২৪, আকবর রোডের অফিস আগামী ২৮ মার্চের মধ্যে খালি করতে বলা হয়েছে। এই নির্দেশিকা জারি হতেই রাজনৈতিক উত্তাপ বাড়তে শুরু করেছে। কংগ্রেসের অভিযোগ, তাদের উপর চাপ সৃষ্টি করে দলকে চুপ করানোর চেষ্টা করছে বিজেপি নেতৃত্বাধীন কেন্দ্রীয় সরকার।

কংগ্রেসকে পুরনো দফতর ছাড়ার নোটিস কেন্দ্রের
শেষ আপডেট: 25 March 2026 13:23
দ্য ওয়াল ব্যুরো: দিল্লিতে দলের পুরনো দফতর ছাড়ার নোটিস (Congress Delhi office vacate notice) ঘিরে কেন্দ্রের বিরুদ্ধে তীব্র আক্রমণ শানাল কংগ্রেস। ২৪, আকবর রোডের অফিস আগামী ২৮ মার্চের মধ্যে খালি করতে বলা হয়েছে (Congress Akbar Road office controversy)। এই নির্দেশিকা জারি হতেই রাজনৈতিক উত্তাপ বাড়তে শুরু করেছে। কংগ্রেসের অভিযোগ (Congress reaction on office vacate notice), তাদের উপর চাপ সৃষ্টি করে দলকে চুপ করানোর চেষ্টা করছে বিজেপি নেতৃত্বাধীন কেন্দ্রীয় সরকার।
কংগ্রেসের লোকসভা সাংসদ ইমরান মাসুদ সরাসরি কেন্দ্রকে নিশানা (BJP Congress row) করে বলেন, সরকার মনে করছে চাপ সৃষ্টি করে কংগ্রেসকে স্তব্ধ করে দেওয়া যাবে। তবে তাঁরা ভয় পাচ্ছেন না বলেও স্পষ্ট বার্তা দেন তিনি।
তিনি প্রশ্ন তোলেন, “বিজেপির নিজেদের দফতর কি ১১, অশোক রোড বা পন্ত মার্গে রয়েছে?” একই সঙ্গে তাঁর দাবি, ইরান যুদ্ধের মতো গুরুত্বপূর্ণ ইস্যুতে কেন্দ্র কার্যত কিছু করতে পারেনি বলেই সেই বিষয় থেকে নজর ঘোরাতেই এই পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে।
এই ইস্যুতে সরব হয়েছেন কংগ্রেস সাংসদ প্রমোদ তিওয়ারি-ও। তাঁর কথায়, এই সরকার গণতান্ত্রিক নয়। তিনি বলেন, “এটা অত্যন্ত দুর্ভাগ্যজনক। আগে নোটিসটি আমাদের হাতে আসুক, তারপর আমরা আলোচনা করে পরবর্তী পদক্ষেপ নেব।”
উল্লেখ্য, দিল্লির ২৪ আকবর রোডে অবস্থিত এই দফতর প্রায় ৪৮ বছর ধরে কংগ্রেসের সদর দফতর হিসেবে ব্যবহৃত হয়ে আসছে। তবে গত বছর কোটলা মার্গে ‘ইন্দিরা ভবন’ নামে নতুন দফতর চালু করার পরেও পুরনো অফিস এখনও পুরোপুরি খালি করা হয়নি বলে জানা গিয়েছে।
প্রসঙ্গত, ২৩ মার্চ লোকসভায় ভাষণ দেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী। তারপর বিরোধী দলনেতা রাহুল গান্ধী প্রশ্ন তোলেন, সংসদে মোদীর আজকের ভাষণে কেন আমেরিকার নাম একবারও উল্লেখ করা হল না। তিনি আরও বলেন, “শুনেছি প্রধানমন্ত্রী ২৫ মিনিট কথা বলেছেন। কিন্তু আমি গ্যারান্টি দিচ্ছি, তিনি সংসদে বিতর্কে অংশ নিতে পারবেন না, কারণ তিনি আপস করে ফেলেছেন। ২৫ মিনিট ধরে বললেন, কিন্তু আমেরিকার বিরুদ্ধে একটি শব্দও বললেন না। প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী ১০০ শতাংশ ডোনাল্ড ট্রাম্পের নিয়ন্ত্রণে।”
শুধু কূটনীতি নয়, অর্থনৈতিক সিদ্ধান্ত এবং জনজাতি পরিচয় নিয়েও কেন্দ্রের তীব্র সমালোচনা করেন রাহুল।
পশ্চিম এশিয়ার সংঘাত যেমন আন্তর্জাতিক কূটনীতিতে প্রভাব ফেলছে, তেমনই তার রেশ পড়ছে দেশের অভ্যন্তরীণ রাজনীতিতেও। এই ইস্যুতে সরকার ও বিরোধী শিবিরের সংঘাত যে আরও বাড়বে, তা আন্দাজ করতে পারছিল রাজনীতি বিশেষজ্ঞ মহল। এই পরিস্থিতিতে অফিস খালি করার নোটিসকে কেন্দ্র করে রাজনৈতিক টানাপড়েন আরও বাড়তে পারে বলেই মনে করা হচ্ছে।