রবিবার দেশের প্রধান বিরোধী দল দাবি করেছে যে, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের চোখে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী এখন 'কেবল একজন নমনীয় ও দুর্বল ব্যক্তি'। অন্যদিকে পাকিস্তান একটি 'দালাল'-এর ভূমিকায় অবতীর্ণ হয়েছে। হাত-শিবিরের বক্তব্য, প্রধানমন্ত্রীর বিদেশ নীতি এক 'বিশাল ব্যর্থতা'-কেই ইঙ্গিত করে।

শেষ আপডেট: 29 March 2026 18:54
দ্য ওয়াল ব্যুরো: আরব দুনিয়ার চলতি পরিস্থিতির (Middle East crisis) পরিপ্রেক্ষিতে ভারতের বিদেশ নীতি নিয়ে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী (Narendra Modi Foreign policy)-কে নজিরবিহীন আক্রমণ শানাল কংগ্রেস (Congress dig at PM Modi)। রবিবার দেশের প্রধান বিরোধী দল দাবি করেছে যে, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের চোখে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী এখন 'কেবল একজন নমনীয় ও দুর্বল ব্যক্তি'। অন্যদিকে পাকিস্তান একটি 'দালাল'-এর ভূমিকায় অবতীর্ণ হয়েছে। হাত-শিবিরের বক্তব্য, প্রধানমন্ত্রীর বিদেশ নীতি এক 'বিশাল ব্যর্থতা'-কেই ইঙ্গিত করে।
কংগ্রেসের গণমাধ্যম বিষয়ক সাধারণ সম্পাদক তথা সাংসদ জয়রাম রমেশ রবিবার এক বিবৃতিতে প্রধানমন্ত্রীকে আরও কড়া ভাষায় আক্রমণ করেছেন। তিনি বলেছেন, বিদেশ নীতিতে বিশ্বগুরু এখন বিশ্ব ভণ্ডতে পর্যবসিত হয়েছেন। কংগ্রেস নেতার বক্তব্য, ব্যক্তিতান্ত্রিক বিদেশ নীতিই এই ব্যর্থতার কারণ।
প্রধানমন্ত্রী ও টিম মোদীর সদস্যরা অবশ্য এখন বিশ্বগুরু শব্দটি আর ব্যবহার করেন না। তারা ভারতকে এখন বিশ্বমিত্র হিসেবে তুলে ধরছে। কিন্তু আন্তর্জাতিক অস্থির পরিস্থিতিতে ভারত কোন ভূমিকা নিতে পারছে না বলে নানা মহল থেকেই অভিযোগ উঠতে শুরু করেছিল। কংগ্রেস নেতা রমেশ মূলত সেই অভিযোগকেই রবিবার আরও ধারালো করেছেন।
কংগ্রেস নেতার কথায়, প্রধানমন্ত্রী এখন নানাভাবে আমেরিকাকে তুষ্ট করার চেষ্টা করছেন। বছর চারেক আগে কেন্দ্রীয় সরকার সংসদে তিনটি কৃষি আইন পাশ করিয়ে তুমুল বিতর্কের মুখে পড়ে। কৃষকদের প্রতিবাদের মুখে আইন তিনটি প্রত্যাহার করে নিতে বাধ্য হয় কেন্দ্রীয় সরকার। স্বয়ং প্রধানমন্ত্রী আইন প্রত্যাহারের ঘোষণা করে বলেন, সরকার এগুলি প্রয়োজনীয়তা কৃষকদের বোঝাতে ব্যর্থ হয়েছে। সেই প্রসঙ্গ টেনে জয়রাম রমেশ বলেন তিন কৃষক আইন ও ছিল আমেরিকাকে যে খুশি করার প্রচেষ্টা।
এক্স পোস্টে রমেশ লিখেছেন 'প্রধানমন্ত্রীকে কেবল একজন নমনীয় ও সহজেই বশ মানার মতো ব্যক্তি হিসেবেই দেখা হয়।'
পশ্চিম এশিয়ার অস্থিরতা নিয়ে পাকিস্তান মধ্যস্থতার ভূমিকা পালন করছে। শনিবার থেকে ইসলামাবাদের শুরু হয়েছে বেশ কয়েকটি দেশের বিদেশ মন্ত্রীদের সম্মেলন। পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী এবং সেনাপ্রধান প্রকাশ্যেই মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র এবং ইরানকে প্রস্তাব দিয়েছে ইসলামাবাদে তারা শান্তি বৈঠকের আয়োজন করতে প্রস্তুত। চলতি পরিস্থিতির প্রেক্ষাপটে পাকিস্তানের এই কূটনৈতিক তৎপরতাকে আন্তর্জাতিক মহল বিশেষ গুরুত্ব দিচ্ছে।
কংগ্রেস নেতা রমেশ প্রশ্ন তুলেছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প, যিনি মোদীকে নিজের ‘ভাল বন্ধু’ বলে অভিহিত করেন, তিনি পাকিস্তানের চলতি তৎপরতা ও অবদানে বড় ভূমিকা রেখেছেন। রমেশের প্রশ্ন, হোয়াইট হাউসের সঙ্গে নিজের বিশেষ সম্পর্কের বড়াই করা সত্ত্বেও মোদী কেন এবং কীভাবে এমনটা ঘটতে দিলেন?