আরএসএস নেতৃত্ব অবশ্য এখনও পর্যন্ত কর্নাটক সরকারের সিদ্ধান্ত নিয়ে কোন প্রতিক্রিয়া দেয়নি। তবে সংগঠনের এক শীর্ষকর্তার বক্তব্য সঙ্ঘের নিজস্ব পরিকাঠামোই তাদের কর্মসূচি পালনের জন্য যথেষ্ট।

শেষ আপডেট: 13 October 2025 11:15
দ্য ওয়াল ব্যুরো: শতবর্ষ উপলক্ষে দেশজুড়ে নানা কর্মসূচি পালন করছে রাষ্ট্রীয় স্বয়ংসেবক সঙ্ঘ। বিশেষ অনুষ্ঠানের পাশাপাশি তাদের নিয়মিত কর্মসূচি গুলিও বাড়তি গুরুত্ব দিয়ে পালন করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে সঙ্ঘ। দাক্ষিণাত্যে তাদের বিশাল সংগঠন কর্নাটকে। সে রাজ্যের ক্ষমতাসীন কংগ্রেস সরকার ঘোষণা করেছে আরএসএসকে রাজ্যে স্কুল কলেজ মাঠ ময়দান পার্ক অডিটোরিয়াম ইত্যাদি সরকারি জায়গায় কোনও কর্মসূচি পালন করতে দেওয়া হবে না। মুখ্যমন্ত্রী সিদ্দারামাইয়ার এক্স পোস্টে সরকারের এই সিদ্ধান্তের কথা জানানো হয়েছে।
মুখ্যমন্ত্রীর ওই পোস্টের সঙ্গে মন্ত্রী প্রিয়াঙ্ক খাড়্গের একটি চিঠি সংযুক্ত করা হয়েছে। কর্নাটকের গ্রামোন্নয়ন এবং তথ্যপ্রযুক্তি দপ্তরের মন্ত্রী প্রিয়াঙ্ক কংগ্রেস সভাপতি মল্লিকার্জুন খাড়্গের পুত্র।
এ মাসের ৪ তারিখ তিনি মুখ্যমন্ত্রীকে ওই চিঠি লিখেছিলেন। তাতে খাড়্গে পুত্র মুখ্যমন্ত্রীকে লেখেন আরএসএসের সভাগুলিতে কোমলমতি ছাত্র-ছাত্রীদের মধ্যে বিভাজনের সংস্কৃতি তৈরি করা হচ্ছে। এমন অনেক কথা সেখানে বলা হচ্ছে যা সংবিধানের মূল ভাবধারার পরিপন্থী। এমন একটি সংগঠনকে তাই সরকারি পরিকাঠামো ব্যবহারের সুযোগ দেওয়া অনুচিত হবে।
মুখ্যমন্ত্রীর অফিস সেই চিঠিটি পোস্ট করে জানিয়েছে আরএসএসকে কোন সরকারি পরিকাঠামো ব্যবহার করতে দেওয়া হবে না। মুখ্যমন্ত্রী রাজ্যের মুখ্য সচিবকে মন্ত্রী লেখা চিঠিটি পাঠিয়ে আরএসএসের কর্মসূচি সংক্রান্ত বিষয়ে দ্রুত সিদ্ধান্ত নিতে বলেছেন। চিঠিতে প্রিয়াঙ্ক খাড়্গে আরএসএসকে নিষিদ্ধ করার দাবি তুলেছেন। সেই সঙ্গে বলেছেন অবিলম্বে তাদের কার্যক্রম নিষিদ্ধ করা হোক।
ওই চিঠির প্রেক্ষিতে কর্নাটক বিজেপির সভাপতি বিজয়ন্দ্র মন্ত্রী প্রিয়াঙ্কাকে এক হাত নিয়েছেন। বলেছেন কংগ্রেস সভাপতি পুত্রের আরএসএস সম্পর্কে কোন ধারণা নেই। ১৯৬২ সালে চিন-ভারত যুদ্ধের সময় রাষ্ট্রীয় স্বয়ংসেবক সঙ্ঘকে নিষিদ্ধ করেছিল। সেই নিষেধাজ্ঞা কয়েক মাস পর প্রত্যাহার করা হলে ১৯৬৩-র প্রজাতন্ত্র দিবসের কুচকওয়াজে সঙ্ঘ অংশ নেয়। স্বাধীনতা আন্দোলনে আরএসএসের বিশাল অবদান রয়েছে।
এদিকে মুখ্যমন্ত্রীর তরফে যেভাবে এক্স পোস্টে ঘোষণা দিয়ে আরএসএসের কার্যক্রমে সরকারি পরিকাঠামো ব্যবহারে নিষেধাজ্ঞা জারির কথা বলা হয়েছে তা নিয়েও প্রশ্ন দেখা দিয়েছে সংশ্লিষ্ট সব মহলে। এমনকী কংগ্রেসের একাংশও মনে করছে এইভাবে একজন মন্ত্রীর ব্যক্তিগত প্রস্তাবের ভিত্তিতে সরকার সিদ্ধান্ত নিতে পারেনা। বিষয়টি কোন কমিটিকে পর্যালোচনা করতে বলা উচিত ছিল। রাজনৈতিক মহলের একাংশের বক্তব্য, সিদ্ধান্তটি আসলে ব্যক্তি সিদ্দারামাইয়ার। তিনিই মন্ত্রী প্রিয়াঙ্ককে চিঠি লেখার পরামর্শ দিয়েছিলেন। মুখ্যমন্ত্রীর গদি রক্ষায় আর এক নতুন চাল বলে অনেকে মনে করছেন। উপমুখ্যমন্ত্রী ডিকে শিবকুমারের সঙ্গে মুখ্যমন্ত্রিত্ব নিয়ে তাঁর বিবাদ চলছেই। আরএসএসের বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থান নিয়ে তিনি দলে এবং সরকারে পায়ের তলায় মাটি আরও শক্ত করতে চাইছেন বলে কংগ্রেসের একাংশ মনে করছে।
আরএসএস নেতৃত্ব অবশ্য এখনও পর্যন্ত কর্নাটক সরকারের সিদ্ধান্ত নিয়ে কোন প্রতিক্রিয়া দেয়নি। তবে সংগঠনের এক শীর্ষকর্তার বক্তব্য সঙ্ঘের নিজস্ব পরিকাঠামোই তাদের কর্মসূচি পালনের জন্য যথেষ্ট। সংগঠনের হাতেই পর্যাপ্ত পরিকাঠামো আছে। তবে সরকার নির্দেশিকা জারি করে তাদের সরকারি পরিকাঠামো ব্যবহারের সুযোগ থেকে বঞ্চিত করলে তারা আদালতের দারস্ত হবেন। কারণ আরএসএস কোনও নিষিদ্ধ সংগঠন নয়।