শহুরে জীবনে কমে আসছে ঘুমের সময়, বাড়ছে ‘কমপ্রেসড স্লিপ সাইকেল’-এর প্রবণতা। এই তালিকায় কলকাতা কত নম্বরে জানেন?
.jpeg.webp)
কনপ্রেসড স্লিপ সাইকেল (প্রতীকী ছবি)
শেষ আপডেট: 24 March 2026 13:58
দ্য ওয়াল ব্যুরো: শহুরে ভারতে (Urban India) ঘুম যেন এখন বিলাসিতা। রাতে দেরি করে শোওয়া, কম সময় ঘুম আর তার সঙ্গে খারাপ ঘুমের গুণগত মান—এই তিনের ফাঁদেই জড়িয়ে পড়ছেন সকলে। ক্রমাগত তাতেই বাড়ছে বিপদ! সাম্প্রতিক এক সমীক্ষায় (survey) উঠে এল উদ্বেগজনক ছবি।
পর্যাপ্ত ঘুম (adequate sleep) যে শরীরের জন্য কতটা জরুরি, তা নতুন করে বলার নয়। মস্তিষ্কের কাজ (brain function), মানসিক স্থিরতা (emotional stability) থেকে শারীরিক সুস্থতা—সব কিছুর সঙ্গেই সরাসরি জড়িত। টানা কয়েক দিন ঘুম কম হলে মনোযোগ কমে, সিদ্ধান্ত নেওয়ার ক্ষমতা ক্ষতিগ্রস্ত হয়। দীর্ঘমেয়াদে হৃদরোগ (heart disease), স্থূলতা (obesity), ডায়াবেটিস (diabetes), উদ্বেগ (anxiety) ও অবসাদের (depression) ঝুঁকিও বাড়ে।
এক বেসরকারি সংস্থার সমীক্ষা বলছে, শহুরে জীবনে ‘স্লিপ ক্রাইসিস’ (sleep crisis) বাড়ছে। অতিরিক্ত স্ক্রিন টাইম (screen time), অনিয়মিত রুটিন (irregular routines) আর কাজের চাপ (workplace fatigue) এই সমস্যার মূল কারণ।
শহরভিত্তিক রিপোর্টে চেন্নাই (Chennai) সবচেয়ে নিয়মিত ঘুমের শহর হিসেবে উঠে এসেছে। এখানে দেরি করে শোওয়া মাত্র ৪৮.৮ শতাংশ, দেরিতে ওঠার হার ২৩.৮ শতাংশ। তবে ৬১.৯ শতাংশ মানুষই ঘুম থেকে উঠে সতেজ বোধ করেন না। হায়দরাবাদ (Hyderabad) তুলনায় ‘ব্যালান্সড স্লিপার সিটি’, আর গুরুগ্রাম (Gurugram) ‘রেজিলিয়েন্ট স্লিপার সিটি’ হিসেবে জায়গা পেয়েছে।
বেঙ্গালুরুতে (Bengaluru) দেখা যাচ্ছে ‘স্লিপ প্যারাডক্স’(sleep paradox) রাতে দেরি করে শোওয়া আর সকালে ক্লান্ত লাগা। দিল্লিতে (Delhi) দেরিতে ওঠার হার সবচেয়ে বেশি, ৪৫ শতাংশ।
অন্যদিকে কলকাতা (Kolkata) কার্যত ‘লেট নাইট সিটি’—৭৫.৫ শতাংশ মানুষই দেরিতে শুতে যান। দেরিতেই ওঠেন। আর মুম্বই (Mumbai) সবচেয়ে ঘুমবঞ্চিত শহর, যেখানে ৬০ শতাংশ মানুষ অফিসে ঘুম পায় বলে জানিয়েছেন।
চিকিৎসকরা বলছেন, এই ঘুম কমে যাওয়া বা নষ্টের সবচেয়ে বড় কারণ মোবাইল ফোন (mobile phone) ব্যবহার। ৮৭.৬ শতাংশ মানুষই শোওয়ার আগে স্ক্রিনে সময় কাটান—সোশ্যাল মিডিয়া (social media), বিঞ্জ ওয়াচিং (binge-watching) বা অন্য কাজে।
সমীক্ষায় আরও দেখা গেছে, মাত্র ১২ শতাংশ মানুষ রাত ১০টার আগে শুতে যান। প্রায় ৬০ শতাংশ রাত ১১টার পর ঘুমোতে যান। আবার ২৯.১ শতাংশ ‘কমপ্রেসড স্লিপ সাইকেল’ (compressed sleep cycle)-এর শিকার—দেরিতে শোওয়া, ভোরে ওঠা, ফলে ঘুম মাত্র ৫-৬ ঘণ্টা।
বিশেষজ্ঞদের মতে, নিয়মিত ঘুমের সময় বজায় রাখা, রাতে স্ক্রিন কমানো, তাড়াতাড়ি রাতের খাবার খাওয়া এবং শান্ত পরিবেশে শোওয়া—এই কয়েকটি অভ্যাসই ঘুমের মান অনেকটা বাড়াতে পারে।