ঘদিনের গণতান্ত্রিক রীতিনীতি ভেঙে দেওয়ার অভিযোগ তোলেন। তাঁর বক্তব্য, সংসদের ভিতরে যেমন বিরোধীদের কথা বলার সুযোগ কমানো হচ্ছে, তেমনই রাষ্ট্রীয় অনুষ্ঠানেও তাঁদের ক্রমশ প্রান্তিক করে দেওয়া হচ্ছে। আনোয়ারের দাবি, বিরোধী দলনেতাকে সংসদে পর্যাপ্ত সময় দেওয়া হয় না এবং সরকারি অনুষ্ঠানে উপযুক্ত মর্যাদাও দেওয়া হচ্ছে না। তাঁর মতে, এতে দেশের গণতন্ত্রের স্বাস্থ্যের বিষয়ে ভুল বার্তা যাচ্ছে।
বিতর্ক আরও তীব্র হয়, যখন কুচকাওয়াজের ফুটেজে দেখা যায়, শিবরাজ সিং চৌহান রাহুল গান্ধীর সামনের সারিতে বসেছেন। এরপরই কংগ্রেস নেতারা বিষয়টি নিয়ে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে ব্যাখ্যা দাবি করেন। সাধারণতন্ত্র দিবস ভারতের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ জাতীয় অনুষ্ঠান, ১৯৫০ সালে সংবিধান কার্যকর হওয়ার স্মরণে পালিত হয় এই দিনটি। প্রতি বছর এই কুচকাওয়াজে দেশের শীর্ষ সাংবিধানিক পদাধিকারী, রাজনৈতিক নেতা ও বিদেশি অতিথিরা উপস্থিত থাকেন, এবং আসনবিন্যাস সাধারণত প্রোটোকল অনুযায়ী নির্ধারিত হয়।
এটাই প্রথম নয় যে, সাধারণতন্ত্র দিবসের আসনবিন্যাস নিয়ে বিরোধীদের আপত্তি উঠল। ২০১৮ সালেও কংগ্রেস অভিযোগ করেছিল, তৎকালীন দলনেতা রাহুল গান্ধীকে প্রথম সারির বদলে চতুর্থ থেকে ষষ্ঠ সারিতে বসানো হয়েছিল। সে সময় কংগ্রেস নেতৃত্ব বিষয়টিকে “সস্তা রাজনীতি” বলে আখ্যা দিয়েছিল। এর পরের বছর, অর্থাৎ ২০১৯ সালে, সাধারণতন্ত্র দিবসে রাহুল গান্ধীকে আবার প্রথম সারিতে বসানো হয়, যা অনেকের মতে আগের বছরের বিতর্কের পর আয়োজকদের ‘সংশোধনী পদক্ষেপ’ ছিল।
২০২৪ সালে দিল্লির লালকেল্লায় স্বাধীনতা দিবসের অনুষ্ঠানেও একই ধরনের বিতর্ক তৈরি হয়, যখন রাহুল গান্ধীকে অলিম্পিক পদকজয়ী ক্রীড়াবিদদের সঙ্গে প্রায় শেষের দিকের সারিতে বসতে দেখা যায়। সেই ছবি সোশ্যাল মিডিয়ায় ভাইরাল হতেই নতুন করে রাজনৈতিক আলোচনা শুরু হয়। প্রসঙ্গত, ২০২৫ সালে ১৫ অগস্টে লালকেল্লার অনুষ্ঠানে যাননি রাহুল। সে সময় তিনি বিদেশ সফরে যাওয়ায় উল্টোদিক থেকে বিজেপি কংগ্রেসকে তা নিয়ে বিঁধেছিল।