কেন্দ্রীয় সচিব জানিয়েছেন, অনেক রাজ্যই পিএনজি সংক্রান্ত কিছু অথবা সব সংস্কারমূলক পদক্ষেপ মেনেছে। এবং তারা বাড়তি ১০% সিলিন্ডারের জোগান পেয়েছে। এ বারে ওই মোট ৫০ শতাংশ জোগান আরও ২০% বাড়িয়ে ৭০ শতাংশে নিয়ে যাওয়ার সিদ্ধান্ত হয়েছে। এই বাড়তি জোগান পাবে বিভিন্ন শিল্প সংস্থা।

বাণিজ্যিক সিলিন্ডারগুলির জোগান বাড়ছে
শেষ আপডেট: 27 March 2026 23:07
দ্য ওয়াল ব্যুরো: শর্ত সাপেক্ষে রান্নার গ্যাসের বাণিজ্যিক সিলিন্ডারের (১৯, ৩৫, ৪৭.৫, ৪২৫ কেজি) জোগান বাড়াতে (Commercial LPG supply increasing) নির্দেশ দিল কেন্দ্র। শুক্রবার রাজ্য ও কেন্দ্রশাসিত অঞ্চলের মুখ্যসচিবদের পাঠানো চিঠিতে ওই গ্যাসের জোগান আরও ২০% বাড়ানোর কথা জানিয়েছেন কেন্দ্রীয় পেট্রোলিয়াম ও প্রাকৃতিক গ্যাস মন্ত্রকের সচিব নীরজ মিত্তল। সে ক্ষেত্রে কোন ধরনের শিল্প সংস্থা অগ্রাধিকার পাবে, তাও বলে দিয়েছেন তাঁরা।
ইরান-যুদ্ধের জেরে গৃহস্থের হেঁশেলের জোগানে রাশ না টানলেও কেন্দ্রের নির্দেশে বাণিজ্যিক সিলিন্ডারগুলির জোগান নিয়ত্রণ করতে শুরু করে তেল সংস্থাগুলি। মিড ডে মিল, স্কুল, হাসপাতাল, ওযুধ শিল্প, প্রতিরক্ষা ক্ষেত্র, হোটেল-রেস্তরাঁর মতো একান্ত জরুরি ক্ষেত্রগুলিকে সেই গ্যাস জোগানে অগ্রাধিকার দেওয়া হয়। সেই সঙ্গে হোটেল-রেস্তোরাঁর একাংশও অল্প কিছু জোগান পায়। এরপর ধাপে ধাপে তা যুদ্ধের আগের সময়ের মোট জোগানের ৪০ শতাংশে নিয়ে যাওয়া হয়। এরপর সরকার জানায়, পাইপে জোগানো প্রাকৃতিক গ্যাসের (পিএনজি/ PNG) সংযোগ নেওয়ার জন্য সংশ্লিষ্ট বাণিজ্যিক সিলিন্ডার ব্যবহারকারীদের আবেদন নিতে হেব। সে ক্ষেত্রে ওই সব সিলিন্ডারের জোগান আরও ১০% বাড়বে।

এ দিন কেন্দ্রীয় সচিব জানিয়েছেন, অনেক রাজ্যই পিএনজি সংক্রান্ত কিছু অথবা সব সংস্কারমূলক পদক্ষেপ মেনেছে। এবং তারা বাড়তি ১০% সিলিন্ডারের জোগান পেয়েছে। এ বারে ওই মোট ৫০ শতাংশ জোগান আরও ২০% বাড়িয়ে ৭০ শতাংশে নিয়ে যাওয়ার সিদ্ধান্ত হয়েছে। এই বাড়তি জোগান পাবে বিভিন্ন শিল্প সংস্থা। যেমন – ইস্পাত, গাড়ি, বস্ত্র, ডাই, রাসায়নিক প্লাস্টিক, যেগুলিতে কর্মসংস্থান বেশি। এর মধ্যে প্রক্রিয়াকরণ ক্ষেত্রে যুক্ত শিল্প সংস্থা বা যাদের বিশেষ মাত্রার তাপ উৎপাদনের জন্য এলপিজি প্রয়োজন হয় এবং যে শিল্পোৎপাদন প্রক্রিয়ায় কখনওই প্রাকৃতিক জ্ব্লানী হিসাবে বিকল্প হতে পারে না, সেগুলি এই বাড়তি বরাতের ক্ষেত্রে অগ্রাধিকার পাবে।
ইন্ডেন এলপিজি ডিস্ট্রিবিউটরদের সংগঠনের মুখপাত্র বিজনবিহারী বিশ্বাস এ দিন বলেন, “এই নির্দেশের কথা আমাদের এ দিন খাদ্য দফতরের কর্তারা জানান। সঙ্কট শুরু হওয়ার আগে বাণিজ্যিক সিলিন্ডারের যতটা জোগান ছিল, এ ভাবে ধীরে ধীরে ফের সেই বরাতের কাছাকাছি পৌঁছতে পারলে আগামী দিনে অনেকটাই উপকৃত হবে সংশ্লিষ্ট গ্রাহকেরা। গ্যাসের জোগান নিয়ে আতঙ্কের সৃষ্টি হয়েছে, তা-ও কমবে।”
প্রসঙ্গত, রান্নার গ্যাসের বাণিজ্যিক সিলিন্ডারের জোগান নিয়ন্ত্রিত হওয়ায় সমস্যায় পড়েছে আর এক কর্মসংস্থানমুখী ব্যবসা ক্ষেত্র- হোটেল ও রেস্তোরাঁ। বিশেষ করে ছোট হোটেল ও রেস্তরাঁর অনেকগুলিই সাময়িক বন্ধ হয়েছে। অনেক জায়গাতেই আবার রোলের মতো দ্রুত তৈরি করা খাবার রান্নার বন্ধ। তবে পূ্র্বাঞ্চলের হোটেল-রেস্তোরাঁগুলির সংগঠন এইচআরএইআইয়ের প্রেসিডেন্ট সুদেশ পোদ্দার তাঁদের ব্যবসার পরিস্থিতি বা গ্যাসের জোগান নিয়ে কোনও মন্তব্য করতে চাননি।