ভারতীয় ফ্যাশন ডিজাইনার রাজেশপ্রতাপ সিং (Rajesh Pratap Singh)-এর তৈরি বেনারসি জরির কাজ করা ‘বন্দগলা’ (Banarasi brocade bandhgala) কিংখাব পরে তিনি হাজির হন কুচকাওয়াজের মঞ্চে।

বেনারসি জরির কাজ করা ‘বন্দগলা’ (Banarasi brocade bandhgala) কিংখাব পরে তিনি হাজির হন কুচকাওয়াজের মঞ্চে।
শেষ আপডেট: 26 January 2026 14:46
দ্য ওয়াল ব্যুরো: ভারতের ৭৭-তম সাধারণতন্ত্র দিবসের (Republic Day) অনুষ্ঠানে ইউরোপীয় কমিশনের প্রেসিডেন্ট (President of the European Commission) উরসুলা ফন ডার লায়েন (Ursula von der Leyen) নজর কাড়লেন এক অনন্য পোশাক নির্বাচনে। ভারতীয় ফ্যাশন ডিজাইনার রাজেশপ্রতাপ সিং (Rajesh Pratap Singh)-এর তৈরি বেনারসি জরির কাজ করা ‘বন্দগলা’ (Banarasi brocade bandhgala) কিংখাব পরে তিনি হাজির হন কুচকাওয়াজের মঞ্চে। বেগুনি রঙের ওই বন্দগলায় ছিল সোনালি জরির (gold zari) সূক্ষ্ম ফুলের নকশা (floral patterns)। পোশাকটির সঙ্গে তিনি পরেছিলেন স্লিম-ফিটেড ট্রাউজার্স (slim-fitted trousers), যা পুরো লুকটিকে করে তোলে আধুনিক, একই দেশীয় ঐতিহ্যবাহী। উল্লেখ্য, এই বারাণসীর প্রধানমন্ত্রীর লোকসভা নির্বাচনী কেন্দ্র।
এবছর সাধারণতন্ত্র দিবসের অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি (Chief Guests) হিসেবে উপস্থিত ছিলেন উরসুলা ফন ডার লায়েন এবং ইউরোপীয় কাউন্সিলের প্রেসিডেন্ট (European Council President) আন্তোনিও কোস্তা (Antonio Costa)। এই প্রথমবার দু’জন শীর্ষ ইউরোপীয় নেতা একসঙ্গে ভারতের সাধারণতন্ত্র দিবসের অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে অংশ নিলেন। তাঁরা রাষ্ট্রপতি দ্রৌপদী মুর্মু (President Droupadi Murmu), প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী (Prime Minister Narendra Modi), মন্ত্রিসভার সদস্য ও কূটনীতিকদের সঙ্গে বসে কুচকাওয়াজ প্রত্যক্ষ করেন।
বেনারসি ব্রোকেড (Banarasi brocade) মূলত সোনা ও রুপোর জরির (gold and silver zari) কাজে বোনা এক বিশেষ ধরনের কাপড়, যেখানে নকশাগুলি আলাদা করে সূচিকর্ম নয়, বরং বুননের মধ্যেই ফুটে ওঠে। এই শিল্পের নামকরণ হয়েছে প্রাচীন শহর বেনারস বা বারাণসী (Varanasi) থেকে, যেখানে শতাব্দীর পর শতাব্দী ধরে এই ঐতিহ্য বিকশিত হয়েছে।
MAP Academy-এর মতে, বেনারসি ব্রোকেডের উৎপত্তি সম্ভবত বৈদিক যুগে (Vedic period, 1750–500 BCE)। ঋগ্বেদে (Rig Veda) উল্লিখিত ‘হিরণ্য বস্ত্র’ (hiranya vastra) বা ‘সোনার কাপড়’-এর উল্লেখকে অনেকেই জরিভরা ব্রোকেডের প্রাচীন ইঙ্গিত হিসেবে মনে করেন। কিছু গবেষক আবার বেনারসি ব্রোকেডের সঙ্গে বৌদ্ধ ধর্মের (Buddhism) যোগসূত্র খুঁজে পান। তাঁদের মতে, অষ্টম ও নবম শতকে সারনাথের (Sarnath) স্তূপে খোদাই করা নকশাগুলি থেকেই অনুপ্রাণিত হয় অনেক বস্ত্রশিল্প। এমনকী বারাণসীর বেনারসি শিল্পীরা বিশ্বাস করেন, বুদ্ধের দাহক্রিয়ার সময় তাঁকে বেনারসি সিল্কে (Banarasi silk) আবৃত করা হয়েছিল।
মুঘল আমলে (Mughal period) বেনারসি ব্রোকেড রাজকীয় পৃষ্ঠপোষকতা পায়। ধীরে ধীরে এর নকশায় জায়গা করে নেয় মুঘল কারুকাজ (Mughal miniatures) ও স্থাপত্যের (architecture) প্রভাব। বেনারসি সিল্ক শাড়ি (Banarasi silk saree) আজ এই শিল্পের সবচেয়ে জনপ্রিয় রূপ। সাধারণত শাড়ির জমিতে ছড়ানো থাকে জরির ছোট বুটি (butis), আর আঁচলে (pallu) দেখা যায় ঘন ও জটিল জরির কাজ— জালি (jaali) নকশা, তির্যক সমান্তরাল রেখা এবং কোণায় ফুলের মোটিফ। শাড়ির ধার ঘেঁষে থাকে ঝালর (jhalar) নামে পরিচিত সূক্ষ্ম নকশা। ২০০৯ সালে ভারত সরকার বেনারসি ব্রোকেডকে ভৌগোলিক স্বীকৃতি (Geographical Indication বা GI status) প্রদান করে, যা এই শিল্পের ঐতিহ্য ও মৌলিকত্বকে আন্তর্জাতিক স্বীকৃতি দেয়।